টিকা অব্যবস্থাপনার তদন্ত হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:৪০:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
- / 23
দেশে টিকা ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনা হয়েছে কি না, তা নিয়ে তদন্তের বিষয়টি এখনই নয়—সংকট পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার টিকার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে সরকারের অগ্রাধিকার হলো শিশুদের জীবন রক্ষা এবং চলমান স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলা করা। তার ভাষায়, “এখন আমরা সংকটকাল পার করছি, পরে বিষয়টি দেখা হবে।”
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার নিয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে। ৪০০–এর বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত ও উপসর্গ মিলিয়ে সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। টিকা ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি এবং সময়মতো টিকা না পাওয়াকে এই পরিস্থিতির একটি কারণ হিসেবে বিভিন্ন মহল থেকে উল্লেখ করা হচ্ছে।
এ নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন এবং আইনজীবীদের পক্ষ থেকে দায় নির্ধারণ ও বিচারের দাবিও উঠেছে। রাজধানীতে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে।
তবে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দোষ খোঁজার চেয়ে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা ও সুরক্ষাই বেশি জরুরি। তিনি জানান, হাসপাতালে আইসোলেশন, আইসিইউ এবং জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, হামের কারণে জটিল রোগ যেমন নিউমোনিয়া বাড়ছে, তাই ভেন্টিলেশনসহ চিকিৎসা সহায়তা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেসরকারি উদ্যোগে অতিরিক্ত ভেন্টিলেটর পাওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
টিকা সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী জানান, নতুন করে বিপুল পরিমাণ ভ্যাকসিন দেশে এসেছে এবং পোলিও ও অ্যান্টি-র্যাবিস টিকাদান কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। ভিটামিন এ ক্যাপসুলের কিছু ঘাটতি থাকলেও আগামী জুনের মধ্যে তা পূরণ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে, টিকা না পাওয়া শিশুদের চিহ্নিত করে দ্রুত টিকার আওতায় আনা এবং নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত রাখা।
সব মিলিয়ে, সংকট মোকাবিলাকেই এখন মূল অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, আর তদন্তের প্রশ্নটি আপাতত ভবিষ্যতের জন্য স্থগিত রয়েছে।































