ঢাকা ০৬:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০৩৪ সালে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির আশা

অর্থনৈতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:৫৪:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / 20

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের বার্ষিক মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হবে বলে প্রত্যাশা করেছেন তিনি। এ লক্ষ্য অর্জনে জাপানি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাপানের রাজধানী টোকিওতে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) কার্যালয়ে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক ফোরাম ডায়ালগ’-এ মূল বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেন, ১৮ কোটির বেশি মানুষের বিশাল বাজার ও তরুণ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির বড় শক্তি। এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদার করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির (ইপিএ) প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৩৭টি পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। এতে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাপানি বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ নিরসনে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ, উন্নত অবকাঠামো এবং সহজ কাস্টমস ও করব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চলের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান নবায়নযোগ্য জ্বালানি, দক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং ও রোবোটিকস খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশ-জাপান প্রযুক্তি পার্ক প্রতিষ্ঠা, মহাকাশবিজ্ঞান ও উপগ্রহ প্রকৌশলে সহযোগিতা এবং ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করতে এলিভেটেড হাইওয়ে ও উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনায় জাপানের সহায়তা চান তিনি।

বাংলাদেশি তরুণদের জাপানি ভাষায় দক্ষ করে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, ভাষাগত দক্ষতা দুই দেশের ব্যবসায়িক যোগাযোগ, কর্মসংস্থান ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বাড়াতে সহায়ক হবে।

বক্তব্যে জাপানকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে অভিহিত করে তারেক রহমান দেশটিকে বাংলাদেশে নতুন শিল্প স্থাপন ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

২০৩৪ সালে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির আশা

সর্বশেষ আপডেট ০৩:৫৪:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের বার্ষিক মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হবে বলে প্রত্যাশা করেছেন তিনি। এ লক্ষ্য অর্জনে জাপানি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাপানের রাজধানী টোকিওতে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) কার্যালয়ে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক ফোরাম ডায়ালগ’-এ মূল বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেন, ১৮ কোটির বেশি মানুষের বিশাল বাজার ও তরুণ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির বড় শক্তি। এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদার করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির (ইপিএ) প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৩৭টি পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। এতে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাপানি বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ নিরসনে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ, উন্নত অবকাঠামো এবং সহজ কাস্টমস ও করব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চলের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান নবায়নযোগ্য জ্বালানি, দক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং ও রোবোটিকস খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশ-জাপান প্রযুক্তি পার্ক প্রতিষ্ঠা, মহাকাশবিজ্ঞান ও উপগ্রহ প্রকৌশলে সহযোগিতা এবং ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করতে এলিভেটেড হাইওয়ে ও উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনায় জাপানের সহায়তা চান তিনি।

বাংলাদেশি তরুণদের জাপানি ভাষায় দক্ষ করে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, ভাষাগত দক্ষতা দুই দেশের ব্যবসায়িক যোগাযোগ, কর্মসংস্থান ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বাড়াতে সহায়ক হবে।

বক্তব্যে জাপানকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে অভিহিত করে তারেক রহমান দেশটিকে বাংলাদেশে নতুন শিল্প স্থাপন ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।