ঢাকা ০৬:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুকরি-মুকরিতে সড়ক নির্মাণে রডের বদলে লোহার নেট

নিজস্ব প্রতিবেদক, চরফ্যাশন (ভোলা)
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:২৪:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • / 10

কুকরি-মুকরিতে সড়ক নির্মাণে রডের বদলে লোহার নেট

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ইউনিয়ন চর কুকরি-মুকরির ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডে সড়ক নির্মাণে রডের পরিবর্তে লোহার নেট বা তারের জাল ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক নির্মাণে সরকারি বিধিমালা উপেক্ষা করে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

চর কুকরি-মুকরি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র থেকে মনুরা বাজার পর্যন্ত নির্মাণাধীন সড়কটি দুই ওয়ার্ডের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের ঢালাই কাজে নির্ধারিত রড ব্যবহার না করে তুলনামূলক সস্তা লোহার নেট বিছিয়ে তার ওপর কংক্রিট ঢালাই দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজে নিয়মিত তদারকি থাকার কথা থাকলেও মাঠপর্যায়ে পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অনিয়মের সুযোগ পাচ্ছে।

সড়ক নির্মাণ প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় প্রায় ২ কোটি ১৩ লাখ টাকা। দরপত্রের মাধ্যমে কাজটির কার্যাদেশ পেয়েছে ভোলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ছাদিকা আফিয়া ইসলাম।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাজারো মানুষের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই সড়ক। এর মাধ্যমে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার পাশাপাশি মনুরা বাজারে যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য ও মাছ পরিবহন করা হয়।

তাদের দাবি, সড়কটির অবস্থান কুকরির ছোট খালসংলগ্ন নিচু উপকূলীয় এলাকায়। ফলে জোয়ার-ভাটার পানি এবং নোনা পানির প্রভাবে সড়কটি নিয়মিত ক্ষতির ঝুঁকিতে থাকে। এ অবস্থায় নির্ধারিত রডের পরিবর্তে শুধু লোহার নেট ব্যবহার করে ঢালাই দেওয়া হলে সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হবে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর এলাকায় একটি পাকা সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু নির্মাণকাজে রডের পরিবর্তে তারের জাল ব্যবহার করা হলে সরকারের অর্থ ব্যয়ের পরও টেকসই সড়ক পাওয়া যাবে না। তারা দ্রুত অনিয়ম বন্ধ করে প্রকল্পের নির্ধারিত নকশা ও শিডিউল অনুযায়ী কাজ করার দাবি জানান।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইট ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি অভিযোগের বিষয়ে সন্তোষজনক কোনো বক্তব্য দিতে পারেননি।

তবে এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের তদারকি কর্মকর্তা (এসএই) মো. কিবরিয়া বলেন, সড়ক নির্মাণের কাজ শিডিউল অনুযায়ীই করা হচ্ছে। শিডিউলের বাইরে কোনো উপকরণ ব্যবহারের সুযোগ নেই।

স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরেজমিনে পরিদর্শন ও নির্মাণকাজের উপকরণ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

কুকরি-মুকরিতে সড়ক নির্মাণে রডের বদলে লোহার নেট

সর্বশেষ আপডেট ০৩:২৪:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ইউনিয়ন চর কুকরি-মুকরির ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডে সড়ক নির্মাণে রডের পরিবর্তে লোহার নেট বা তারের জাল ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক নির্মাণে সরকারি বিধিমালা উপেক্ষা করে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

চর কুকরি-মুকরি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র থেকে মনুরা বাজার পর্যন্ত নির্মাণাধীন সড়কটি দুই ওয়ার্ডের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের ঢালাই কাজে নির্ধারিত রড ব্যবহার না করে তুলনামূলক সস্তা লোহার নেট বিছিয়ে তার ওপর কংক্রিট ঢালাই দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজে নিয়মিত তদারকি থাকার কথা থাকলেও মাঠপর্যায়ে পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অনিয়মের সুযোগ পাচ্ছে।

সড়ক নির্মাণ প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় প্রায় ২ কোটি ১৩ লাখ টাকা। দরপত্রের মাধ্যমে কাজটির কার্যাদেশ পেয়েছে ভোলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ছাদিকা আফিয়া ইসলাম।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাজারো মানুষের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই সড়ক। এর মাধ্যমে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার পাশাপাশি মনুরা বাজারে যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য ও মাছ পরিবহন করা হয়।

তাদের দাবি, সড়কটির অবস্থান কুকরির ছোট খালসংলগ্ন নিচু উপকূলীয় এলাকায়। ফলে জোয়ার-ভাটার পানি এবং নোনা পানির প্রভাবে সড়কটি নিয়মিত ক্ষতির ঝুঁকিতে থাকে। এ অবস্থায় নির্ধারিত রডের পরিবর্তে শুধু লোহার নেট ব্যবহার করে ঢালাই দেওয়া হলে সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হবে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর এলাকায় একটি পাকা সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু নির্মাণকাজে রডের পরিবর্তে তারের জাল ব্যবহার করা হলে সরকারের অর্থ ব্যয়ের পরও টেকসই সড়ক পাওয়া যাবে না। তারা দ্রুত অনিয়ম বন্ধ করে প্রকল্পের নির্ধারিত নকশা ও শিডিউল অনুযায়ী কাজ করার দাবি জানান।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইট ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি অভিযোগের বিষয়ে সন্তোষজনক কোনো বক্তব্য দিতে পারেননি।

তবে এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের তদারকি কর্মকর্তা (এসএই) মো. কিবরিয়া বলেন, সড়ক নির্মাণের কাজ শিডিউল অনুযায়ীই করা হচ্ছে। শিডিউলের বাইরে কোনো উপকরণ ব্যবহারের সুযোগ নেই।

স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরেজমিনে পরিদর্শন ও নির্মাণকাজের উপকরণ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।