টেক্সটাইল খাতে গবেষণা ও প্রযুক্তিতে জোর দেবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী
- সর্বশেষ আপডেট ০২:০৬:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
- / 16
দেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আরও শক্ত অবস্থানে নিতে গবেষণা, উদ্ভাবন, আধুনিক প্রযুক্তি এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বুধবার বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইলস (বুটেক্স)-এর নবাগত শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, টেক্সটাইল খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি। এই খাতের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে দক্ষ প্রকৌশলী, গবেষক এবং উদ্ভাবনী নেতৃত্ব তৈরির ওপর।
মন্ত্রী বলেন, বুটেক্সে ভর্তি হওয়া কোনো বিকল্প নয়; বরং এখানকার শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে দেশের শিল্প ও অর্থনীতিতে নেতৃত্ব দেবে। তিনি জানান, চলতি বছর বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী বিসিএসের বিভিন্ন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। পাশাপাশি বুটেক্সের অনেক সাবেক শিক্ষার্থী দেশ-বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। তবে শুধু উৎপাদন নয়, আন্তর্জাতিক মানের নিজস্ব ব্র্যান্ড গড়ে তুলতেও গুরুত্ব দিতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে গবেষণা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।
টেক্সটাইল শিক্ষায় আধুনিক গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর গবেষণাগারসহ উন্নত ল্যাব স্থাপন সময়ের দাবি। এ ধরনের গবেষণা অবকাঠামো গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো সম্প্রসারণের প্রয়োজন হলে সরকার নতুন ভবন নির্মাণ করবে। বর্তমানে বছরে প্রায় ৬৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও ভবিষ্যতে শিল্পের চাহিদা বিবেচনায় আসনসংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
দেশীয় দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, একসময় দেশের টেক্সটাইল শিল্পে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের ওপর নির্ভরতা ছিল বেশি। এখন বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের সেই জায়গা দখল করতে হবে, কারণ দেশের শিক্ষার্থীরা মেধায় কারও থেকে পিছিয়ে নেই।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, সরকার প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মিড-ডে মিল, ইউনিফর্ম, খেলাধুলাভিত্তিক শিক্ষা এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণ। পাশাপাশি ২০২৭ সালে পরিমার্জিত এবং ২০২৮ সালে নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।
সেশনজট কমানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এসএসসি, এইচএসসি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক শিক্ষা শেষ করতে হবে, যাতে দেশের জনমিতিক সুবিধাকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যায়।
ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে সরকার দুটি বিশেষায়িত সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে দ্বিতীয় বুটেক্স ক্যাম্পাস স্থাপনের জন্য জমি বরাদ্দের আবেদন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে। একই সঙ্গে টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের জন্য পৃথক বিসিএস ক্যাডার গঠনের দাবিও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে।
অনুষ্ঠানে বুটেক্সের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিনসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




















