ঢাকা ০৮:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চরফ্যাশনে মৎস্য অভয়াশ্রমে নতুন সম্ভাবনা

শিপুফরাজী, চরফ্যাশন
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:৪৩:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
  • / 7

ভোলার চরফ্যাশনে একটি নিরাপদ ও পরিকল্পিত মৎস্য অভয়াশ্রম গড়ে ওঠায় স্থানীয় জলজ সম্পদ সংরক্ষণ ও মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তি ও স্থানীয় অংশগ্রহণের সমন্বয়ে নেওয়া এই উদ্যোগকে অনেকেই টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনার একটি পরীক্ষামূলক মডেল হিসেবে দেখছেন।

চরফ্যাশন উপজেলার আসলামপুর ইউনিয়নের বেতুয়া খালে পরিবার উন্নয়ন সংস্থা (এফডিএ) একটি সুরক্ষিত মৎস্য অভয়াশ্রম তৈরি করেছে। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর সহায়তায় পরিচালিত এই প্রকল্পে লক্ষ্য রাখা হয়েছে দেশীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও নিরাপদ বৃদ্ধি নিশ্চিত করা। দূষণ ও নির্বিচার আহরণের কারণে যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তা কিছুটা হলেও কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে এখানে।

এই অভয়াশ্রমে মাছ ধরায় কড়াকড়ি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক উপকরণ ব্যবহার করে মাছের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, যাতে দেশীয় প্রজাতিগুলো নির্বিঘ্নে বংশবিস্তার করতে পারে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে, যার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চলছে। এতে অবৈধ প্রবেশ ও মাছ শিকারের ঘটনা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

স্থানীয় জেলে শাজাহান মিয়া ও সেলিম মিয়া জানান, আগে নিয়ম-কানুন না জানার কারণে অনেক সমস্যায় পড়তে হতো। এখন অভয়াশ্রম থাকায় মাছের সংখ্যা বাড়বে এবং ভবিষ্যতে জীবিকা আরও স্থিতিশীল হবে—এমন আশা তাদের মধ্যে রয়েছে।

এফডিএ’র মৎস্য কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সাইদুর রহমান বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও নজরদারির কারণে অভয়াশ্রমটি কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে। অবৈধ আহরণ নিয়ন্ত্রণে থাকায় মাছের প্রজনন পরিবেশ তুলনামূলকভাবে নিরাপদ হয়েছে।

সংস্থাটির সিনিয়র প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী শংকর চন্দ্র দেবনাথ মনে করেন, শুধু অবকাঠামো নয়, স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণই এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিচ্ছে। জেলে ও স্থানীয় জনগণ এখন নিজেরাই সম্পদ রক্ষায় আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

এফডিএ’র নির্বাহী পরিচালক মো. কামাল উদ্দিন বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই মৎস্য ব্যবস্থাপনা দেশের জলজ সম্পদ সংরক্ষণে একটি নতুন দিক নির্দেশ করতে পারে। ভবিষ্যতে এমন উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

চরফ্যাশন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু জানান, বৈজ্ঞানিকভাবে পরিচালিত এই ধরনের অভয়াশ্রম স্থানীয় মৎস্য উৎপাদন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় থাকলে এর সুফল আরও বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

চরফ্যাশনে মৎস্য অভয়াশ্রমে নতুন সম্ভাবনা

সর্বশেষ আপডেট ০৬:৪৩:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

ভোলার চরফ্যাশনে একটি নিরাপদ ও পরিকল্পিত মৎস্য অভয়াশ্রম গড়ে ওঠায় স্থানীয় জলজ সম্পদ সংরক্ষণ ও মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তি ও স্থানীয় অংশগ্রহণের সমন্বয়ে নেওয়া এই উদ্যোগকে অনেকেই টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনার একটি পরীক্ষামূলক মডেল হিসেবে দেখছেন।

চরফ্যাশন উপজেলার আসলামপুর ইউনিয়নের বেতুয়া খালে পরিবার উন্নয়ন সংস্থা (এফডিএ) একটি সুরক্ষিত মৎস্য অভয়াশ্রম তৈরি করেছে। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর সহায়তায় পরিচালিত এই প্রকল্পে লক্ষ্য রাখা হয়েছে দেশীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও নিরাপদ বৃদ্ধি নিশ্চিত করা। দূষণ ও নির্বিচার আহরণের কারণে যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তা কিছুটা হলেও কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে এখানে।

এই অভয়াশ্রমে মাছ ধরায় কড়াকড়ি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক উপকরণ ব্যবহার করে মাছের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, যাতে দেশীয় প্রজাতিগুলো নির্বিঘ্নে বংশবিস্তার করতে পারে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে, যার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চলছে। এতে অবৈধ প্রবেশ ও মাছ শিকারের ঘটনা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

স্থানীয় জেলে শাজাহান মিয়া ও সেলিম মিয়া জানান, আগে নিয়ম-কানুন না জানার কারণে অনেক সমস্যায় পড়তে হতো। এখন অভয়াশ্রম থাকায় মাছের সংখ্যা বাড়বে এবং ভবিষ্যতে জীবিকা আরও স্থিতিশীল হবে—এমন আশা তাদের মধ্যে রয়েছে।

এফডিএ’র মৎস্য কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সাইদুর রহমান বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও নজরদারির কারণে অভয়াশ্রমটি কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে। অবৈধ আহরণ নিয়ন্ত্রণে থাকায় মাছের প্রজনন পরিবেশ তুলনামূলকভাবে নিরাপদ হয়েছে।

সংস্থাটির সিনিয়র প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী শংকর চন্দ্র দেবনাথ মনে করেন, শুধু অবকাঠামো নয়, স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণই এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিচ্ছে। জেলে ও স্থানীয় জনগণ এখন নিজেরাই সম্পদ রক্ষায় আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

এফডিএ’র নির্বাহী পরিচালক মো. কামাল উদ্দিন বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই মৎস্য ব্যবস্থাপনা দেশের জলজ সম্পদ সংরক্ষণে একটি নতুন দিক নির্দেশ করতে পারে। ভবিষ্যতে এমন উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

চরফ্যাশন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু জানান, বৈজ্ঞানিকভাবে পরিচালিত এই ধরনের অভয়াশ্রম স্থানীয় মৎস্য উৎপাদন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় থাকলে এর সুফল আরও বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।