দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, গ্যাস অনুসন্ধান বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের জন্য ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় এ ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতের ভুল নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও আমদানিনির্ভরতার কারণে জ্বালানি খাত গভীর সংকটে পড়েছে। এলএনজি ও জ্বালানি তেল আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি হলেও দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, তেল পরিশোধন ও মজুদ সক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল, ডিজেল ও এলএনজির দাম বেড়েছে। তবু সাধারণ মানুষের স্বার্থে সরকার বিপুল ভর্তুকি দিয়েছে এবং জ্বালানি তেলের দাম সীমিত পরিসরে সমন্বয় করেছে। গ্যাসের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে এবং সরবরাহও স্বাভাবিক রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সমুদ্র এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়াতে উৎপাদন অংশীদারিত্ব চুক্তি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি আমদানিতে একক উৎসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বহুমুখীকরণ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, মহেশখালীতে নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের বিষয়টি পর্যালোচনায় রয়েছে। মাতারবাড়িতে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ ও পরামর্শক নিয়োগের কাজও চূড়ান্ত পর্যায়ে।
এ ছাড়া ৬০১ দশমিক ৫০ কিলোমিটার জ্বালানি তেল পাইপলাইনের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা, সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং চালু এবং চট্টগ্রাম উপকূলীয় শিল্পাঞ্চলে ধাপে ধাপে ৫০ লাখ মেট্রিক টন সক্ষমতার নতুন অপরিশোধিত তেল শোধনাগার নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।