ঢাকা ০১:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমেরিকার বৈষম্য ও আয়োজক যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন মামদানির

অন্তার্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৩৭:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
  • / 95

ট্রাম্প প্রশাসনের আচরণে ক্ষুব্ধ মামদানি

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর আগেই আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত রাজনৈতিক নীতি এবং অংশগ্রহণকারী দলগুলোর প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের চরম বৈষম্যমূলক আচরণ নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে টুর্নামেন্টে অংশ নিতে যাওয়া মুসলিম দেশগুলোর দল, খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের ভিসা প্রদানে বাধা এবং মার্কিন পুলিশের অপমানজনক আচরণের বিরুদ্ধে এবার খোদ আমেরিকার ভেতর থেকেই তীব্র প্রতিবাদ উঠেছে। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) নিউইয়র্কের প্রভাবশালী মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানি ট্রাম্প প্রশাসনের এই সংকীর্ণ ও বৈষম্যমূলক নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের একপেশে নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে এবং ইরান জাতীয় ফুটবল দলের পক্ষে অবস্থান নিয়ে মেয়র মামদানি প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘একটি স্বাধীন ও যোগ্য দলকে (ইরান) বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের মতো একটি বৈশ্বিক মঞ্চে আসার জন্য মাত্র এক দিনের বা অত্যন্ত সীমিত মেয়াদের ভিসা দেওয়া কোনোভাবেই ফুটবল বিশ্বকাপের মূল চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়’।

বিশ্বকাপ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু না হলেও, মার্কিন সরকারের নানা প্রতিবন্ধকতা ও অপমানজনক আচরণের গুরুতর অভিযোগে পুরো আয়োজনটি আন্তর্জাতিক মহলে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে এবং ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম প্রধান প্রধান আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

ইরানি গণমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে জানা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসন অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ইরানি প্রতিনিধিদলের অন্তত ১৫ জন গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসাই দেয়নি। এর পাশাপাশি দলটির পূর্বনির্ধারিত প্রশিক্ষণ শিবির (ক্যাম্প) বাতিল করা এবং ফুটবলারদের জন্য নজিরবিহীনভাবে অত্যন্ত স্বল্পমেয়াদি ও দৈনিক ভিসা দেওয়ার মতো কিছু বিতর্কিত পদক্ষেপ নিয়েছে, যা ইতিমধ্যেই তীব্র আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।

কেবল ইরানই নয়, ট্রাম্প প্রশাসনের এই মুসলিমবিদ্বেষী আচরণের শিকার হয়েছে আরও বেশ কয়েকটি দেশ। ইরাক জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান তারকা খেলোয়াড় আয়মেন হুসাইনকে আমেরিকার শিকাগো বিমানবন্দরে নামার পর দীর্ঘ সাত ঘণ্টা আটকে রেখে জেরা করা হয়।

এ ছাড়া ইরাক দলের সঙ্গে আসা একজন পেশাদার আলোকচিত্রীকে (ফটোগ্রাফার) প্রায় ১২ ঘণ্টা বিমানবন্দরে ডিটেনশনে বা আটকে রেখে পরবর্তীতে নিজ দেশে ফেরত পাঠায় মার্কিন অভিবাসন বিভাগ। একই সাথে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা একজন সোমালি রেফারিকে আমেরিকার মাটিতে প্রবেশ করতে সরাসরি বাধা দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন সরকারের এমন নগ্ন হস্তক্ষেপের এখানেই শেষ নয়। টুর্নামেন্টে অংশ নিতে আসা সেনেগাল এবং উজবেকিস্তান জাতীয় দলের অফিশিয়াল বহরের সঙ্গে মার্কিন পুলিশের অত্যন্ত অশালীন ও অপমানজনক আচরণের খবর সামনে এসেছে, যা আন্তর্জাতিক ফুটবল কূটনীতিতে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টির নিকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই সব সংবেদনশীল বিষয় তুলে ধরে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পেশাদার ক্রীড়া সাংবাদিকদের ভিসা না দেওয়া, দলের প্রধান কোচিং স্টাফদের ভিসা প্রদানে অস্বীকৃতি জানানো এবং একটি জাতীয় দলকে শুধুমাত্র দৈনিক বা নামমাত্র মেয়াদের ভিসা দেওয়া বিশ্ব ফুটবলের উদার ও বৈশ্বিক আদর্শের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

তিনি অত্যন্ত জোরালো ভাষায় সতর্ক করে বলেন যে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই ধরনের প্রকাশ্য ও বৈষম্যমূলক পদক্ষেপগুলো এমন একটি বিশ্বজনীন টুর্নামেন্টের মূল ভিত্তিকেই ধ্বংস করে দিচ্ছে, যার মূল আদর্শই হলো বিশ্বের প্রতিটি দলের সমান সুযোগ, সমানভাবে অংশগ্রহণ ও সুস্থ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আমেরিকার বৈষম্য ও আয়োজক যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন মামদানির

সর্বশেষ আপডেট ১২:৩৭:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর আগেই আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত রাজনৈতিক নীতি এবং অংশগ্রহণকারী দলগুলোর প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের চরম বৈষম্যমূলক আচরণ নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে টুর্নামেন্টে অংশ নিতে যাওয়া মুসলিম দেশগুলোর দল, খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের ভিসা প্রদানে বাধা এবং মার্কিন পুলিশের অপমানজনক আচরণের বিরুদ্ধে এবার খোদ আমেরিকার ভেতর থেকেই তীব্র প্রতিবাদ উঠেছে। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) নিউইয়র্কের প্রভাবশালী মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানি ট্রাম্প প্রশাসনের এই সংকীর্ণ ও বৈষম্যমূলক নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের একপেশে নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে এবং ইরান জাতীয় ফুটবল দলের পক্ষে অবস্থান নিয়ে মেয়র মামদানি প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘একটি স্বাধীন ও যোগ্য দলকে (ইরান) বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের মতো একটি বৈশ্বিক মঞ্চে আসার জন্য মাত্র এক দিনের বা অত্যন্ত সীমিত মেয়াদের ভিসা দেওয়া কোনোভাবেই ফুটবল বিশ্বকাপের মূল চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়’।

বিশ্বকাপ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু না হলেও, মার্কিন সরকারের নানা প্রতিবন্ধকতা ও অপমানজনক আচরণের গুরুতর অভিযোগে পুরো আয়োজনটি আন্তর্জাতিক মহলে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে এবং ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম প্রধান প্রধান আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

ইরানি গণমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে জানা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসন অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ইরানি প্রতিনিধিদলের অন্তত ১৫ জন গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসাই দেয়নি। এর পাশাপাশি দলটির পূর্বনির্ধারিত প্রশিক্ষণ শিবির (ক্যাম্প) বাতিল করা এবং ফুটবলারদের জন্য নজিরবিহীনভাবে অত্যন্ত স্বল্পমেয়াদি ও দৈনিক ভিসা দেওয়ার মতো কিছু বিতর্কিত পদক্ষেপ নিয়েছে, যা ইতিমধ্যেই তীব্র আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।

কেবল ইরানই নয়, ট্রাম্প প্রশাসনের এই মুসলিমবিদ্বেষী আচরণের শিকার হয়েছে আরও বেশ কয়েকটি দেশ। ইরাক জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান তারকা খেলোয়াড় আয়মেন হুসাইনকে আমেরিকার শিকাগো বিমানবন্দরে নামার পর দীর্ঘ সাত ঘণ্টা আটকে রেখে জেরা করা হয়।

এ ছাড়া ইরাক দলের সঙ্গে আসা একজন পেশাদার আলোকচিত্রীকে (ফটোগ্রাফার) প্রায় ১২ ঘণ্টা বিমানবন্দরে ডিটেনশনে বা আটকে রেখে পরবর্তীতে নিজ দেশে ফেরত পাঠায় মার্কিন অভিবাসন বিভাগ। একই সাথে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা একজন সোমালি রেফারিকে আমেরিকার মাটিতে প্রবেশ করতে সরাসরি বাধা দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন সরকারের এমন নগ্ন হস্তক্ষেপের এখানেই শেষ নয়। টুর্নামেন্টে অংশ নিতে আসা সেনেগাল এবং উজবেকিস্তান জাতীয় দলের অফিশিয়াল বহরের সঙ্গে মার্কিন পুলিশের অত্যন্ত অশালীন ও অপমানজনক আচরণের খবর সামনে এসেছে, যা আন্তর্জাতিক ফুটবল কূটনীতিতে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টির নিকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই সব সংবেদনশীল বিষয় তুলে ধরে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পেশাদার ক্রীড়া সাংবাদিকদের ভিসা না দেওয়া, দলের প্রধান কোচিং স্টাফদের ভিসা প্রদানে অস্বীকৃতি জানানো এবং একটি জাতীয় দলকে শুধুমাত্র দৈনিক বা নামমাত্র মেয়াদের ভিসা দেওয়া বিশ্ব ফুটবলের উদার ও বৈশ্বিক আদর্শের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

তিনি অত্যন্ত জোরালো ভাষায় সতর্ক করে বলেন যে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই ধরনের প্রকাশ্য ও বৈষম্যমূলক পদক্ষেপগুলো এমন একটি বিশ্বজনীন টুর্নামেন্টের মূল ভিত্তিকেই ধ্বংস করে দিচ্ছে, যার মূল আদর্শই হলো বিশ্বের প্রতিটি দলের সমান সুযোগ, সমানভাবে অংশগ্রহণ ও সুস্থ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা।