ঢাকা ০৭:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া রোধে দেশজুড়ে প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:২১:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
  • / 30

বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বিস্তার ঠেকাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার বিভাগ, সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে দেশব্যাপী সচেতনতামূলক ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া মোকাবিলায় সারাদেশে সচেতনতামূলক র‌্যালি, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, কমিউনিটি সভা, উঠান বৈঠক ও প্রচারণা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ‘ডেঙ্গু কর্নার’ চালু, চিকিৎসক-নার্সদের প্রশিক্ষণ, ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত, পরীক্ষার কিট ও রিএজেন্ট সংগ্রহ এবং ওষুধ ও খাবার স্যালাইনের মজুত নিশ্চিত করা হয়েছে।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিসহ দেশের সাতটি সিটি করপোরেশন নিজস্ব কর্মসূচির মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মাঠে নেমেছে। প্রথমবারের মতো ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন প্রাক-বর্ষা এডিস মশার লার্ভা জরিপ পরিচালনা করেছে। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন সংগীতভিত্তিক সচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু করেছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে, প্রয়োজন হলে আরও স্থাপন করা হবে। বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য অন্তত ১০ শতাংশ শয্যা সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকদের ভিজিট ফি না নেওয়া এবং পরীক্ষার খরচে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ২ লাখ ব্যাগ খাবার স্যালাইন মজুত রয়েছে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি শুরু হয়েছে। নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জনগণ ও সিটি করপোরেশনের যৌথ দায়িত্ব রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডে পাঁচদিনের বিশেষ অভিযান চালিয়ে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম. এ. মুহিত বলেন, আগামী তিন মাস জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ধর্মীয় নেতাদেরও সম্পৃক্ত করা হচ্ছে এবং জুমার খুতবায় সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের আগাম প্রস্তুতি, সিটি করপোরেশনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ এবং নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে চলতি মৌসুমে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া রোধে দেশজুড়ে প্রস্তুতি

সর্বশেষ আপডেট ০৪:২১:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বিস্তার ঠেকাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার বিভাগ, সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে দেশব্যাপী সচেতনতামূলক ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া মোকাবিলায় সারাদেশে সচেতনতামূলক র‌্যালি, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, কমিউনিটি সভা, উঠান বৈঠক ও প্রচারণা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ‘ডেঙ্গু কর্নার’ চালু, চিকিৎসক-নার্সদের প্রশিক্ষণ, ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত, পরীক্ষার কিট ও রিএজেন্ট সংগ্রহ এবং ওষুধ ও খাবার স্যালাইনের মজুত নিশ্চিত করা হয়েছে।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিসহ দেশের সাতটি সিটি করপোরেশন নিজস্ব কর্মসূচির মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মাঠে নেমেছে। প্রথমবারের মতো ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন প্রাক-বর্ষা এডিস মশার লার্ভা জরিপ পরিচালনা করেছে। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন সংগীতভিত্তিক সচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু করেছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে, প্রয়োজন হলে আরও স্থাপন করা হবে। বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য অন্তত ১০ শতাংশ শয্যা সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকদের ভিজিট ফি না নেওয়া এবং পরীক্ষার খরচে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ২ লাখ ব্যাগ খাবার স্যালাইন মজুত রয়েছে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি শুরু হয়েছে। নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জনগণ ও সিটি করপোরেশনের যৌথ দায়িত্ব রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডে পাঁচদিনের বিশেষ অভিযান চালিয়ে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম. এ. মুহিত বলেন, আগামী তিন মাস জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ধর্মীয় নেতাদেরও সম্পৃক্ত করা হচ্ছে এবং জুমার খুতবায় সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের আগাম প্রস্তুতি, সিটি করপোরেশনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ এবং নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে চলতি মৌসুমে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।