ঢাকা ১২:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারের প্রথম ১০০ দিনে জনমুখী পদক্ষেপের দাবি মাহদী আমিনের

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:১৫:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
  • / 14

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন দাবি করেছেন, বর্তমান সরকার প্রথম ১০০ দিনে নীতি বাস্তবায়ন ও প্রশাসনিক উদ্যোগের মাধ্যমে জনকল্যাণমুখী শাসনের একটি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। তেজগাঁওয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিভিন্ন খাতের অগ্রগতি ও নীতিগত সিদ্ধান্তের খসড়া চিত্র উপস্থাপন করেন।

সরকারের ‘১০০ দিন পূর্তি’ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে শুরু থেকেই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, মন্ত্রণালয়ভিত্তিক ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে, যাতে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নকে সময়সীমার মধ্যে আনা যায়—যদিও এসব পরিকল্পনার কার্যকারিতা নিয়ে পর্যবেক্ষণ এখনও চলমান।

তিনি বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে কিছু নতুন উদ্যোগ যুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে নারী-কেন্দ্রিক ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু, ধর্মীয় ব্যক্তিদের সম্মানী ভাতা কার্যক্রম এবং বিদ্যুৎ খাতে কিছু চার্জ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত রয়েছে। এসব পদক্ষেপ জনগণের স্বস্তি বাড়াতে ভূমিকা রাখছে কি না, তা সময়ের সঙ্গে পরিষ্কার হবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

কৃষি খাতে ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য ঋণ সুবিধা ও কিছু ক্ষেত্রে মওকুফের কথা তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে ‘কৃষক কার্ড’ চালুর উদ্যোগকে প্রশাসনিক কাঠামো আধুনিকায়নের চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন, যদিও এর বাস্তব প্রভাব এখনও পুরোপুরি দৃশ্যমান নয়।

অবকাঠামো ও পানি ব্যবস্থাপনায় খাল খনন কর্মসূচি এবং পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এদিকে গণমাধ্যম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায়, তবে অপপ্রচার ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন—যা নিয়ে ভিন্ন মতও থাকতে পারে।

মন্ত্রিসভার কার্যক্রম তুলে ধরে মাহদী আমিন জানান, ১০টি বৈঠকে ৬০টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৩৭টি ইতিমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। শ্রমিক বেতন, ঈদ ব্যবস্থাপনা, পরিবহন সেবা এবং কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো প্রশাসনিক বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানের উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, বিমানবন্দর উন্নয়ন, করিডর পরিকল্পনা, শিক্ষার্থীদের ব্যাংক সুবিধা, ফ্রিল্যান্সারদের পরিচয়পত্র এবং কর্মসংস্থান তহবিল—এসব উদ্যোগ অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দেয়, যদিও এগুলোর বাস্তব ফলাফল এখনও সময়সাপেক্ষ।

স্বাস্থ্য খাতে প্রায় শতভাগ শিশু টিকাদানের দাবি তুলে ধরে তিনি কিছু সামাজিক সূচকে অগ্রগতির কথা বলেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন অপরাধের দ্রুত বিচার ও কিছু মামলার অগ্রগতিকে আইনি ব্যবস্থার সক্রিয়তা হিসেবে তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে তিনি সরকারের মানবিক অবস্থান ও প্রধানমন্ত্রীকে জনগণের আরও কাছাকাছি থাকার চিত্র তুলে ধরেন। বিদেশে অর্থ ফেরত আনা, রেমিট্যান্স বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক লক্ষ্য নির্ধারণকে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যদিও এসব লক্ষ্য অর্জনের পথ এখনও জটিল বলেই প্রতীয়মান।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সরকারের প্রথম ১০০ দিনে জনমুখী পদক্ষেপের দাবি মাহদী আমিনের

সর্বশেষ আপডেট ১০:১৫:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন দাবি করেছেন, বর্তমান সরকার প্রথম ১০০ দিনে নীতি বাস্তবায়ন ও প্রশাসনিক উদ্যোগের মাধ্যমে জনকল্যাণমুখী শাসনের একটি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। তেজগাঁওয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিভিন্ন খাতের অগ্রগতি ও নীতিগত সিদ্ধান্তের খসড়া চিত্র উপস্থাপন করেন।

সরকারের ‘১০০ দিন পূর্তি’ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে শুরু থেকেই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, মন্ত্রণালয়ভিত্তিক ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে, যাতে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নকে সময়সীমার মধ্যে আনা যায়—যদিও এসব পরিকল্পনার কার্যকারিতা নিয়ে পর্যবেক্ষণ এখনও চলমান।

তিনি বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে কিছু নতুন উদ্যোগ যুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে নারী-কেন্দ্রিক ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু, ধর্মীয় ব্যক্তিদের সম্মানী ভাতা কার্যক্রম এবং বিদ্যুৎ খাতে কিছু চার্জ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত রয়েছে। এসব পদক্ষেপ জনগণের স্বস্তি বাড়াতে ভূমিকা রাখছে কি না, তা সময়ের সঙ্গে পরিষ্কার হবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

কৃষি খাতে ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য ঋণ সুবিধা ও কিছু ক্ষেত্রে মওকুফের কথা তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে ‘কৃষক কার্ড’ চালুর উদ্যোগকে প্রশাসনিক কাঠামো আধুনিকায়নের চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন, যদিও এর বাস্তব প্রভাব এখনও পুরোপুরি দৃশ্যমান নয়।

অবকাঠামো ও পানি ব্যবস্থাপনায় খাল খনন কর্মসূচি এবং পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এদিকে গণমাধ্যম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায়, তবে অপপ্রচার ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন—যা নিয়ে ভিন্ন মতও থাকতে পারে।

মন্ত্রিসভার কার্যক্রম তুলে ধরে মাহদী আমিন জানান, ১০টি বৈঠকে ৬০টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৩৭টি ইতিমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। শ্রমিক বেতন, ঈদ ব্যবস্থাপনা, পরিবহন সেবা এবং কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো প্রশাসনিক বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানের উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, বিমানবন্দর উন্নয়ন, করিডর পরিকল্পনা, শিক্ষার্থীদের ব্যাংক সুবিধা, ফ্রিল্যান্সারদের পরিচয়পত্র এবং কর্মসংস্থান তহবিল—এসব উদ্যোগ অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের ইঙ্গিত দেয়, যদিও এগুলোর বাস্তব ফলাফল এখনও সময়সাপেক্ষ।

স্বাস্থ্য খাতে প্রায় শতভাগ শিশু টিকাদানের দাবি তুলে ধরে তিনি কিছু সামাজিক সূচকে অগ্রগতির কথা বলেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন অপরাধের দ্রুত বিচার ও কিছু মামলার অগ্রগতিকে আইনি ব্যবস্থার সক্রিয়তা হিসেবে তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে তিনি সরকারের মানবিক অবস্থান ও প্রধানমন্ত্রীকে জনগণের আরও কাছাকাছি থাকার চিত্র তুলে ধরেন। বিদেশে অর্থ ফেরত আনা, রেমিট্যান্স বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক লক্ষ্য নির্ধারণকে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যদিও এসব লক্ষ্য অর্জনের পথ এখনও জটিল বলেই প্রতীয়মান।