ইউরেনিয়াম ইরানের ভেতরেই থাকবে: মোজতবা খামেনি
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:২৭:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
- / 31
ইরানের পারমাণবিক ইস্যু ঘিরে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মজতবা খামেনেই নাকি স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ কোনোভাবেই দেশের বাইরে পাঠানো যাবে না। এমন অবস্থান সামনে এল এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা শান্তি আলোচনায় এটিকে প্রধান শর্ত হিসেবে তুলে ধরছে।
আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম। পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, এই উপাদান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। তবে তেহরান শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত।
সাম্প্রতিক সূত্র বলছে, ইরানের নীতিনির্ধারকদের একটি বড় অংশ মনে করছে, ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে গেলে নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বেড়ে যাবে। সেই কারণে এখন অবস্থান আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠোর।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। তাদের দাবি, ইরান যেভাবে উচ্চমাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে, তা অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার দিকে ইঙ্গিত করে। যদিও তেহরান এই অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার হিসাবে, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বড় অংশ বিভিন্ন নিরাপদ স্থানে সংরক্ষিত রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর এই মজুদের প্রকৃত অবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এখন নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে আলোচনার কিছু অগ্রগতি হলেও ইউরেনিয়াম মজুদের ভবিষ্যৎ এখনো সবচেয়ে জটিল ও সংবেদনশীল ইস্যু হিসেবে রয়ে গেছে।
যুদ্ধ শুরু হয়েছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার পর। এরপর ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর দিকে পাল্টা আক্রমণ চালায় এবং লেবাননে হিজবুল্লাহসহ ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
যদিও একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর আছে, শান্তি আলোচনায় বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি। ইরানের বন্দরে মার্কিন অবরোধ এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর তেহরানের প্রভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
দুই ইরানি সূত্র বলছে, তেহরানে গভীর সন্দেহ রয়েছে যে এই যুদ্ধবিরতি আসলে ওয়াশিংটনের কৌশল হতে পারে, যাতে পরে নতুন বিমান হামলার সুযোগ তৈরি করা যায়।
ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বুধবার বলেছেন, “শত্রুর প্রকাশ্য ও গোপন পদক্ষেপ” ইঙ্গিত দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ট্রাম্প একই দিনে বলেন, ইরান শান্তিচুক্তিতে না এলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও হামলার জন্য প্রস্তুত, যদিও তিনি কিছুদিন অপেক্ষার ইঙ্গিতও দেন।
সূত্রগুলো জানায়, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও মূল মতবিরোধ রয়ে গেছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ইউরেনিয়াম মজুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে।
ইরান বলছে, তাদের প্রধান লক্ষ্য যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কাছ থেকে ভবিষ্যৎ হামলা না করার নিশ্চয়তা পাওয়া। সেই নিশ্চয়তা ছাড়া তারা বিস্তারিত আলোচনায় যেতে রাজি নয়।
ইসরায়েল বহুদিন ধরে পরমাণু অস্ত্রের মালিক বলে ধারণা করা হলেও তারা কখনো তা নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি।
যুদ্ধের আগে ইরান তাদের ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের অর্ধেক বিদেশে পাঠানোর ইঙ্গিত দিয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্পের হামলার হুমকির পর সেই অবস্থান বদলায়।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলছেন, ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত হামলার সিদ্ধান্ত নেবেন কি না এবং ইসরায়েলকে আবার অভিযান চালানোর অনুমতি দেবেন কি না—তা এখনো অনিশ্চিত। তেহরান অবশ্য হামলা হলে “কঠিন জবাব” দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
তবে এক ইরানি সূত্র বলেছে, কিছু বাস্তবসম্মত সমাধান আছে। যেমন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-র তত্ত্বাবধানে মজুদ পাতলা করা বা কমিয়ে আনা।
পরমাণু শক্তি সংস্থা হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার সময় ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ ছিল প্রায় ৪৪০.৯ কেজি। এর কতটা এখন টিকে আছে তা স্পষ্ট নয়।
পরমাণু শক্তি সংস্থা প্রধান রাফায়েল গ্রোসি মার্চে বলেন, এর বড় অংশ ইসফাহান স্থাপনার একটি টানেল কমপ্লেক্সে রয়েছে এবং কিছু নাতাঞ্জে থাকতে পারে।
ইরান দাবি করে, কিছু উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম চিকিৎসা এবং তেহরানের একটি গবেষণা রিঅ্যাক্টরের জন্য দরকার, যেখানে তুলনামূলক কম মাত্রার (প্রায় ২০%) ইউরেনিয়াম ব্যবহৃত হয়




































