ঢাকা ১১:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেতৃত্ব বিকাশের পথে নানা বাধা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৯:৫৫:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
  • / 15

তরুণ নারী অংশগ্রহণকারীরা তাদের নেতৃত্ব বিকাশের পথে নানা বাধা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেত্রীরাও জনপরিসরে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক অধিকার আদায়ে নিজেদের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

বুধবার ( ২০ মে) রাজধানীর আদাবরে উদ্দীপন হিউম্যান রিসোর্স ট্রেনিং সেন্টারে নারীপক্ষের আয়োজনে “জনজীবনে নারীর নেতৃত্ব বিকাশ প্রকল্প”-এর আওতায় বিভাগীয় পর্যায়ে তরুণ নারীদের নেতৃত্ব বিকাশে এবং এসডিজি-১৬ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক নেত্রীদের ভূমিকা শীর্ষক আন্তঃপ্রজন্ম অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালায় অংশ গ্রহণকারীরা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন ।

কর্মশালার উদ্বোধনী ও সমাপনী বক্তব্য দেন প্রকল্প পরিচালক নাসিমা আক্তার। কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন নারীপক্ষ’র সাবেক সভাপতি ও সদস্য অমিতা দে, সামিয়া আফরীন।
এছাড়াও দিনব্যাপী এ কর্মশালায় তরুণ নারী, মেন্টর, রাজনৈতিক নেত্রী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি অগ্রযাত্রার নির্বাহী পরিচালক জাকিয়া শিশির, বাসদ মার্কসবাদী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সীমা দত্ত, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের (বিএনপির সহযোগী সংগঠন) কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের (বিএনপির সহযোগী সংগঠন) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহীনূর নার্গিস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্ষা চাকমা প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন।

নাসিমা আক্তার বলেন, তরুণ ও অভিজ্ঞ নারী নেতৃত্বের মধ্যে একটি কার্যকর সম্পর্ক ও নেটওয়ার্ক গড়ে তোলাই এ কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য। পরিচিতি পর্বে অংশগ্রহণকারীরা জোড়ায় জোড়ায় নিজেদের পরিচয় ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

আলোচনায় এসডিজি-১৬ বাস্তবায়নে অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, শান্তি, ন্যায়বিচার ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার জন্য নারীর সক্রিয় রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা জরুরি।

কর্মশালায় বাংলাদেশের নারী উন্নয়ন নীতিমালার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়। নারীর মানবাধিকার, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে সমান সুযোগ, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং সহিংসতা প্রতিরোধের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে নারী সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে নারীর অধিকার ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রদত্ত ৪৪৩টি সুপারিশের বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসে।

পরবর্তীতে অংশগ্রহণকারীরা দলভিত্তিক আলোচনায় অংশ নেন। আলোচনায় নারীর নেতৃত্ব বিকাশে অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা, পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার, সাইবার নিরাপত্তাহীনতা এবং রাজনৈতিক কাঠামো সম্পর্কে অজ্ঞতাকে প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অন্যদিকে নারী নেতৃত্ব বিকাশে দক্ষতা উন্নয়ন, জবাবদিহিতা বৃদ্ধি, গণতান্ত্রিক চর্চা, নারী-বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং আন্তঃদলীয় সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

আন্তঃদলীয় নেটওয়ার্ক নারীদের নেতৃত্ব বিকাশে কী ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনায় প্রশিক্ষণ, নেটওয়ার্কিং, সিস্টারহুড উন্নয়ন, তথ্য আদান-প্রদান এবং নারীদের জন্য নিরাপদ মতপ্রকাশের ক্ষেত্র তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

কর্মশালার শেষপর্বে অংশগ্রহণকারীরা যৌথ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেন। এতে আন্তঃদলীয় সংলাপ, তরুণ নেতৃত্ব তৈরি, নেটওয়ার্ক গঠন, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে পলিসি ডায়ালগ, মতবিনিময় সভা, সেমিনার এবং ইস্যুভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

নেতৃত্ব বিকাশের পথে নানা বাধা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা

সর্বশেষ আপডেট ০৯:৫৫:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

তরুণ নারী অংশগ্রহণকারীরা তাদের নেতৃত্ব বিকাশের পথে নানা বাধা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেত্রীরাও জনপরিসরে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক অধিকার আদায়ে নিজেদের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

বুধবার ( ২০ মে) রাজধানীর আদাবরে উদ্দীপন হিউম্যান রিসোর্স ট্রেনিং সেন্টারে নারীপক্ষের আয়োজনে “জনজীবনে নারীর নেতৃত্ব বিকাশ প্রকল্প”-এর আওতায় বিভাগীয় পর্যায়ে তরুণ নারীদের নেতৃত্ব বিকাশে এবং এসডিজি-১৬ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক নেত্রীদের ভূমিকা শীর্ষক আন্তঃপ্রজন্ম অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালায় অংশ গ্রহণকারীরা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন ।

কর্মশালার উদ্বোধনী ও সমাপনী বক্তব্য দেন প্রকল্প পরিচালক নাসিমা আক্তার। কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন নারীপক্ষ’র সাবেক সভাপতি ও সদস্য অমিতা দে, সামিয়া আফরীন।
এছাড়াও দিনব্যাপী এ কর্মশালায় তরুণ নারী, মেন্টর, রাজনৈতিক নেত্রী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি অগ্রযাত্রার নির্বাহী পরিচালক জাকিয়া শিশির, বাসদ মার্কসবাদী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সীমা দত্ত, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের (বিএনপির সহযোগী সংগঠন) কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের (বিএনপির সহযোগী সংগঠন) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহীনূর নার্গিস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্ষা চাকমা প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন।

নাসিমা আক্তার বলেন, তরুণ ও অভিজ্ঞ নারী নেতৃত্বের মধ্যে একটি কার্যকর সম্পর্ক ও নেটওয়ার্ক গড়ে তোলাই এ কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য। পরিচিতি পর্বে অংশগ্রহণকারীরা জোড়ায় জোড়ায় নিজেদের পরিচয় ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

আলোচনায় এসডিজি-১৬ বাস্তবায়নে অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, শান্তি, ন্যায়বিচার ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার জন্য নারীর সক্রিয় রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা জরুরি।

কর্মশালায় বাংলাদেশের নারী উন্নয়ন নীতিমালার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়। নারীর মানবাধিকার, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে সমান সুযোগ, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং সহিংসতা প্রতিরোধের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে নারী সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে নারীর অধিকার ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রদত্ত ৪৪৩টি সুপারিশের বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসে।

পরবর্তীতে অংশগ্রহণকারীরা দলভিত্তিক আলোচনায় অংশ নেন। আলোচনায় নারীর নেতৃত্ব বিকাশে অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা, পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার, সাইবার নিরাপত্তাহীনতা এবং রাজনৈতিক কাঠামো সম্পর্কে অজ্ঞতাকে প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অন্যদিকে নারী নেতৃত্ব বিকাশে দক্ষতা উন্নয়ন, জবাবদিহিতা বৃদ্ধি, গণতান্ত্রিক চর্চা, নারী-বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং আন্তঃদলীয় সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

আন্তঃদলীয় নেটওয়ার্ক নারীদের নেতৃত্ব বিকাশে কী ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনায় প্রশিক্ষণ, নেটওয়ার্কিং, সিস্টারহুড উন্নয়ন, তথ্য আদান-প্রদান এবং নারীদের জন্য নিরাপদ মতপ্রকাশের ক্ষেত্র তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

কর্মশালার শেষপর্বে অংশগ্রহণকারীরা যৌথ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেন। এতে আন্তঃদলীয় সংলাপ, তরুণ নেতৃত্ব তৈরি, নেটওয়ার্ক গঠন, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে পলিসি ডায়ালগ, মতবিনিময় সভা, সেমিনার এবং ইস্যুভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়।