তামাকবিরোধী লড়াইয়ে একজোট নারী এমপিরা
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:১১:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
- / 17
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত এবং দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাকের ভয়াবহ ছোবল থেকে বাঁচাতে তামাকের বিরুদ্ধে একসাথে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নারী সাংসদগণ।
মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ‘তামাক বিরোধী নারী এমপিদের ফোরাম’- এর এক সভায় এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা। সভার সভাপতিত্ব করেন ফোরামের চেয়ারপার্সন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য সেলিমা রহমান।
সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম তামাক ব্যবহারকারী দেশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহের মধ্যে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি ৩৫.৩ শতাংশ, যা ভারতে ২৮.৬ শতাংশ এবং পাকিস্তানে ১৯.১ শতাংশ। গ্লোবাল এডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (গ্যাটস, ২০১৭)-এর তথ্যমতে, বর্তমানে বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭৮ লক্ষ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করে। টোব্যাকো এটলাস ২০২৫ এর তথ্যমতে, তামাক ব্যবহারজনিত রোগে বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ২ লক্ষ মানুষ মৃত্যু বরণ করে, পঙ্গুত্ব বরণ করে আরো কয়েক লক্ষ মানুষ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক গবেষণালব্ধ তথ্য অনুযায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তামাক খাত থেকে রাজস্ব আয় হয়েছিল প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা পক্ষান্তরে, তামাক ব্যবহারজনিত কারণে মৃত্যু, অন্যান্য স্বাস্থ্য ক্ষতি এবং পরিবেশের ক্ষতি ছিলো প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রাপ্ত রাজস্বের চেয়ে ক্ষতি দ্বিগুণেরও বেশি। সবমিলিয়ে বাংলাদেশে তামাকের ব্যবহার এবং ক্ষয়ক্ষতি জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি এবং পরিবেশের জন্য ক্রমবর্ধমানভাবে হুমকি সৃষ্টি করছে।
বাংলাদেশ ২০০৩ সালে তৎকালীন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এর নেতৃত্বে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার Framework Convention on Tobacco Control (WHO FCTC)-এ স্বাক্ষর করে। তারই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়। এ বিষয়ে সভায় বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়।
তামাকজাত দ্রব্যে কর ও মূল্য বৃদ্ধি তামাক নিয়ন্ত্রণের অন্যতম কার্যকর ও পরিক্ষীত উপায়। বিশ্বের বহু দেশ এই উপায়ে তামাক নিয়ন্ত্রণে সফলতা অর্জন করেছে। যেহেতু ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট আসন্ন তাই এই বাজেটে তামাকজাত দ্রব্যে কর ও মূল্য বৃদ্ধির বিষয়েও সভায় জোর দাবী জানানো হয়।
সেলিমা রহমান, এমপি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম একটি বিষয় ছিলো জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও তামাক নিয়ন্ত্রণ। তারই প্রতিফলনস্বরূপ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করা হয়। তবে আমরা মনে করি, শুধু আইন পাশ করাই যথেষ্ট নয়, তামাক নিয়ন্ত্রণ একটি চলমান যুদ্ধ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই যুদ্ধে আমাদের জয় হবেই।
তামাকবিরোধী মায়েদের ফোরামের আহ্বায়ক শিবানী ভট্টাচার্য বলেন, হার্ম রিডাকশন (Harm Reduction)- এর নামে তামাক কোম্পানিগুলো ই-সিগারেট, ভ্যাপ, নিকোটিন পাউচ ইত্যাদি নানা নামে নতুন নতুন নিকোটিন পণ্য বাজারজাত করছে, যা তামাক ব্যবসায়ী চক্রের এক অভিনব ব্যবসায়িক কৌশল। এই কৌশলের মাধ্যমে তারা কিশোর-তরুণদের বিভ্রান্ত করে দেশের কিশোর-তরুণদের আর এক নেশার জগতে ঠেলে দিচ্ছে। সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে এই বিষয়টি প্রতিফলিত না হলেও আমাদের কাজ হবে প্রতিনিয়ত এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া। কারণ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে কোনোপ্রকার তামাকজাত পণ্যেই ছাড় দেয়া সম্ভব নয়।’
তামাকবিরোধী শিক্ষক ফোরামের সহ-আহ্বাক তনুশ্রী হালদার বলেন, তামাকের ক্ষতি কেবল ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির ওপরও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। নারী সংসদ সদস্যরা যেহেতু জনগণের নিকট দায়বদ্ধ তাই তাদের সাথে মিলে আমরা সবাই একসাথে তামাক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারব বলে আমি বিশ্বাস করি।
সভায় ’তামাক বিরোধী নারী এমপিদের ফোরাম’ সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, রাশেদা বেগম হীরা, নেওয়াজ হালিমা আরলী, ফরিদা ইয়াসমীন, নিলোফার চৌধুরী মনি, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম, ফাহমিদা হক, ফেরদৌসী আহমেদ, জহরত আদিব চৌধুরী, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, শওকত আরা আক্তার, মাধবী মার্মা এবং রেজেকা সুলতানা।
এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আকতার ডলি, নারী সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক লাবিন রহমান ও তামাকবিরোধী ইয়ূথ ফোরামের সদস্য তাসফিয়া নওরীন, রাইসুল ইসলাম ও আশরাফিয়া জান্নাত। সভায় উপস্থিত সকলে একসাথে তামাক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

































