ঢাকা ০৮:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি খাত অস্থিরতার নেপথ্যের কারণ জানালেন অর্থ উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৬:১১:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
  • / 30

দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত একটি সীমাবদ্ধ ও গোষ্ঠীকেন্দ্রিক কাঠামোর মধ্যে আটকে আছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তার মতে, দীর্ঘদিনের নীতিগত দুর্বলতা ও চুক্তি ব্যবস্থার কারণে খাতটি এখন আমদানি-নির্ভরতা ও ব্যয়ের চাপের দুষ্টচক্রে ঘুরপাক খাচ্ছে।

রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘আসন্ন বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি: প্রত্যাশা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও ঢাকা স্ট্রিম যৌথভাবে এ আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

উপদেষ্টা তিতুমীর বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে ধীরে ধীরে এমন এক কাঠামোর দিকে নেওয়া হয়েছে, যেখানে কয়েকটি গোষ্ঠীর প্রভাব বেশি। এর ফলে জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী হওয়ার বদলে আমদানিনির্ভরতা আরও বেড়েছে। তার ভাষায়, এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা এখন সময়ের দাবি।

তিনি উৎপাদন সক্ষমতা ও প্রকৃত ব্যবহারের মধ্যে বড় ব্যবধানের কথাও উল্লেখ করেন। এতে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় হচ্ছে বলে মন্তব্য করে তিনি ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’-কে এর একটি স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।

পূর্বের চুক্তি প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার দাবি, অনেক চুক্তি প্রচলিত নিয়ম ও স্বচ্ছতা অনুসরণ না করেই সম্পন্ন হয়েছে, পরে সেগুলো আইনি কাঠামোর আড়ালে ঢেকে রাখা হয়েছে। এতে করে খাতে একটি গোষ্ঠীকেন্দ্রিক ব্যবস্থা আরও দৃঢ় হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

বিশ্ব পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানির দাম বাড়লেও সরকার সহজে সমন্বয় করতে পারে না। কারণ এতে মূল্যস্ফীতি ও কৃষি উৎপাদনে চাপ বাড়ার ঝুঁকি থাকে।

সংকট থেকে উত্তরণের পথ হিসেবে তিনি কয়েকটি দিক তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার, ভোক্তার আয় অনুযায়ী যৌক্তিক মূল্য কাঠামো, এবং আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো।

তিনি আরও বলেন, সাময়িকভাবে আমদানির ওপর নির্ভরতা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে দেশকে স্বনির্ভরতার দিকে যেতে হবে। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দেশীয় শিল্প গড়ে তোলা জরুরি।

দেশীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন তিনি। গ্যাস অনুসন্ধানে বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য একটি সুস্পষ্ট নীতিগত ‘বেঞ্চমার্ক’ নির্ধারণের প্রস্তাব দেন।

তার ভাষায়, এখনো পর্যন্ত জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ নীতিগত কাঠামো গড়ে ওঠেনি। এই ঘাটতি থেকেই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার সংকট তৈরি হচ্ছে। এটি সমাধান না হলে রাষ্ট্রকে নিয়মিত ভর্তুকির চাপ বহন করতেই হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

জ্বালানি খাত অস্থিরতার নেপথ্যের কারণ জানালেন অর্থ উপদেষ্টা

সর্বশেষ আপডেট ০৬:১১:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত একটি সীমাবদ্ধ ও গোষ্ঠীকেন্দ্রিক কাঠামোর মধ্যে আটকে আছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তার মতে, দীর্ঘদিনের নীতিগত দুর্বলতা ও চুক্তি ব্যবস্থার কারণে খাতটি এখন আমদানি-নির্ভরতা ও ব্যয়ের চাপের দুষ্টচক্রে ঘুরপাক খাচ্ছে।

রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘আসন্ন বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি: প্রত্যাশা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও ঢাকা স্ট্রিম যৌথভাবে এ আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

উপদেষ্টা তিতুমীর বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে ধীরে ধীরে এমন এক কাঠামোর দিকে নেওয়া হয়েছে, যেখানে কয়েকটি গোষ্ঠীর প্রভাব বেশি। এর ফলে জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী হওয়ার বদলে আমদানিনির্ভরতা আরও বেড়েছে। তার ভাষায়, এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা এখন সময়ের দাবি।

তিনি উৎপাদন সক্ষমতা ও প্রকৃত ব্যবহারের মধ্যে বড় ব্যবধানের কথাও উল্লেখ করেন। এতে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় হচ্ছে বলে মন্তব্য করে তিনি ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’-কে এর একটি স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।

পূর্বের চুক্তি প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার দাবি, অনেক চুক্তি প্রচলিত নিয়ম ও স্বচ্ছতা অনুসরণ না করেই সম্পন্ন হয়েছে, পরে সেগুলো আইনি কাঠামোর আড়ালে ঢেকে রাখা হয়েছে। এতে করে খাতে একটি গোষ্ঠীকেন্দ্রিক ব্যবস্থা আরও দৃঢ় হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

বিশ্ব পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানির দাম বাড়লেও সরকার সহজে সমন্বয় করতে পারে না। কারণ এতে মূল্যস্ফীতি ও কৃষি উৎপাদনে চাপ বাড়ার ঝুঁকি থাকে।

সংকট থেকে উত্তরণের পথ হিসেবে তিনি কয়েকটি দিক তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার, ভোক্তার আয় অনুযায়ী যৌক্তিক মূল্য কাঠামো, এবং আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো।

তিনি আরও বলেন, সাময়িকভাবে আমদানির ওপর নির্ভরতা থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে দেশকে স্বনির্ভরতার দিকে যেতে হবে। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দেশীয় শিল্প গড়ে তোলা জরুরি।

দেশীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন তিনি। গ্যাস অনুসন্ধানে বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য একটি সুস্পষ্ট নীতিগত ‘বেঞ্চমার্ক’ নির্ধারণের প্রস্তাব দেন।

তার ভাষায়, এখনো পর্যন্ত জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ নীতিগত কাঠামো গড়ে ওঠেনি। এই ঘাটতি থেকেই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার সংকট তৈরি হচ্ছে। এটি সমাধান না হলে রাষ্ট্রকে নিয়মিত ভর্তুকির চাপ বহন করতেই হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।