পারমাণবিক সুরক্ষা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের অংশ: প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা
- সর্বশেষ আপডেট ১০:০৪:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
- / 29
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম বলেছেন, পারমাণবিক সুরক্ষা কেবল প্রযুক্তিগত বিষয় নয়—এটি জাতীয় নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
মিরপুর সেনানিবাসে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে এক বিশেষ বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। সেখানে তিনি পারমাণবিক নিরাপত্তার বিভিন্ন দিক, বৈশ্বিক ঝুঁকি এবং বাংলাদেশের দায়িত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
তিনি বলেন, পারমাণবিক স্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর নিরাপত্তা এখন আর কোনো একক দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। সন্ত্রাসবাদ, সাইবার হুমকি, প্রযুক্তিগত ঝুঁকি এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা দুর্বলতা—সব মিলিয়ে বিষয়টি বৈশ্বিক নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে তিনি জানান, দেশ শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও নিরাপত্তা নীতিমালা অনুসরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এজন্য প্রয়োজন সমন্বিত নীতি, দক্ষ জনবল, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয়।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের কৌশলগত স্থাপনার সুরক্ষায় পেশাদারিত্ব ও সমন্বিত পরিকল্পনার বিকল্প নেই। সেখানে সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, পারমাণবিক নিরাপত্তা এখন বহুমাত্রিক একটি বিষয়—ভৌত নিরাপত্তার পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ এবং জনসচেতনতা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ ক্ষেত্রে গবেষণা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও তিনি জোর দেন।
বক্তৃতা শেষে তিনি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং পারমাণবিক নিরাপত্তার বাস্তব ও নীতিগত দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন।
পরে তিনি ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্প, যেমন রোবটিক্স ও ড্রোন প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রশংসা করেন।































