পদ্মা ব্যারেজে দুটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:৫৪:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
- / 24
পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের অংশ হিসেবে ১১৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে একদিকে যেমন জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে, তেমনি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যও রয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, একটি কেন্দ্র থেকে ৭৬.৪ মেগাওয়াট এবং অন্যটি থেকে ৩৬.৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। এই বিদ্যুৎ ব্যারেজ পরিচালনার পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডেও যুক্ত করা হবে।
সরকারের হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় অর্থনীতিতে প্রায় শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত অবদান রাখতে পারে এবং বছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সুবিধা তৈরি হতে পারে।
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় পদ্মা নদীর ওপর ব্যারেজসহ এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ২.১ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল ব্যারেজে ৭৮টি স্পিলওয়ে, ১৮টি আন্ডারস্লুইস, দুটি ফিশ পাস, নেভিগেশন লক এবং গাইড বাঁধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ সম্ভব হবে।
প্রকল্পটির মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন আনার আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ২৮ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে লবণাক্ততা কমানো, নদীর প্রবাহ পুনরুদ্ধার, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে।
একনেক সভায় প্রায় ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকার এই ‘পদ্মা ব্যারেজ (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩৩ মেয়াদে শতভাগ সরকারি অর্থায়নে এটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্প প্রস্তাবে ফারাক্কা বাঁধের কারণে পদ্মা নদীর পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নদী শুকিয়ে যাওয়া, কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির বিষয়গুলোও তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে নদীতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও সুন্দরবনের ওপর সম্ভাব্য ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।































