ঢাকা ০৭:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভেজাল বীজ ও কীটনাশকে কৃষকের ক্ষতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাইবান্ধা
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:১৮:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
  • / 21

গাইবান্ধা কৃষক

গাইবান্ধায় ধান চাষে আয়ের প্রধান উৎস হলেও বিগত কয়েক বছর ধরে ভেজাল বীজ ও কীটনাশকের কারণে লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষকরা। একটি অসাধু চক্র নামিদামি ব্র্যান্ডের মোড়ক ব্যবহার করে নিম্নমানের কৃষি উপকরণ বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে বোরো মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কৃষি বিভাগ অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখছে এবং অনুমোদিত ডিলার ছাড়া কেনাকাটা না করার পরামর্শ দিয়েছে।

কৃষিপ্রধান গাইবান্ধা জেলায় টানা কয়েক মৌসুম ধরে কৃষকরা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। বাজার থেকে কেনা কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করেও পোকা দমন হচ্ছে না, বরং উৎপাদন খরচ বাড়ছে। মূলত ভেজাল বীজ ও কীটনাশকে কৃষকের ক্ষতি হওয়ায় অনেক কৃষক এখন দিশেহারা। অসাধু চক্রটি নামিদামি কোম্পানির প্যাকেট ব্যবহার করায় সাধারণ কৃষকরা সহজেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন। ফলে ভালো ফলনের আশায় বেশি দামে বীজ কিনেও মৌসুম শেষে কাঙ্ক্ষিত ফলন মিলছে না।

সদর উপজেলার বল্লমঝড় ইউনিয়নের কৃষক আলমগীর হোসেন জানান, কৃষি বিভাগের সঠিক তদারকির অভাবেই ভেজাল উপকরণের চক্রটি সক্রিয় রয়েছে। আকবর আলী নামে অন্য এক কৃষকের মতে, ধানে রোগ দেখা দিলে দামি ওষুধ স্প্রে করলেও কোনো ফল পাওয়া যায় না। বর্তমানে ভেজাল বীজ ও কীটনাশকে কৃষকের ক্ষতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কৃষকরা এখন ব্র্যান্ডের প্যাকেটের ওপরও আস্থা হারিয়ে ফেলছেন। এতে একদিকে উৎপাদন কমছে, অন্যদিকে ঋণের বোঝা বাড়ছে।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. আল মুজাহিদ সরকার জানান, বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রাপ্ত অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ভেজাল বীজ ও কীটনাশকে কৃষকের ক্ষতি রোধে বিভিন্ন দোকানের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হচ্ছে। চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। মূলত সাড়ে ৮ লাখ মেট্রিক টন ধানের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক রাখতে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। পরিশেষে বলা যায়, কঠোর তদারকি না থাকলে কৃষকদের এই লোকসান ঠেকানো কঠিন হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ভেজাল বীজ ও কীটনাশকে কৃষকের ক্ষতি

সর্বশেষ আপডেট ০১:১৮:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

গাইবান্ধায় ধান চাষে আয়ের প্রধান উৎস হলেও বিগত কয়েক বছর ধরে ভেজাল বীজ ও কীটনাশকের কারণে লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষকরা। একটি অসাধু চক্র নামিদামি ব্র্যান্ডের মোড়ক ব্যবহার করে নিম্নমানের কৃষি উপকরণ বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে বোরো মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কৃষি বিভাগ অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখছে এবং অনুমোদিত ডিলার ছাড়া কেনাকাটা না করার পরামর্শ দিয়েছে।

কৃষিপ্রধান গাইবান্ধা জেলায় টানা কয়েক মৌসুম ধরে কৃষকরা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। বাজার থেকে কেনা কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করেও পোকা দমন হচ্ছে না, বরং উৎপাদন খরচ বাড়ছে। মূলত ভেজাল বীজ ও কীটনাশকে কৃষকের ক্ষতি হওয়ায় অনেক কৃষক এখন দিশেহারা। অসাধু চক্রটি নামিদামি কোম্পানির প্যাকেট ব্যবহার করায় সাধারণ কৃষকরা সহজেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন। ফলে ভালো ফলনের আশায় বেশি দামে বীজ কিনেও মৌসুম শেষে কাঙ্ক্ষিত ফলন মিলছে না।

সদর উপজেলার বল্লমঝড় ইউনিয়নের কৃষক আলমগীর হোসেন জানান, কৃষি বিভাগের সঠিক তদারকির অভাবেই ভেজাল উপকরণের চক্রটি সক্রিয় রয়েছে। আকবর আলী নামে অন্য এক কৃষকের মতে, ধানে রোগ দেখা দিলে দামি ওষুধ স্প্রে করলেও কোনো ফল পাওয়া যায় না। বর্তমানে ভেজাল বীজ ও কীটনাশকে কৃষকের ক্ষতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কৃষকরা এখন ব্র্যান্ডের প্যাকেটের ওপরও আস্থা হারিয়ে ফেলছেন। এতে একদিকে উৎপাদন কমছে, অন্যদিকে ঋণের বোঝা বাড়ছে।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. আল মুজাহিদ সরকার জানান, বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রাপ্ত অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ভেজাল বীজ ও কীটনাশকে কৃষকের ক্ষতি রোধে বিভিন্ন দোকানের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হচ্ছে। চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। মূলত সাড়ে ৮ লাখ মেট্রিক টন ধানের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক রাখতে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। পরিশেষে বলা যায়, কঠোর তদারকি না থাকলে কৃষকদের এই লোকসান ঠেকানো কঠিন হবে।