ঢাকা ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শান্তি প্রস্তাবে ইরানের জবাবের অপেক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:২০:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
  • / 10

ওয়াশিংটন জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরে যুদ্ধ থামানোর জন্য দেওয়া সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবের বিষয়ে ইরানের জবাব খুব শিগগিরই, সম্ভবত শুক্রবারের মধ্যেই পাওয়া যেতে পারে। তবে একই সময়ে অঞ্চলজুড়ে সামরিক উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

গত কয়েক দিনে হরমুজ প্রণালী ও আশপাশের এলাকায় সবচেয়ে তীব্র সংঘর্ষ দেখা গেছে। এক মাস আগে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এটি সবচেয়ে বড় উত্তেজনার পর্ব বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই দাবি করছে, তারা এখনো একটি চুক্তির কাছাকাছি রয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও রোমে সাংবাদিকদের বলেন, “আজকের মধ্যেই আমরা কিছু একটা জানতে পারব। আমরা একটি জবাবের অপেক্ষায় আছি। দেখি তারা কী জানায়—আশা করছি এটি আলোচনার একটি বাস্তব প্রক্রিয়ায় নিয়ে যাবে।”

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সাম্প্রতিক সংঘর্ষ সত্ত্বেও যুদ্ধবিরতি কার্যকর আছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এখন ইরানের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায়, যা প্রথমে যুদ্ধ বন্ধের দিকেই অগ্রসর হবে—এরপর পারমাণবিক ইস্যুসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা শুরু হতে পারে।

ইরানের মেহর সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, শুক্রবার হরমুজ প্রণালীর কাছে সিরিক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই সঙ্গে দাবি করা হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে ওই এলাকায় মার্কিন নৌবাহিনীর হামলায় একটি বাণিজ্যিক ইরানি জাহাজের ১০ জন আহত এবং পাঁচজন নিখোঁজ হয়েছেন।

ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলার সময় তিনটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ারে হামলা হয়েছিল, তবে তারা নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছেছে এবং কোনো ক্ষতি হয়নি। তিনি আরও বলেন, মার্কিন বাহিনী পাল্টা জবাব দিয়েছে।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী জানায়, একটি F/A-18 যুদ্ধবিমান দুটি ইরানি ট্যাংকারকে অচল করে দিয়েছে, যাতে তারা গন্তব্যে যেতে না পারে।

ইরান অবশ্য পাল্টা অভিযোগ করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি ভেঙেছে এবং বেসামরিক এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে। ইরানি সামরিক সূত্র দাবি করেছে, তারা পাল্টা আঘাত হেনেছে এবং মার্কিন নৌবাহিনীর কিছু লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষতি হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র সেই দাবি অস্বীকার করেছে।

এই উত্তেজনা শুধু জলপথেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত দুইটি ক্ষেপণাস্ত্র ও তিনটি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে, এতে তিনজন আহত হয়েছেন।

এদিকে তেলবাজারে বড় কোনো পরিবর্তন না হলেও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি স্থির রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী প্রথমে যুদ্ধ শেষ করতে হবে, তারপর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালী নিয়ে আলোচনা হবে। ইরান এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।

ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না—এ বিষয়ে তারা নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। তবে ইরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।

পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। ট্রাম্পের ভাষায়, “এটা হতে পারে, আবার নাও হতে পারে—তবে যে কোনো দিনই সমঝোতা হতে পারে।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

শান্তি প্রস্তাবে ইরানের জবাবের অপেক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র

সর্বশেষ আপডেট ১০:২০:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

ওয়াশিংটন জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরে যুদ্ধ থামানোর জন্য দেওয়া সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবের বিষয়ে ইরানের জবাব খুব শিগগিরই, সম্ভবত শুক্রবারের মধ্যেই পাওয়া যেতে পারে। তবে একই সময়ে অঞ্চলজুড়ে সামরিক উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

গত কয়েক দিনে হরমুজ প্রণালী ও আশপাশের এলাকায় সবচেয়ে তীব্র সংঘর্ষ দেখা গেছে। এক মাস আগে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এটি সবচেয়ে বড় উত্তেজনার পর্ব বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই দাবি করছে, তারা এখনো একটি চুক্তির কাছাকাছি রয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও রোমে সাংবাদিকদের বলেন, “আজকের মধ্যেই আমরা কিছু একটা জানতে পারব। আমরা একটি জবাবের অপেক্ষায় আছি। দেখি তারা কী জানায়—আশা করছি এটি আলোচনার একটি বাস্তব প্রক্রিয়ায় নিয়ে যাবে।”

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সাম্প্রতিক সংঘর্ষ সত্ত্বেও যুদ্ধবিরতি কার্যকর আছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এখন ইরানের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায়, যা প্রথমে যুদ্ধ বন্ধের দিকেই অগ্রসর হবে—এরপর পারমাণবিক ইস্যুসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা শুরু হতে পারে।

ইরানের মেহর সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, শুক্রবার হরমুজ প্রণালীর কাছে সিরিক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই সঙ্গে দাবি করা হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে ওই এলাকায় মার্কিন নৌবাহিনীর হামলায় একটি বাণিজ্যিক ইরানি জাহাজের ১০ জন আহত এবং পাঁচজন নিখোঁজ হয়েছেন।

ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলার সময় তিনটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ারে হামলা হয়েছিল, তবে তারা নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছেছে এবং কোনো ক্ষতি হয়নি। তিনি আরও বলেন, মার্কিন বাহিনী পাল্টা জবাব দিয়েছে।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী জানায়, একটি F/A-18 যুদ্ধবিমান দুটি ইরানি ট্যাংকারকে অচল করে দিয়েছে, যাতে তারা গন্তব্যে যেতে না পারে।

ইরান অবশ্য পাল্টা অভিযোগ করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি ভেঙেছে এবং বেসামরিক এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে। ইরানি সামরিক সূত্র দাবি করেছে, তারা পাল্টা আঘাত হেনেছে এবং মার্কিন নৌবাহিনীর কিছু লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষতি হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র সেই দাবি অস্বীকার করেছে।

এই উত্তেজনা শুধু জলপথেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত দুইটি ক্ষেপণাস্ত্র ও তিনটি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে, এতে তিনজন আহত হয়েছেন।

এদিকে তেলবাজারে বড় কোনো পরিবর্তন না হলেও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি স্থির রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী প্রথমে যুদ্ধ শেষ করতে হবে, তারপর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালী নিয়ে আলোচনা হবে। ইরান এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।

ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না—এ বিষয়ে তারা নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। তবে ইরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।

পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। ট্রাম্পের ভাষায়, “এটা হতে পারে, আবার নাও হতে পারে—তবে যে কোনো দিনই সমঝোতা হতে পারে।”