হরমুজে আবার উত্তেজনা, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পাল্টাপাল্টি হামলা
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:৪৬:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
- / 14
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার দাবি করলেও হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলায় আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরিস্থিতি। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল রয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালিতে তিনটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ইরান হামলা চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা সামরিক আঘাত হানে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, ইরান ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌযান ব্যবহার করে হামলার চেষ্টা চালায়। যদিও কোনো মার্কিন জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। পরে ইরানের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
অন্যদিকে ইরানের সামরিক কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রই একটি তেলবাহী জাহাজ ও আরেকটি জাহাজে হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করেছে। এর জবাব হিসেবেই মার্কিন যুদ্ধজাহাজে আঘাত হানা হয়েছে।
গত ৮ এপ্রিল কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে কয়েক সপ্তাহের সংঘাত সাময়িকভাবে থেমে যায়। ওই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পাল্টা জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় আঘাত হানে এবং বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচলও সীমিত করে।
এর মধ্যেই নতুন সমঝোতার সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু সর্বশেষ সংঘর্ষের পর তিনি আবারও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দ্রুত সমঝোতা না হলে আরও শক্ত জবাব দেওয়া হবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের কাছে খুব শিগগিরই নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবে তেহরান।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ অবশ্য আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, বর্তমান যুদ্ধবিরতি দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পথ তৈরি করতে পারে।
এদিকে সংঘাতের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে লেবাননেও। দক্ষিণ বৈরুতে ইসরায়েলি হামলায় হিজবুল্লাহর এক কমান্ডার নিহত হওয়ার পর নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আগামী ১৪ ও ১৫ মে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে প্রায় দেড় হাজার জাহাজ এবং ২০ হাজারের বেশি নাবিক আটকা পড়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা।



































