ঢাকা ০৭:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ অবরোধেও ইরানের সামরিক শক্তি অপরিবর্তিত: সিআইএ

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:৩৭:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
  • / 9

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র একটি গোপন মূল্যায়নে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালী অবরোধ এবং চলমান মার্কিন চাপ সত্ত্বেও ইরানের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে অক্ষুণ্ণ রয়েছে।

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, হোয়াইট হাউসে জমা দেওয়া এই বিশ্লেষণ ট্রাম্প প্রশাসনের প্রকাশ্য দাবির সঙ্গে বড় ধরনের পার্থক্য তুলে ধরেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারের বড় অংশ এখনো কার্যকর অবস্থায় রয়েছে। একই সঙ্গে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও ধারণার চেয়ে বেশি অক্ষত আছে বলে মূল্যায়নে উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্র যেখানে দাবি করছে ইরানের সামরিক সক্ষমতা প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে, সিআইএর বিশ্লেষণ সেখানে ভিন্ন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

গোপন ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আঘাতপ্রাপ্ত কিছু ভূগর্ভস্থ অস্ত্রভাণ্ডার পুনরায় সচল করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার একটি অংশ ইতোমধ্যে মেরামত করা সম্ভব হয়েছে।

এমনকি পূর্বে ক্ষতিগ্রস্ত বলে মনে করা অনেক ইউনিট আবারও কার্যক্রমে ফিরেছে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

অর্থনৈতিক চাপ নিয়েও প্রতিবেদনে তুলনামূলক সতর্ক মূল্যায়ন এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও তেল রপ্তানির ওপর চাপ থাকলেও ইরান বিকল্প স্থলপথ ব্যবহার করে আংশিকভাবে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারছে বলে মনে করছে সিআইএ। ফলে অর্থনৈতিক সংকট যে গতিতে গভীর হওয়ার কথা বলা হচ্ছিল, বাস্তবে তা ততটা দ্রুত ঘটছে না।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা ওয়াশিংটন পোস্টকে জানান, ইরানের নেতৃত্ব এখন আরও কঠোর ও সংগঠিত অবস্থানে রয়েছে। তাদের ধারণা, দীর্ঘমেয়াদে চাপ মোকাবিলার সক্ষমতা ধরে রাখা এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ শক্ত রাখা এখন তাদের প্রধান কৌশল।

প্রতিবেদনে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, ইরান আবার বড় পরিসরে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন শুরু করতে আগের চেয়ে কম সময় নিচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বা কোনো সমঝোতার সুযোগ আরও সংকুচিত হয়ে আসতে পারে।

উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী গত সংঘাত শুরুর পর থেকে কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। এই পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত গ্যাস পরিবাহিত হয়।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরের ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে জাহাজ চলাচলে কড়াকড়ি জারি করেছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

হরমুজ অবরোধেও ইরানের সামরিক শক্তি অপরিবর্তিত: সিআইএ

সর্বশেষ আপডেট ০৪:৩৭:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র একটি গোপন মূল্যায়নে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালী অবরোধ এবং চলমান মার্কিন চাপ সত্ত্বেও ইরানের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে অক্ষুণ্ণ রয়েছে।

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, হোয়াইট হাউসে জমা দেওয়া এই বিশ্লেষণ ট্রাম্প প্রশাসনের প্রকাশ্য দাবির সঙ্গে বড় ধরনের পার্থক্য তুলে ধরেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারের বড় অংশ এখনো কার্যকর অবস্থায় রয়েছে। একই সঙ্গে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও ধারণার চেয়ে বেশি অক্ষত আছে বলে মূল্যায়নে উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্র যেখানে দাবি করছে ইরানের সামরিক সক্ষমতা প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে, সিআইএর বিশ্লেষণ সেখানে ভিন্ন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

গোপন ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আঘাতপ্রাপ্ত কিছু ভূগর্ভস্থ অস্ত্রভাণ্ডার পুনরায় সচল করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার একটি অংশ ইতোমধ্যে মেরামত করা সম্ভব হয়েছে।

এমনকি পূর্বে ক্ষতিগ্রস্ত বলে মনে করা অনেক ইউনিট আবারও কার্যক্রমে ফিরেছে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

অর্থনৈতিক চাপ নিয়েও প্রতিবেদনে তুলনামূলক সতর্ক মূল্যায়ন এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও তেল রপ্তানির ওপর চাপ থাকলেও ইরান বিকল্প স্থলপথ ব্যবহার করে আংশিকভাবে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারছে বলে মনে করছে সিআইএ। ফলে অর্থনৈতিক সংকট যে গতিতে গভীর হওয়ার কথা বলা হচ্ছিল, বাস্তবে তা ততটা দ্রুত ঘটছে না।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা ওয়াশিংটন পোস্টকে জানান, ইরানের নেতৃত্ব এখন আরও কঠোর ও সংগঠিত অবস্থানে রয়েছে। তাদের ধারণা, দীর্ঘমেয়াদে চাপ মোকাবিলার সক্ষমতা ধরে রাখা এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ শক্ত রাখা এখন তাদের প্রধান কৌশল।

প্রতিবেদনে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, ইরান আবার বড় পরিসরে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন শুরু করতে আগের চেয়ে কম সময় নিচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বা কোনো সমঝোতার সুযোগ আরও সংকুচিত হয়ে আসতে পারে।

উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী গত সংঘাত শুরুর পর থেকে কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। এই পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত গ্যাস পরিবাহিত হয়।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরের ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে জাহাজ চলাচলে কড়াকড়ি জারি করেছে।