ঢাকা ০৫:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তেল সংকট কাটিয়ে চালু হচ্ছে ইস্টার্ন রিফাইনারি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:১৩:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
  • / 15

২২ দিন পর চালু হচ্ছে ইস্টার্ন রিফাইনারি

কাঁচামাল সংকটে প্রায় তিন সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড আবার চালুর পথে।

সৌদি আরব থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের নতুন চালান দেশে পৌঁছানোর পর শিগগিরই উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

২২ দিন বন্ধ থাকার পর শোধনাগারটি পুনরায় চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে আনা এক লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েলবাহী ট্যাংকার ‘এমটি নাইনমিয়া’ ইতোমধ্যে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া পয়েন্টে নোঙর করেছে।

জাহাজটি ২০ এপ্রিল ইয়ানবু থেকে যাত্রা শুরু করে ২১ এপ্রিল চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয়।

বিপিসি ও বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) যৌথ ব্যবস্থাপনায় আনা এই চালানটি বর্তমানে লাইটারিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ছোট জাহাজে স্থানান্তর করা হচ্ছে।

মোট আটটি লাইটার ভেসেল ব্যবহার করে তেল চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সংলগ্ন ডলফিন জেটিতে নেওয়া হবে। সেখান থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি ইস্টার্ন রিফাইনারির স্টোরেজ ট্যাংকে সরবরাহ করা হবে।

কর্মকর্তারা আশা করছেন, সব প্রক্রিয়া শেষ করে ৭ মে থেকে শোধনাগারটি পূর্ণ সক্ষমতায় আবার চালু করা সম্ভব হবে।

বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছেন, ইয়ানবু থেকে আনা এই এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নির্ধারিত সময়েই খালাস সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। তার মতে, পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে ৯ থেকে ১০ দিন সময় লাগতে পারে।

গত ১৪ এপ্রিল কাঁচামাল সংকটে ইস্টার্ন রিফাইনারির দুটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। এতে দেশের জ্বালানি উৎপাদন ব্যবস্থায় সাময়িক চাপ তৈরি হয়। নতুন চালানটি আসায় সেই সংকট অনেকটাই কাটিয়ে ওঠার আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, এই এক লাখ টন ক্রুড অয়েল থেকে প্রায় ২৬ হাজার টন ডিজেল, ২৪ হাজার টন ফার্নেস অয়েল, ১৬ হাজার টন পেট্রোল, ২১ হাজার টন কেরোসিন এবং ৮ হাজার টন অকটেন উৎপাদন সম্ভব হবে।

জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই পরিমাণ কাঁচামাল দিয়ে শোধনাগারটি প্রায় ২৫ দিন চলতে পারবে। এরই মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর থেকে আরও একটি এক লাখ টনের চালান আসার কথা রয়েছে, যা মে মাসের শেষ দিকে দেশে পৌঁছাতে পারে।

এদিকে মে মাসের শেষ দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর থেকে আরেকটি বড় চালান আসার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে বিপিসি। এতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

তেল সংকট কাটিয়ে চালু হচ্ছে ইস্টার্ন রিফাইনারি

সর্বশেষ আপডেট ০৪:১৩:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

কাঁচামাল সংকটে প্রায় তিন সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড আবার চালুর পথে।

সৌদি আরব থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের নতুন চালান দেশে পৌঁছানোর পর শিগগিরই উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

২২ দিন বন্ধ থাকার পর শোধনাগারটি পুনরায় চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে আনা এক লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েলবাহী ট্যাংকার ‘এমটি নাইনমিয়া’ ইতোমধ্যে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া পয়েন্টে নোঙর করেছে।

জাহাজটি ২০ এপ্রিল ইয়ানবু থেকে যাত্রা শুরু করে ২১ এপ্রিল চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয়।

বিপিসি ও বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) যৌথ ব্যবস্থাপনায় আনা এই চালানটি বর্তমানে লাইটারিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ছোট জাহাজে স্থানান্তর করা হচ্ছে।

মোট আটটি লাইটার ভেসেল ব্যবহার করে তেল চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সংলগ্ন ডলফিন জেটিতে নেওয়া হবে। সেখান থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি ইস্টার্ন রিফাইনারির স্টোরেজ ট্যাংকে সরবরাহ করা হবে।

কর্মকর্তারা আশা করছেন, সব প্রক্রিয়া শেষ করে ৭ মে থেকে শোধনাগারটি পূর্ণ সক্ষমতায় আবার চালু করা সম্ভব হবে।

বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছেন, ইয়ানবু থেকে আনা এই এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নির্ধারিত সময়েই খালাস সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। তার মতে, পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে ৯ থেকে ১০ দিন সময় লাগতে পারে।

গত ১৪ এপ্রিল কাঁচামাল সংকটে ইস্টার্ন রিফাইনারির দুটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। এতে দেশের জ্বালানি উৎপাদন ব্যবস্থায় সাময়িক চাপ তৈরি হয়। নতুন চালানটি আসায় সেই সংকট অনেকটাই কাটিয়ে ওঠার আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, এই এক লাখ টন ক্রুড অয়েল থেকে প্রায় ২৬ হাজার টন ডিজেল, ২৪ হাজার টন ফার্নেস অয়েল, ১৬ হাজার টন পেট্রোল, ২১ হাজার টন কেরোসিন এবং ৮ হাজার টন অকটেন উৎপাদন সম্ভব হবে।

জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই পরিমাণ কাঁচামাল দিয়ে শোধনাগারটি প্রায় ২৫ দিন চলতে পারবে। এরই মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর থেকে আরও একটি এক লাখ টনের চালান আসার কথা রয়েছে, যা মে মাসের শেষ দিকে দেশে পৌঁছাতে পারে।

এদিকে মে মাসের শেষ দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর থেকে আরেকটি বড় চালান আসার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে বিপিসি। এতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।