ঢাকা ০৪:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাম প্রতিরোধে টিকার বড় চালান দেশে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:৪১:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
  • / 3

দেশজুড়ে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করতে একসঙ্গে হামের ১৫ লাখ ও টিডির ৯ লাখ ডোজ দেশে এসেছে। সরকার বলছে, সরবরাহ বাড়ার ফলে সামনের মাসগুলোতে টিকার ঘাটতি থাকবে না।

বুধবার দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় নতুন এই চালান। ইউনিসেফ ও গাভির সহায়তায় আনা এসব টিকা গ্রহণ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

একটি ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, আগের কিছু নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে ইপিআই কর্মসূচি কিছুটা ধাক্কা খেয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বর্তমান প্রশাসন বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করার পথে হাঁটছে। ওপেন টেন্ডারের পরিবর্তে সরাসরি ইউনিসেফের মাধ্যমে সংগ্রহের সিদ্ধান্তও সেই প্রেক্ষাপটেই নেওয়া হয়েছে।

সরকার ইতোমধ্যে ইউনিসেফকে ৮৩.৬ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে, যার মাধ্যমে ১০ ধরনের প্রায় ৯৫ মিলিয়ন ডোজ টিকা আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে ৩ মে আইপিভি টিকার একটি চালান আসে। তার পরপরই নতুন করে এমআর ও টিডি টিকা পৌঁছাল।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ১০ মে’র মধ্যে আরও বড় চালান আসার কথা—সংখ্যাটা প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ডোজের কাছাকাছি হতে পারে। সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুরো সরবরাহ সম্পন্ন করার লক্ষ্য ধরা হয়েছে। এদিকে দেশে চলমান ‘হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’ ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে।

৫ মে পর্যন্ত ১ কোটি ৬৮ লাখের বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ৯৩ শতাংশের কাছাকাছি। বাকি অংশও শিগগির সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

তিনি আরও জানান, টাইফয়েড ও এইচপিভি টিকার পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। নতুন চালান যুক্ত হওয়ায় আগামী কয়েক মাসে অন্য টিকার সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা কম। টিকার মান ঠিক রাখতে কোল্ড চেইন ব্যবস্থাও সক্রিয় রাখা হয়েছে, যেখানে ইউনিসেফ কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে।

শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করতে অভিভাবক, শিক্ষক, স্থানীয় নেতৃত্ব ও ধর্মীয় ব্যক্তিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন—এমন আহ্বানও জানান তিনি। পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগীদের অবদান স্বীকার করে কর্মসূচি আরও শক্তিশালী করার ইঙ্গিত দেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

হাম প্রতিরোধে টিকার বড় চালান দেশে

সর্বশেষ আপডেট ০৩:৪১:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

দেশজুড়ে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করতে একসঙ্গে হামের ১৫ লাখ ও টিডির ৯ লাখ ডোজ দেশে এসেছে। সরকার বলছে, সরবরাহ বাড়ার ফলে সামনের মাসগুলোতে টিকার ঘাটতি থাকবে না।

বুধবার দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় নতুন এই চালান। ইউনিসেফ ও গাভির সহায়তায় আনা এসব টিকা গ্রহণ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

একটি ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, আগের কিছু নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে ইপিআই কর্মসূচি কিছুটা ধাক্কা খেয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বর্তমান প্রশাসন বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করার পথে হাঁটছে। ওপেন টেন্ডারের পরিবর্তে সরাসরি ইউনিসেফের মাধ্যমে সংগ্রহের সিদ্ধান্তও সেই প্রেক্ষাপটেই নেওয়া হয়েছে।

সরকার ইতোমধ্যে ইউনিসেফকে ৮৩.৬ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে, যার মাধ্যমে ১০ ধরনের প্রায় ৯৫ মিলিয়ন ডোজ টিকা আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে ৩ মে আইপিভি টিকার একটি চালান আসে। তার পরপরই নতুন করে এমআর ও টিডি টিকা পৌঁছাল।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ১০ মে’র মধ্যে আরও বড় চালান আসার কথা—সংখ্যাটা প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ডোজের কাছাকাছি হতে পারে। সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুরো সরবরাহ সম্পন্ন করার লক্ষ্য ধরা হয়েছে। এদিকে দেশে চলমান ‘হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’ ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে।

৫ মে পর্যন্ত ১ কোটি ৬৮ লাখের বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ৯৩ শতাংশের কাছাকাছি। বাকি অংশও শিগগির সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

তিনি আরও জানান, টাইফয়েড ও এইচপিভি টিকার পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। নতুন চালান যুক্ত হওয়ায় আগামী কয়েক মাসে অন্য টিকার সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা কম। টিকার মান ঠিক রাখতে কোল্ড চেইন ব্যবস্থাও সক্রিয় রাখা হয়েছে, যেখানে ইউনিসেফ কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে।

শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করতে অভিভাবক, শিক্ষক, স্থানীয় নেতৃত্ব ও ধর্মীয় ব্যক্তিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন—এমন আহ্বানও জানান তিনি। পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগীদের অবদান স্বীকার করে কর্মসূচি আরও শক্তিশালী করার ইঙ্গিত দেন।