মামলা যাচাইয়ে জেলা থেকে তালিকা চায় সরকার
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:২০:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
- / 15
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলার প্রকৃতি খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে বিস্তারিত তালিকা চেয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। লক্ষ্য—প্রকৃত আসামি শনাক্ত করা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার ক্ষেত্রে আইনি ছাড় দেওয়ার পথ খোঁজা।
ঢাকায় ডিসি সম্মেলনের শেষ দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর যে সব মামলা হয়েছে—বিশেষত আন্দোলন-সংক্রান্ত ও মানবতাবিরোধী অভিযোগের—সেগুলো একসঙ্গে পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, নিজ নিজ জেলার মামলার সংখ্যা ও ধরন অনুযায়ী তালিকা দ্রুত পাঠাতে।
মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক মামলায় বিপুলসংখ্যক মানুষকে আসামি করা হয়েছে—যার মধ্যে প্রকৃত সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। তাই তদন্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রতিটি মামলা আলাদাভাবে যাচাই করা হবে। এতে করে প্রকৃত অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা যেমন সম্ভব হতে পারে, তেমনি অযথা জড়ানো ব্যক্তিরাও হয়তো আইনি স্বস্তি পেতে পারেন।
তিনি ইঙ্গিত দেন, কিছু মামলা ইচ্ছাকৃতভাবে বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়ে থাকতে পারে। সেসব ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া মেনে সুপারিশ করা হবে যেন নির্দোষ ব্যক্তিরা অব্যাহতি পান। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি আইনানুগ পথেই এগোবে—এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট।
সময়সীমা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে মন্ত্রী বলেন, তালিকা পাঠাতে মৌখিকভাবে সর্বোচ্চ এক মাস সময় ধরা হয়েছে। যদিও কোনো জেলায় বিলম্ব হলে তা বিবেচনায় নেওয়া হবে, বিশেষ করে যদি ন্যায়বিচারের প্রশ্ন জড়িত থাকে।
জেলা পর্যায়ে গঠিত কমিটির কথাও তিনি উল্লেখ করেন—যেখানে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিরা আছেন। এই কমিটি অভিযোগ গ্রহণ করছে। সংশ্লিষ্টদের এফআইআর, চার্জশিট বা অন্যান্য কাগজপত্রসহ আবেদন করতে বলা হয়েছে। যাচাই শেষে উপযুক্ত মনে হলে মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হবে।
পুরো প্রক্রিয়ার ধাপও তিনি ব্যাখ্যা করেন। প্রথমে সুপারিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসবে, সেখান থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। আইনমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি কমিটি সেটি যাচাই-বাছাই করবে। অনুমোদন পেলে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৪ ধারায় মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, অতীতে কিছু গুরুতর মামলা—যেমন হত্যা, অস্ত্র, নারী নির্যাতন বা মাদকসংক্রান্ত—এই প্রক্রিয়ার বাইরে ছিল। এখন সেগুলোকেও নতুনভাবে বিবেচনায় আনা হচ্ছে। তার মতে, রাজনৈতিক বিরোধীদের লক্ষ্য করে এমন অনেক মামলাও করা হয়েছিল, যেখানে অভিযোগের প্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
তিনি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও টানেন—দাবি করেন, তার বিরুদ্ধেও হত্যা ও অস্ত্র মামলাসহ একাধিক মামলা হয়েছিল। একই ধরনের অভিযোগ অন্য অনেক রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধেও আনা হয়েছিল, যা এখন পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজন তৈরি করেছে বলে মনে করেন তিনি।































