বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামীর ছোট ছেলে, শিক্ষাবিদ ড. মোহাম্মদ নাদিমুর রহমান জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-তে যোগ দিয়েছেন। দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলামোটরের রূপায়ন টাওয়ারে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ যোগদানের ঘোষণা দেওয়া হয়। ‘রাজনৈতিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিকের যোগদান’ শীর্ষক এই আয়োজনে আরও কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি নতুনভাবে এনসিপিতে যুক্ত হন।
এদের মধ্যে ছিলেন ফরায়েজী আন্দোলনের নেতা হাজী শরীয়তুল্লাহর বংশধর আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন এবং মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক এমএইচ আরিফ। পাশাপাশি ‘ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’ নামে পরিচিত একটি প্ল্যাটফর্মের নেতারাও দলে যোগ দেন। সংগঠনটির সভাপতি মো. সালমান হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান জিসান এবং সহ-সভাপতি মো. আতিকুল ইসলাম গাজী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদসহ অন্যান্য নেতারা। নতুন যোগদানকারীদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়—একটি আনুষ্ঠানিকতা, তবে রাজনৈতিক বার্তাটিও স্পষ্ট।
আসিফ মাহমুদ বক্তব্যে দাবি করেন, বিএনপির ভেতরে অসন্তোষ ধীরে ধীরে বাড়ছে এবং সেটি নতুন প্রজন্মের মধ্যেও প্রতিফলিত হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দলটির কিছু শীর্ষ নেতার সন্তানেরাও বিকল্প রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম খুঁজছেন এবং ভবিষ্যতে তাদের কেউ কেউ এনসিপিতে যুক্ত হতে পারেন।
সরকার নিয়েও তিনি হতাশার সুরে কথা বলেন। জুলাই সনদ ও গণভোটের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি—এমন অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ দীর্ঘস্থায়ী হয় না, ইতিহাস সেটিই দেখায়।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গেও কড়া সমালোচনা শোনা যায় তাঁর বক্তব্যে। নির্বাচনের পরিবর্তে প্রশাসক নিয়োগের প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি দ্রুত নির্বাচনের আহ্বান জানান। ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষায় তিনি সতর্ক করেন—অতীতের কিছু শাসনব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি হলে তার পরিণতিও আলাদা হবে না।
আঞ্চলিক রাজনীতি নিয়েও সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করেন এনসিপির এই নেতা। পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনকে সামনে রেখে তিনি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করেন, তবে একই সঙ্গে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরের হস্তক্ষেপ না চাওয়ার অবস্থানও স্পষ্ট করেন।