মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় চীনের পাল্টা হুঁশিয়ারি
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩৪:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
- / 9
মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। নিজেদের কোম্পানির স্বার্থ রক্ষায় পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে বেইজিং, যা দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন করে উত্তেজনার মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞা পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে চীন। বেইজিংয়ের দাবি, চীনা কোম্পানিগুলোর ওপর আরোপিত এই নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং একতরফা চাপ প্রয়োগের উদাহরণ।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈধ অধিকার সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
চীনের অভিযোগ, ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরেই ‘লং-আর্ম জুরিসডিকশন’ প্রয়োগ করে নিজস্ব আইন অন্য দেশের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। এই প্রবণতাকে তারা ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে দেখছে। লিন জিয়ান যুক্তরাষ্ট্রকে এ ধরনের নীতি থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেন—বেইজিং নীরব দর্শক হয়ে থাকবে না।
গত শুক্রবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ইরান সংশ্লিষ্ট নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। এতে চীনের একটি বড় স্বাধীন শোধনাগারসহ প্রায় ৪০টি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বিশেষ করে শানডং প্রদেশের তথাকথিত ‘টি-পট’ রিফাইনারি এবং হেংলি পেট্রোকেমিক্যালকে ইরানের সঙ্গে অবৈধ তেল বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে টার্গেট করা হয়েছে।
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, ইরানের তেল বাণিজ্য সীমিত করাই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য। তবে বেইজিংয়ের দৃষ্টিতে, বিষয়টি শুধু ইরান নয়—বরং বৈশ্বিক বাজারে প্রভাব বিস্তারের কৌশল। চীনের মতে, নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পিতভাবে চীনা কোম্পানিগুলোকে নিশানা বানাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আবারও চাপের মুখে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এর প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং সরবরাহ শৃঙ্খলেও পড়তে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠছে।
চীন ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে, প্রয়োজনে আইনি বা অর্থনৈতিক পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বেইজিং মনে করছে, ইরানের তেলের বড় ক্রেতা হিসেবে তাদের ওপর চাপ তৈরি করতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে।
এখন নজর রয়েছে আগামী ১৪ মে নির্ধারিত বৈঠকের দিকে, যেখানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে নিষেধাজ্ঞা ও জ্বালানি বাণিজ্য ইস্যু কীভাবে সামনে আসে, সেটিই হতে পারে পরবর্তী পরিস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ সূচক।





































