ঢাকা ০৮:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুরগি-সবজিতে স্বস্তি, মাছ-মাংসে অস্বস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৪:৪৫:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • / 29

রাজধানীর বাজারে একদিকে কিছু পণ্যের দাম কমে স্বস্তির আভাস মিলছে, অন্যদিকে মাছ-মাংসসহ নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দাম সেই স্বস্তিকে অনেকটাই ম্লান করে দিচ্ছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মুরগির দামে গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। সোনালি মুরগি এখন ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকা এবং ব্রয়লার ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবজির বাজারেও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে। পটল, করলা ও অন্যান্য গ্রীষ্মকালীন সবজি ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে।

তবে এই স্বস্তি পুরো বাজারে নেই। মাছের বাজারে গিয়ে উল্টো চিত্র দেখা যায়। মাঝারি রুই ৩৪০ থেকে ৩৭০ টাকা এবং বড় রুই ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া, পাবদা, শোল ও টেংরার মতো মাছের দামও কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মাংসের বাজারেও চাপ কমেনি—গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতা আলমগীর বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। আগে যেখানে ট্রাকভাড়া কিছুটা স্থিতিশীল ছিল, এখন তা কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তার মতে, এই বাড়তি খরচ পণ্যের দামে সরাসরি প্রভাব ফেলছে, আর সেই চাপ শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদেরই বহন করতে হচ্ছে।

ক্রেতা রফিকুল জানান, মুরগি ও সবজির দাম কমায় সামান্য স্বস্তি মিললেও মাছ ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম এতটাই বেশি যে মোট বাজার খরচ কমছে না। তিনি বলেন, মাসের বাজার এখন অনেক বেশি ভারী হয়ে উঠেছে।

এদিকে ক্রেতা সুমি আক্তার বলেন, ডিম, পেঁয়াজসহ প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় জিনিসের দামও বাড়ছে। আগে যে টাকায় কয়েক দিনের বাজার হতো, এখন তা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে।

এর প্রভাব চাল, চিনি ও ডিমের বাজারেও পড়েছে। মাঝারি মানের চাল কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বেড়েছে। এক ডজন ডিম এখন ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল প্রায় ১১০ টাকা। চিনি ও পেঁয়াজের দামও কেজিতে প্রায় পাঁচ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে।

চিনি এখন প্রায় ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তেলের সরবরাহ অনিশ্চিত থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে খোলা তেল কিনছেন, যা খরচ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মুরগি-সবজিতে স্বস্তি, মাছ-মাংসে অস্বস্তি

সর্বশেষ আপডেট ০৪:৪৫:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

রাজধানীর বাজারে একদিকে কিছু পণ্যের দাম কমে স্বস্তির আভাস মিলছে, অন্যদিকে মাছ-মাংসসহ নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দাম সেই স্বস্তিকে অনেকটাই ম্লান করে দিচ্ছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মুরগির দামে গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। সোনালি মুরগি এখন ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকা এবং ব্রয়লার ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবজির বাজারেও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে। পটল, করলা ও অন্যান্য গ্রীষ্মকালীন সবজি ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে।

তবে এই স্বস্তি পুরো বাজারে নেই। মাছের বাজারে গিয়ে উল্টো চিত্র দেখা যায়। মাঝারি রুই ৩৪০ থেকে ৩৭০ টাকা এবং বড় রুই ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া, পাবদা, শোল ও টেংরার মতো মাছের দামও কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মাংসের বাজারেও চাপ কমেনি—গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতা আলমগীর বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। আগে যেখানে ট্রাকভাড়া কিছুটা স্থিতিশীল ছিল, এখন তা কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তার মতে, এই বাড়তি খরচ পণ্যের দামে সরাসরি প্রভাব ফেলছে, আর সেই চাপ শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদেরই বহন করতে হচ্ছে।

ক্রেতা রফিকুল জানান, মুরগি ও সবজির দাম কমায় সামান্য স্বস্তি মিললেও মাছ ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম এতটাই বেশি যে মোট বাজার খরচ কমছে না। তিনি বলেন, মাসের বাজার এখন অনেক বেশি ভারী হয়ে উঠেছে।

এদিকে ক্রেতা সুমি আক্তার বলেন, ডিম, পেঁয়াজসহ প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় জিনিসের দামও বাড়ছে। আগে যে টাকায় কয়েক দিনের বাজার হতো, এখন তা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে।

এর প্রভাব চাল, চিনি ও ডিমের বাজারেও পড়েছে। মাঝারি মানের চাল কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বেড়েছে। এক ডজন ডিম এখন ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল প্রায় ১১০ টাকা। চিনি ও পেঁয়াজের দামও কেজিতে প্রায় পাঁচ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে।

চিনি এখন প্রায় ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তেলের সরবরাহ অনিশ্চিত থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে খোলা তেল কিনছেন, যা খরচ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।