ঢাকা ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্থানীয় গণমাধ্যম পেশাজীবীদের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:৩৯:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
  • / 131

প্রযুক্তির সহায়তায় সংঘটিত জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সাংবাদিকদের সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা জোরদার করার লক্ষ্যে বরিশালে স্থানীয় গণমাধ্যম পেশাজীবীদের জন্য দিনব্যাপী এক দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও এন্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি)-এর উদ্যোগে ‘প্রযুক্তির সহায়তায় সংঘটিত জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা (টিএফজিবিভি): প্রতিরোধ ও করণীয়’ শীর্ষক এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয় বরিশাল সদর রোডের বিডিএস মিলনায়তন-এ। এতে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

কর্মশালার সভাপতিত্ব করেন স্পিড ট্রাস্ট, বরিশালের মিশন হেড এএইচএম শামসুল ইসলাম দীপু এবং সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন ম্যাপ বরিশালের নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর চক্রবর্তী। কর্মশালার মূল প্রবন্ধও উপস্থাপন করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোঃ আহসান হাবিব।

আয়োজকরা জানান, ‘স্ট্রেনদেনিং রেজিলিয়েন্স এগেইনস্ট টেকনোলজি ফেসিলিটেটেড জেন্ডার বেইসড ভায়োলেন্স (টিএফজিবিভি) এন্ড প্রমোটিং ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের আওতায় এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। প্রকল্পটি নাগরিকতা: সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড (সিইএফ) কর্মসূচির অংশ, যা সুইজারল্যান্ড, গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং জিএফএ কনসালটিং গ্রুপ-এর কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।

কর্মশালায় প্যানেল স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেন এস এম আমজাদ হোসেন, আজাদ আলাউদ্দিন, কমল সেনগুপ্ত, সুমন চৌধুরী, সাইদুর রহমান পান্থ, খালিদ সাইফুল্লাহ, জিয়া শাহিন, প্রাচুর্য রানা, খান রফিক, মর্জিনা বেগম এবং মোঃ হুমায়ুন কবির। এছাড়া মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন রাজিব দাস, মুরাদ আহমেদ, বিধান সরকার, জসিম আহমেদ ও মেহেদি হাসান।

স্বাগত বক্তব্যে এএইচএম শামসুল ইসলাম দীপু কর্মশালার লক্ষ্য ও প্রত্যাশিত ফলাফল তুলে ধরে বলেন, প্রযুক্তির বিস্তারের সাথে সাথে অনলাইনে বিশেষ করে নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল প্রতিবেদন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বক্তারা বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসারের ফলে নারীরা বিভিন্নভাবে অনলাইন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ডিজিটাল সহিংসতার অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছেন। তাই এ বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জরুরি।

আলোচনায় বক্তারা সরকারের উদ্যোগ পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন হেল্পলাইন (০১৩২০০০০৮৮৮) এবং cybersupport.women@police.gov.bd ইমেইলের মাধ্যমে সহায়তা পাওয়ার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধান অতিথি আহসান হাবিব বলেন, “সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। তারা সমাজের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করেন। তাই ডিজিটাল জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। দেশের অর্ধেক জনশক্তিই নারী, তাই তাদের ডিজিটালভাবে সচেতন ও অগ্রগামী করে তোলা আমাদের সবার দায়িত্ব।”

কর্মশালার ‘ডিপ ডাইভ’ সেশনে জেলা পর্যায়ে টিএফজিবিভি-সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা করা হয়। সেশনটি পরিচালনা করেন পঙ্কজ রায় চৌধুরী।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে পেশাগতভাবে সক্রিয় ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। আয়োজকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ এবং নারীদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলতে গণমাধ্যমের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

স্থানীয় গণমাধ্যম পেশাজীবীদের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা

সর্বশেষ আপডেট ১০:৩৯:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

প্রযুক্তির সহায়তায় সংঘটিত জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সাংবাদিকদের সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা জোরদার করার লক্ষ্যে বরিশালে স্থানীয় গণমাধ্যম পেশাজীবীদের জন্য দিনব্যাপী এক দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও এন্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি)-এর উদ্যোগে ‘প্রযুক্তির সহায়তায় সংঘটিত জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা (টিএফজিবিভি): প্রতিরোধ ও করণীয়’ শীর্ষক এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয় বরিশাল সদর রোডের বিডিএস মিলনায়তন-এ। এতে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

কর্মশালার সভাপতিত্ব করেন স্পিড ট্রাস্ট, বরিশালের মিশন হেড এএইচএম শামসুল ইসলাম দীপু এবং সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন ম্যাপ বরিশালের নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর চক্রবর্তী। কর্মশালার মূল প্রবন্ধও উপস্থাপন করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোঃ আহসান হাবিব।

আয়োজকরা জানান, ‘স্ট্রেনদেনিং রেজিলিয়েন্স এগেইনস্ট টেকনোলজি ফেসিলিটেটেড জেন্ডার বেইসড ভায়োলেন্স (টিএফজিবিভি) এন্ড প্রমোটিং ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের আওতায় এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। প্রকল্পটি নাগরিকতা: সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড (সিইএফ) কর্মসূচির অংশ, যা সুইজারল্যান্ড, গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং জিএফএ কনসালটিং গ্রুপ-এর কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।

কর্মশালায় প্যানেল স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেন এস এম আমজাদ হোসেন, আজাদ আলাউদ্দিন, কমল সেনগুপ্ত, সুমন চৌধুরী, সাইদুর রহমান পান্থ, খালিদ সাইফুল্লাহ, জিয়া শাহিন, প্রাচুর্য রানা, খান রফিক, মর্জিনা বেগম এবং মোঃ হুমায়ুন কবির। এছাড়া মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন রাজিব দাস, মুরাদ আহমেদ, বিধান সরকার, জসিম আহমেদ ও মেহেদি হাসান।

স্বাগত বক্তব্যে এএইচএম শামসুল ইসলাম দীপু কর্মশালার লক্ষ্য ও প্রত্যাশিত ফলাফল তুলে ধরে বলেন, প্রযুক্তির বিস্তারের সাথে সাথে অনলাইনে বিশেষ করে নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল প্রতিবেদন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বক্তারা বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসারের ফলে নারীরা বিভিন্নভাবে অনলাইন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ডিজিটাল সহিংসতার অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হচ্ছেন। তাই এ বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জরুরি।

আলোচনায় বক্তারা সরকারের উদ্যোগ পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন হেল্পলাইন (০১৩২০০০০৮৮৮) এবং cybersupport.women@police.gov.bd ইমেইলের মাধ্যমে সহায়তা পাওয়ার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধান অতিথি আহসান হাবিব বলেন, “সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। তারা সমাজের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করেন। তাই ডিজিটাল জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। দেশের অর্ধেক জনশক্তিই নারী, তাই তাদের ডিজিটালভাবে সচেতন ও অগ্রগামী করে তোলা আমাদের সবার দায়িত্ব।”

কর্মশালার ‘ডিপ ডাইভ’ সেশনে জেলা পর্যায়ে টিএফজিবিভি-সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা করা হয়। সেশনটি পরিচালনা করেন পঙ্কজ রায় চৌধুরী।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে পেশাগতভাবে সক্রিয় ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। আয়োজকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ এবং নারীদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলতে গণমাধ্যমের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করবে।