২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনার তদন্ত প্রায় শেষ—চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, শুধু ঢাকাতেই অন্তত ৩২ জনকে হত্যার প্রমাণ মিলেছে; প্রতিবেদন জমা পড়তে পারে ৭ জুনের মধ্যে।
শাপলা চত্বরের বহুল আলোচিত ঘটনাটি আবারও সামনে এলো তদন্তের অগ্রগতির খবরকে ঘিরে। চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলে সংঘটিত সেই সহিংসতার তদন্ত এখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। প্রাথমিকভাবে যে তথ্য উঠে এসেছে, তা ইঙ্গিত দেয়—শুধু রাজধানীতেই অন্তত ৩২ জন নিহত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
রোববার দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ৭ জুনের মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হতে পারে। সময়সীমা বাড়ানোর পর এই অগ্রগতি এসেছে, যা থেকে বোঝা যায় তদন্তকারীরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহে এগিয়েছেন।
এর আগে গত ৫ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ তদন্ত শেষ করতে অতিরিক্ত দুই মাস সময় দেয়। তখনই ধারণা করা হচ্ছিল, মামলাটি একটি স্পর্শকাতর পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং আরও যাচাই-বাছাই প্রয়োজন।
এই ঘটনার সূত্রপাত হয় হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে করা একটি অভিযোগের মাধ্যমে। সংগঠনটির নেতা আজিজুল হক চিফ প্রসিকিউটরের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগে হেফাজতের আরও দুই নেতা—জুনায়েদ আল হাবিব ও মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষ থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
ঘটনাটি বরাবরই রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল। তদন্তের এই পর্যায় হয়তো কিছু প্রশ্নের উত্তর দেবে, তবে একই সঙ্গে নতুন বিতর্কেরও জন্ম দিতে পারে—বিশেষ করে দায় নির্ধারণ ও বিচার প্রক্রিয়া সামনে এগোলে।