গণভোট ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান ‘প্রতারণা’: পরওয়ার
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:৪০:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬
- / 4
গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ ঘিরে সরকারের অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে জামায়াত সেক্রেটারি গোলাম পরওয়ার প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করেছেন; দ্রুত সাংবিধানিক উদ্যোগের আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
গণভোটের ফলাফল এবং তার রাজনৈতিক ব্যাখ্যা ঘিরে আবারও উত্তাপ ছড়াল জাতীয় রাজনীতিতে। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লক্ষ্য করে বলেছেন, জনগণের দেওয়া রায়কে অস্বীকার করা হলে তা এক ধরনের “অন্তহীন প্রতারণা” বলেই প্রতীয়মান হয়। তার বক্তব্যে ইঙ্গিত ছিল—সরকার নিজের ঘোষিত অবস্থান থেকে সরে এসেছে কি না, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।
রোববার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি)-তে আয়োজিত এক জাতীয় কনভেনশনে তিনি এসব কথা বলেন। ‘জ্বালানি, অর্থনীতি, সংস্কার ও গণভোটবিষয়ক’ এই আয়োজনের সমাপনী পর্বে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল জুলাই সনদ ও গণভোটের ফলাফল—যা নিয়ে রাজনৈতিক ব্যাখ্যা এখনো একরৈখিক নয়।
পরওয়ারের দাবি, গণভোটে বিপুলসংখ্যক ভোটার বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট প্রত্যাখ্যান করেছেন। সেই প্রেক্ষাপটে তিনি প্রশ্ন তোলেন—যিনি নিজেই ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে আহ্বান জানিয়েছিলেন, তিনি পরে সংসদে ভিন্ন অবস্থান নিলে তা কীভাবে ব্যাখ্যা করা হবে? তার ভাষায়, এটি শুধু রাজনৈতিক অসঙ্গতি নয়, বরং জনরায়ের প্রতি অমর্যাদার শামিল হতে পারে।
সংকট নিরসনের দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে—এমন অবস্থান থেকে তিনি বিএনপির প্রতি সংসদের আসন্ন বাজেট অধিবেশনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের দাবি জানান। রাজনৈতিক ভাষণে কিছুটা রূপকও টানেন তিনি—বল এখন সরকারের কোর্টে, সময়মতো সিদ্ধান্ত না নিলে তার পরিণতি উল্টোও হতে পারে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি আরও তীব্র সমালোচনা করেন ক্ষমতাসীনদের। তার মতে, একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হলেও ক্ষমতায় যাওয়ার আগে এই প্রশ্নগুলো নিয়ে সরকার নীরব ছিল। অথচ এখন এসে সংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে—যা তার কাছে সময়োচিত বলে মনে হয়নি।
বিএনপির সমালোচনায় তিনি বলেন, সরকার বিরোধীদের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে, অথচ বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে সরকারি অবস্থান থেকেই। গণভোটের রায় ও জুলাই সনদকে আলাদা করে দেখানো হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এতে জনমনে বিভ্রান্তি বাড়ছে বলেই মনে হয়।
সংসদ ও জনগণের ক্ষমতার প্রশ্নেও স্পষ্ট অবস্থান দেন পরওয়ার। তার যুক্তি, সংসদের ক্ষমতা প্রতিনিধিত্বমূলক হলেও গণভোট সরাসরি জনমতের প্রতিফলন—ফলে সেটির গুরুত্ব খাটো করার সুযোগ নেই। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে গণভোটের রায় উপেক্ষা করা হলে তা গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এই কনভেনশনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা, যারা নিজেদের অবস্থান থেকে সংস্কার, গণভোট ও রাষ্ট্রকাঠামো নিয়ে মত তুলে ধরেন। আলোচনার ভেতর দিয়ে স্পষ্ট হয়—গণভোটের ব্যাখ্যা এবং এর রাজনৈতিক পরিণতি নিয়ে মতভেদ এখনো গভীর, এবং তা সহজে মিটবে—এমন ইঙ্গিত অন্তত এই মুহূর্তে মিলছে না।































