যুক্তরাষ্ট্রকে ‘যুদ্ধ নয়তো চুক্তিতে’ আসতে হবে: ইরান
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:৫১:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬
- / 3
অচলাবস্থায় থাকা আলোচনা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রকে হয় সামরিক পথে, নয়তো সমঝোতায় যেতে হবে—এমন অবস্থান জানিয়েছে ইরান; একই সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের সামনে কার্যত দুটি পথ খোলা—একটি সামরিক, অন্যটি কূটনৈতিক। তবে সামরিক পদক্ষেপকে ‘অসম্ভব’ এবং কূটনৈতিক সমঝোতাকে ‘খারাপ চুক্তি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস। রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে এই বার্তা দেওয়া হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চীন, রাশিয়া ও ইউরোপের অবস্থানে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি ইরানের পক্ষ থেকে নির্ধারিত সময়সীমা ও নৌ অবরোধের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়।
এর আগে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের পাঠানো নতুন শান্তি প্রস্তাব তিনি পর্যালোচনা করবেন। তবে সেটি গ্রহণযোগ্য হবে কি না, সে বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করেননি।
গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে আছে। পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত এক দফা শান্তি আলোচনা কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়। এর মধ্যেই ইরান মধ্যস্থতাকারী ইসলামাবাদের কাছে ১৪ দফা প্রস্তাব জমা দিয়েছে বলে দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। প্রস্তাবে সব ধরনের সংঘাত বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনায় নতুন কাঠামোর কথা বলা হয়েছে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেন, এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের—তারা কূটনীতির পথ বেছে নেবে, নাকি সংঘাত বাড়াবে। ইরান উভয় পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
এদিকে ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কার কথা বলছেন। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র কোনো প্রতিশ্রুতি বা চুক্তি মানতে আগ্রহী নয়—এমন অভিজ্ঞতা আগেও রয়েছে।
পারমাণবিক ইস্যুতেও মতপার্থক্য স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কর্মসূচি নতুন করে আলোচনায় আনতে চাইলে তেহরান তা ‘দ্বিচারিতা’ হিসেবে দেখছে। ইরানের মতে, আন্তর্জাতিক তদারকির আওতায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে আইনি বাধা নেই।
এদিকে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে ইরানের নিয়ন্ত্রণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা অবরোধ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলছে। যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে।
লেবানন সীমান্তেও সংঘর্ষ থামেনি। ইসরায়েলের হামলার জবাবে হিজবুল্লাহ পাল্টা আক্রমণের দাবি করেছে। এতে ওই অঞ্চলের পরিস্থিতিও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, যুদ্ধের প্রভাব ইরানের অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে। তেলের রপ্তানি কমে যাওয়া এবং মূল্যস্ফীতি ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠছে।































