ঢাকা ০২:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোন্দলে জর্জরিত রায়পুরা, মাঠের আতঙ্ক পলাতকরা

বশির আহমদ মোল্লা, নরসিংদী
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:৪৪:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 89

নরসিংদীর রায়পুরা একটি অস্থিতিশীল এলাকা; যেখানে প্রতিনিয়ত চলছে শোকের মাতম। কয়েকদিন পরপরই এখানে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে চলে মধ্যযুগীয় কায়দায় চলে মানবীয় জিঘাংসা। প্রতিনিয়ত মারছে এবং মরছে মানুষ; হতাহতের মিছিল দিনদিন হচ্ছে বড়। কর্তৃপক্ষের নজর এদিকে আছে কিনা এটা তারাই ভালভাবে বলতে পারে, এমন প্রশ্ন জনমনে।

গত ৮ ডিসেম্বর-২০২৫ রায়পুরা উপজেলা নিলক্ষা ইউনিয়নের দাড়িগাও গ্রামে মামুন মিয়া নামক তরুণকে শশুর বাড়িতে ঢুকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে এবং পরবর্তীতে গুলি করে হত্যা করে বলে জানা যায়। তাকে বাঁচাতে গিয়ে তারই শশুর ইউনুস মিয়া নিজে গুলিবিদ্ধ হন।

পরবর্তীতে তার মা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন। কিন্তু এতে তুষ্ট নন নিহতের স্ত্রী ইয়াসমিন বেগম। তাই নিহতের স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার দশের অধিক জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে প্রতিনিধিকে মোবাইল ফোনে নিশ্চিত করেছেন। যদি এর সত্যতার প্রমাণ তিনি দিতে পারেননি ইয়াসমিন আক্তার।

মুঠোফোনে তিনি জানান, গত ৮ ডিসেম্বর-২০২৫ তাদের বাসায় নিহত মামুন মিয়া বেড়াতে আসলে প্রতিবেশী কয়েকজন দূর্বৃত্ত তাদের ঘরে ঢুকে মামুন মিয়াকে এলোপাতারি মারতে থাকে পরিশেষে বুকে গুলি করে হত্যা করে। মামুন মিয়াকে বাঁচাতে এসে ইয়াসমিন আক্তার এর বাবা ইউনুস মিয়া ও গুলিবিদ্ধ হোন। ইয়াসমিন আক্তার হাসপাতাল হতে স্বামী মামুন মিয়ার মরদেহ নিয়ে বাসায় আসলে নিহত মামুন মিয়ার স্ত্রী ইয়াসমিনকে তার শশুড়বাড়ির লোকজন আটকে রাখে।

পরবর্তীতে শশুরবাড়ি হতে পালিয়ে এসে বাচ্চু মিয়ার ছেলে নাজির উদ্দিন শেখ, নুরু মিয়ার ছেলে আমানাত খা, শাহাজাহান মিয়ার ছেলে মিস্টার,সহি মেম্বার এর ছেলে শাহাবুদ্দিন, মন্টু মিয়ার ছেলে খলিল মিয়া, সামসু মিয়ার ছেলে শাকিল মিয়া, খুশি মিয়ার ছেলে মুকুল মিয়া, সহি মেম্বারের ছেলে আসাবুদ্দিন, শুক্কুর আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম, কালু মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়া, মুকুল মিয়ার ছেলে নুর মোহাম্মদ প্রমূখের নামে মামলা করেন।

তার বক্তব্য অনুযায়ী তাকে আটকে রাখে শাশুড়ি এবং দেবর; যাতে তিনি মামলা করতে না পারেন প্রকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে। এছাড়াও তাকে আটকে রেখে তার হতে শশুর বাড়ির লোকজন অলংকারাদি ছিনিয়ে নিয়ে যায় যার আনুমানিক মূল্য সাড়ে চার লক্ষ টাকা।

ইয়াসমিন তার সন্তান নিয়ে এখন ফেরারি জীবন যাপন করছে শশুর বাড়ির ভয়ে; যে কোন মূহুর্তে ই বড় কোন ধরনের দূর্ঘটনার আশংকা করছেন ইয়াসমিন। মূল ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে এলাকায় হয়েছে পোস্টারিং; জড়িত আড়াল করতে একটি পক্ষ কাজ করছে গোপনে।

বলা হচ্ছে, তারা পতিত রেজিমের সাথে সংশ্লিষ্ট। সামনে নির্বাচনকে ঘিরেও তাদের রয়েছে পরিকল্পনা। এতে সামনে চলে আসছে আসাদুজ্জামান শামিমের নাম; যার ছত্রছায়ায় আসামিরা দিব্যি চলছে বলে অভিযোগ। তবে তথ্য বলছে, ঘটনার পর হতেই আসাদুজ্জামান শামীম রয়েছেন পলাতক। পূর্বে জেলা আওয়ামীগের নেতা থাকলেও এখন একটি বড় রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় সে আতাত করে চলছে। নির্বাচনকে ঘিরে তারা আবার সংঘবদ্ধ

মামলার বিষয়ে রায়পুরা থানার অফিসার্স ইনচার্জ বলেন, প্রকাশ্যে মামুন মিয়াকে গুলি করে হত্যা করা হয়। অগ্রাধিকার ও দায়িত্বের মধ্যে ছেলের মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ইয়াসমিনের মামলার বিষয়ে তিনি জানেন না বলে দাবি করেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

কোন্দলে জর্জরিত রায়পুরা, মাঠের আতঙ্ক পলাতকরা

সর্বশেষ আপডেট ০১:৪৪:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নরসিংদীর রায়পুরা একটি অস্থিতিশীল এলাকা; যেখানে প্রতিনিয়ত চলছে শোকের মাতম। কয়েকদিন পরপরই এখানে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে চলে মধ্যযুগীয় কায়দায় চলে মানবীয় জিঘাংসা। প্রতিনিয়ত মারছে এবং মরছে মানুষ; হতাহতের মিছিল দিনদিন হচ্ছে বড়। কর্তৃপক্ষের নজর এদিকে আছে কিনা এটা তারাই ভালভাবে বলতে পারে, এমন প্রশ্ন জনমনে।

গত ৮ ডিসেম্বর-২০২৫ রায়পুরা উপজেলা নিলক্ষা ইউনিয়নের দাড়িগাও গ্রামে মামুন মিয়া নামক তরুণকে শশুর বাড়িতে ঢুকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে এবং পরবর্তীতে গুলি করে হত্যা করে বলে জানা যায়। তাকে বাঁচাতে গিয়ে তারই শশুর ইউনুস মিয়া নিজে গুলিবিদ্ধ হন।

পরবর্তীতে তার মা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন। কিন্তু এতে তুষ্ট নন নিহতের স্ত্রী ইয়াসমিন বেগম। তাই নিহতের স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার দশের অধিক জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে প্রতিনিধিকে মোবাইল ফোনে নিশ্চিত করেছেন। যদি এর সত্যতার প্রমাণ তিনি দিতে পারেননি ইয়াসমিন আক্তার।

মুঠোফোনে তিনি জানান, গত ৮ ডিসেম্বর-২০২৫ তাদের বাসায় নিহত মামুন মিয়া বেড়াতে আসলে প্রতিবেশী কয়েকজন দূর্বৃত্ত তাদের ঘরে ঢুকে মামুন মিয়াকে এলোপাতারি মারতে থাকে পরিশেষে বুকে গুলি করে হত্যা করে। মামুন মিয়াকে বাঁচাতে এসে ইয়াসমিন আক্তার এর বাবা ইউনুস মিয়া ও গুলিবিদ্ধ হোন। ইয়াসমিন আক্তার হাসপাতাল হতে স্বামী মামুন মিয়ার মরদেহ নিয়ে বাসায় আসলে নিহত মামুন মিয়ার স্ত্রী ইয়াসমিনকে তার শশুড়বাড়ির লোকজন আটকে রাখে।

পরবর্তীতে শশুরবাড়ি হতে পালিয়ে এসে বাচ্চু মিয়ার ছেলে নাজির উদ্দিন শেখ, নুরু মিয়ার ছেলে আমানাত খা, শাহাজাহান মিয়ার ছেলে মিস্টার,সহি মেম্বার এর ছেলে শাহাবুদ্দিন, মন্টু মিয়ার ছেলে খলিল মিয়া, সামসু মিয়ার ছেলে শাকিল মিয়া, খুশি মিয়ার ছেলে মুকুল মিয়া, সহি মেম্বারের ছেলে আসাবুদ্দিন, শুক্কুর আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম, কালু মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়া, মুকুল মিয়ার ছেলে নুর মোহাম্মদ প্রমূখের নামে মামলা করেন।

তার বক্তব্য অনুযায়ী তাকে আটকে রাখে শাশুড়ি এবং দেবর; যাতে তিনি মামলা করতে না পারেন প্রকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে। এছাড়াও তাকে আটকে রেখে তার হতে শশুর বাড়ির লোকজন অলংকারাদি ছিনিয়ে নিয়ে যায় যার আনুমানিক মূল্য সাড়ে চার লক্ষ টাকা।

ইয়াসমিন তার সন্তান নিয়ে এখন ফেরারি জীবন যাপন করছে শশুর বাড়ির ভয়ে; যে কোন মূহুর্তে ই বড় কোন ধরনের দূর্ঘটনার আশংকা করছেন ইয়াসমিন। মূল ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে এলাকায় হয়েছে পোস্টারিং; জড়িত আড়াল করতে একটি পক্ষ কাজ করছে গোপনে।

বলা হচ্ছে, তারা পতিত রেজিমের সাথে সংশ্লিষ্ট। সামনে নির্বাচনকে ঘিরেও তাদের রয়েছে পরিকল্পনা। এতে সামনে চলে আসছে আসাদুজ্জামান শামিমের নাম; যার ছত্রছায়ায় আসামিরা দিব্যি চলছে বলে অভিযোগ। তবে তথ্য বলছে, ঘটনার পর হতেই আসাদুজ্জামান শামীম রয়েছেন পলাতক। পূর্বে জেলা আওয়ামীগের নেতা থাকলেও এখন একটি বড় রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় সে আতাত করে চলছে। নির্বাচনকে ঘিরে তারা আবার সংঘবদ্ধ

মামলার বিষয়ে রায়পুরা থানার অফিসার্স ইনচার্জ বলেন, প্রকাশ্যে মামুন মিয়াকে গুলি করে হত্যা করা হয়। অগ্রাধিকার ও দায়িত্বের মধ্যে ছেলের মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ইয়াসমিনের মামলার বিষয়ে তিনি জানেন না বলে দাবি করেন।