ঢাকা ০১:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হেমোরেজিক ডেঙ্গু নিয়ে সতর্কতা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর, বসবে মোবাইল কোর্ট

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:২১:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
  • / 5

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন

ডেঙ্গুর সবচেয়ে ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী রূপ ‘হেমোরেজিক ডেঙ্গু’ নিয়ে দেশবাসীকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের আশঙ্কা অনুযায়ী চলতি মৌসুমে ডেঙ্গু অত্যন্ত মারাত্মক রূপ নিতে পারে, যা শরীরে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণসহ নানা জটিল পরিস্থিতি তৈরি করার ক্ষমতা রাখে। আর এই কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেভাগেই সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা গ্রহণ করতে হবে।

শনিবার (৬ জুন) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী একটি বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই জরুরি বার্তা দেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে জানান, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে দেশজুড়ে জোরদার মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালনা করা হবে। অভিযান চলাকালীন যেসব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, নির্মাণাধীন ভবন বা বাসাবাড়ির আঙিনায় এডিস মশার ক্ষতিকর লার্ভা খুঁজে পাওয়া যাবে, সেগুলোর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক মোটা অঙ্কের জরিমানা ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও যোগ করেন, ডেঙ্গু পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নাগরিক সচেতনতা ও ব্যক্তিগত সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, সরকারের একার পক্ষে বা একক কোনো উদ্যোগের মাধ্যমে এই বিশাল মহামারি পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়, এর জন্য সর্বস্তরের জনগণের সক্রিয় ও আন্তরিক অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

বিশেষ এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালামও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাধারণ নাগরিকদের সচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি মন্তব্য করেন, সচেতন জনগণ এবং সিটি করপোরেশন যদি সমানভাবে নিজেদের অর্পিত দায়িত্ব পালন করে, তবেই কেবল এডিস মশা ও ডেঙ্গু সম্পূর্ণ বশে আনা সম্ভব। ডিএসসিসি প্রশাসক একটি উদ্বেগজনক তথ্য দিয়ে জানান, সাম্প্রতিক এক বৈজ্ঞানিক জরিপ অনুযায়ী ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৩টি ওয়ার্ডই বর্তমানে ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে রয়েছে।

এর মধ্যে আবার ২৮টি ওয়ার্ডকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ বা রেড জোন হিসেবে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ভয়াবহ পরিসংখ্যানের কারণে কর্মকর্তারা মনে করছেন, দ্রুত চিকিৎসা ব্যবস্থা, ব্যাপক জনসচেতনতা এবং মাঠপর্যায়ে কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমেই কেবল আগামী দিনগুলোতে ডেঙ্গুর সংক্রমণ রোধ করা সম্ভব। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ধানমন্ডি এলাকায় সচেতনতামূলক একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়, যেখানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, স্বাস্থ্যকর্মী ও সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

হেমোরেজিক ডেঙ্গু নিয়ে সতর্কতা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর, বসবে মোবাইল কোর্ট

সর্বশেষ আপডেট ১২:২১:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

ডেঙ্গুর সবচেয়ে ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী রূপ ‘হেমোরেজিক ডেঙ্গু’ নিয়ে দেশবাসীকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের আশঙ্কা অনুযায়ী চলতি মৌসুমে ডেঙ্গু অত্যন্ত মারাত্মক রূপ নিতে পারে, যা শরীরে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণসহ নানা জটিল পরিস্থিতি তৈরি করার ক্ষমতা রাখে। আর এই কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেভাগেই সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা গ্রহণ করতে হবে।

শনিবার (৬ জুন) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী একটি বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই জরুরি বার্তা দেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে জানান, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে দেশজুড়ে জোরদার মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালনা করা হবে। অভিযান চলাকালীন যেসব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, নির্মাণাধীন ভবন বা বাসাবাড়ির আঙিনায় এডিস মশার ক্ষতিকর লার্ভা খুঁজে পাওয়া যাবে, সেগুলোর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক মোটা অঙ্কের জরিমানা ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও যোগ করেন, ডেঙ্গু পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নাগরিক সচেতনতা ও ব্যক্তিগত সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, সরকারের একার পক্ষে বা একক কোনো উদ্যোগের মাধ্যমে এই বিশাল মহামারি পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়, এর জন্য সর্বস্তরের জনগণের সক্রিয় ও আন্তরিক অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

বিশেষ এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালামও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাধারণ নাগরিকদের সচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি মন্তব্য করেন, সচেতন জনগণ এবং সিটি করপোরেশন যদি সমানভাবে নিজেদের অর্পিত দায়িত্ব পালন করে, তবেই কেবল এডিস মশা ও ডেঙ্গু সম্পূর্ণ বশে আনা সম্ভব। ডিএসসিসি প্রশাসক একটি উদ্বেগজনক তথ্য দিয়ে জানান, সাম্প্রতিক এক বৈজ্ঞানিক জরিপ অনুযায়ী ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৩টি ওয়ার্ডই বর্তমানে ডেঙ্গুর ঝুঁকিতে রয়েছে।

এর মধ্যে আবার ২৮টি ওয়ার্ডকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ বা রেড জোন হিসেবে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ভয়াবহ পরিসংখ্যানের কারণে কর্মকর্তারা মনে করছেন, দ্রুত চিকিৎসা ব্যবস্থা, ব্যাপক জনসচেতনতা এবং মাঠপর্যায়ে কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমেই কেবল আগামী দিনগুলোতে ডেঙ্গুর সংক্রমণ রোধ করা সম্ভব। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ধানমন্ডি এলাকায় সচেতনতামূলক একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়, যেখানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, স্বাস্থ্যকর্মী ও সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।