ঢাকা ০৭:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যে কারণে স্পট মার্কেটে দুই এলএনজি কার্গো ক্রয়ের সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:২৩:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
  • / 111

হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতা ও সরবরাহ ঘাটতির প্রভাবে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ায় স্পট মার্কেট থেকে দুই কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা।

ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীর অনিশ্চিত পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি আমদানি ব্যবস্থায় চাপ তৈরি করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এর প্রভাবে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী কিছু এলএনজি চালান না আসায় দেশকে তাৎক্ষণিকভাবে স্পট মার্কেটের দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে।

বুধবার অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত আসে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী আন্তর্জাতিক কোটেশন (আরএফকিউ) পদ্ধতিতে তিন কার্গো এলএনজি কেনার পরিকল্পনা ছিল। তবে কমিটি শেষ পর্যন্ত দুই কার্গো অনুমোদন করে, তৃতীয়টি আপাতত স্থগিত রাখে।

বৈঠকের নথি অনুযায়ী, তিন কার্গোর মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ছিল প্রায় ২ হাজার ১১২ কোটি টাকা। অনুমোদিত দুই কার্গোর জন্য ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অনেক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘ফোর্স মেজর’ দেখিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য সরবরাহ করতে পারছে না। এতে স্বাভাবিক চুক্তিভিত্তিক সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, জুন ও জুলাইয়ের শুরুতে চাহিদা পূরণে দ্রুত এলএনজি পৌঁছানো জরুরি, কারণ কার্গো সংগ্রহের পর দেশে আনতে ও খালাস করতে সময় লাগে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কিছুটা নিম্নমুখী থাকায় তৃতীয় কার্গো বিষয়ে এখনই সিদ্ধান্ত না নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কথা বলা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় অতিরিক্ত ক্রয় এড়ানোর অবস্থানও স্পষ্ট করা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে জানানো হয়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

যে কারণে স্পট মার্কেটে দুই এলএনজি কার্গো ক্রয়ের সিদ্ধান্ত

সর্বশেষ আপডেট ০৫:২৩:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতা ও সরবরাহ ঘাটতির প্রভাবে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ায় স্পট মার্কেট থেকে দুই কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা।

ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীর অনিশ্চিত পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি আমদানি ব্যবস্থায় চাপ তৈরি করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এর প্রভাবে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী কিছু এলএনজি চালান না আসায় দেশকে তাৎক্ষণিকভাবে স্পট মার্কেটের দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে।

বুধবার অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত আসে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী আন্তর্জাতিক কোটেশন (আরএফকিউ) পদ্ধতিতে তিন কার্গো এলএনজি কেনার পরিকল্পনা ছিল। তবে কমিটি শেষ পর্যন্ত দুই কার্গো অনুমোদন করে, তৃতীয়টি আপাতত স্থগিত রাখে।

বৈঠকের নথি অনুযায়ী, তিন কার্গোর মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ছিল প্রায় ২ হাজার ১১২ কোটি টাকা। অনুমোদিত দুই কার্গোর জন্য ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অনেক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘ফোর্স মেজর’ দেখিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য সরবরাহ করতে পারছে না। এতে স্বাভাবিক চুক্তিভিত্তিক সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, জুন ও জুলাইয়ের শুরুতে চাহিদা পূরণে দ্রুত এলএনজি পৌঁছানো জরুরি, কারণ কার্গো সংগ্রহের পর দেশে আনতে ও খালাস করতে সময় লাগে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কিছুটা নিম্নমুখী থাকায় তৃতীয় কার্গো বিষয়ে এখনই সিদ্ধান্ত না নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কথা বলা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় অতিরিক্ত ক্রয় এড়ানোর অবস্থানও স্পষ্ট করা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে জানানো হয়।