রংপুরে পুলিশের বিরুদ্ধে আলামত নষ্টের অভিযোগ
- সর্বশেষ আপডেট ১২:৩৩:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
- / 22
রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে পানি দিয়ে আলামত নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে পুলিশ।
বুধবার রাতে হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসের পরিবারের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করা হয়। সিদ্ধার্থের ভাই পার্থ দাস দাবি করেন, গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির লাইট বন্ধ করে আলামত নষ্ট করা হচ্ছে। এ উদ্দেশ্যে বাড়িতে পানি ঢেলে ধুয়ে ফেলা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর ভাইকে পরিকল্পিতভাবে মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হাকিম। তিনি বলেন, ভুল করে বাড়ির একটি সুইচ চালু হয়ে গিয়েছিল। এতে পানির ট্যাংকি পূর্ণ হয়ে গেলে মোটর বন্ধ করে দেওয়া হয়। আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্যে বাড়িতে পানি দেওয়া হয়নি।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ পাহারা রয়েছে। লাইটের সুইচ চালু করতে গিয়ে ভুলবশত পানির মোটরের সুইচও অন হয়ে যায়। পরে ট্যাংকি থেকে পানি উপচে ছাদে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, বাড়ির ভেতরে কোন স্থানে কী রয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ অবগত ছিল না। ফলে ইচ্ছাকৃতভাবে আলামত নষ্ট করার অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। মরদেহ উদ্ধারের সময়ই প্রয়োজনীয় আলামত সংরক্ষণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
গত শনিবার রাতে রংপুরের একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা, স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক ভাষ্য অনুযায়ী, ইয়াবা সেবনের বিষয়টি দেখে ফেলায় প্রথমে গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। এরপর তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে একে একে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় পরদিন রোববার ভোরে একই এলাকা থেকে মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।



























