ঢাকা ০১:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশকে বিনিয়োগের হাব করতে চায় সরকার

কূটনৈতিক প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:২০:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / 17

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বাংলাদেশকে নিরাপদ বিনিয়োগের ঠিকানা হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সমতা, স্বচ্ছতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে দেশি-বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় বাংলাদেশ।

শনিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে তিন দিনব্যাপী বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) আয়োজনে ৩ থেকে ৫ অক্টোবর এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার বাংলাদেশকে একটি ইনভেস্টমেন্ট হাব হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আইনের শাসন সব নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে মানুষের সেবায় কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সামাজিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, সরকার ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কার্ডের সমন্বয়ে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য একটি ইউনিভার্সেল কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। শিশুদের আনন্দময় পরিবেশে শিক্ষা নিশ্চিত করতে ইউনিফর্ম, মিড ডে মিলসহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তরুণদের দক্ষ ও যোগ্য করে তুলতেও বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সমর্থন ও অর্থায়ন প্রয়োজন। সংকটের শুরু যেহেতু মিয়ানমারে, এর সমাধানও সেখানেই হতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কৃষি ও পানি নিরাপত্তার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। কৃষকদের প্রযুক্তি, সেচ, অর্থায়ন ও বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর পাশাপাশি মৎস্য, গবাদিপশু ও গ্রামীণ উদ্যোগে সহায়তার কথা জানান তিনি। আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খনন, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কথাও তুলে ধরেন।

পরিবেশ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সৌরশক্তির সম্প্রসারণ, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় লিড-সার্টিফায়েড কারখানার সংখ্যাও তুলে ধরেন তিনি।

বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের এবারের আয়োজনে বৈশ্বিক ক্ষমতার পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক রূপান্তর, প্রযুক্তি, জলবায়ু পরিবর্তন, গণতন্ত্র, সুশাসন এবং বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক যোগাযোগ ও বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ৩ থেকে ৫ অক্টোবরের এ আন্তর্জাতিক সংলাপে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনীতিক, কূটনীতিক, নীতিনির্ধারক, গবেষক, ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নিচ্ছেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বাংলাদেশকে বিনিয়োগের হাব করতে চায় সরকার

সর্বশেষ আপডেট ১২:২০:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশকে নিরাপদ বিনিয়োগের ঠিকানা হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সমতা, স্বচ্ছতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে দেশি-বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় বাংলাদেশ।

শনিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে তিন দিনব্যাপী বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) আয়োজনে ৩ থেকে ৫ অক্টোবর এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার বাংলাদেশকে একটি ইনভেস্টমেন্ট হাব হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আইনের শাসন সব নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে মানুষের সেবায় কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সামাজিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, সরকার ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কার্ডের সমন্বয়ে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য একটি ইউনিভার্সেল কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। শিশুদের আনন্দময় পরিবেশে শিক্ষা নিশ্চিত করতে ইউনিফর্ম, মিড ডে মিলসহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তরুণদের দক্ষ ও যোগ্য করে তুলতেও বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সমর্থন ও অর্থায়ন প্রয়োজন। সংকটের শুরু যেহেতু মিয়ানমারে, এর সমাধানও সেখানেই হতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কৃষি ও পানি নিরাপত্তার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। কৃষকদের প্রযুক্তি, সেচ, অর্থায়ন ও বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর পাশাপাশি মৎস্য, গবাদিপশু ও গ্রামীণ উদ্যোগে সহায়তার কথা জানান তিনি। আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খনন, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কথাও তুলে ধরেন।

পরিবেশ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সৌরশক্তির সম্প্রসারণ, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় লিড-সার্টিফায়েড কারখানার সংখ্যাও তুলে ধরেন তিনি।

বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের এবারের আয়োজনে বৈশ্বিক ক্ষমতার পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক রূপান্তর, প্রযুক্তি, জলবায়ু পরিবর্তন, গণতন্ত্র, সুশাসন এবং বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক যোগাযোগ ও বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ৩ থেকে ৫ অক্টোবরের এ আন্তর্জাতিক সংলাপে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনীতিক, কূটনীতিক, নীতিনির্ধারক, গবেষক, ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নিচ্ছেন।