দিনাজপুরে ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা শিশু, ঘটনা ধামাচাপা দিতে বৃদ্ধের সঙ্গে বিয়ে
- সর্বশেষ আপডেট ০১:১৪:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
- / 20
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ১২ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মূলত স্থানীয় সালিসের মাধ্যমে ৬৫ বছরের অভিযুক্ত বৃদ্ধের সঙ্গেই শিশুটির বিয়ে দেওয়া হয়। তবে ভুক্তভোগী শিশুটি এই বিয়ে প্রত্যাখ্যান করে অভিযুক্তের কঠোর শাস্তি দাবি করেছে। পুলিশ এই অমানবিক ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে।
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে এক ভয়াবহ ও অমানবিক ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। এক নাবালিকা শিশুকে ধর্ষণের পর তাকে অন্তঃসত্ত্বা করার অভিযোগ উঠেছে নূর ইসলাম নামে এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে এই জঘন্য অপরাধ আড়াল করতে স্থানীয় প্রভাবশালীরা সালিস ডাকেন। সেখানে জোরপূর্বক ১২ বছরের শিশুটিকে ৬৫ বছরের ওই অভিযুক্তের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে যে, প্রায় ছয় মাস আগে শিশুটি প্রথম ধর্ষণের শিকার হয়। আসলে নানিকে পান কিনে দিতে দোকানে যাওয়ার পথে নূর ইসলাম তাকে ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে যায়। এরপর প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আরও কয়েক দফায় শিশুটিকে নির্যাতন করা হয়। শারীরিক পরিবর্তন দেখে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে শিশুটির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় প্রভাবশালীরা আইনি প্রক্রিয়ায় বাধা দেন। ফলে গত সপ্তাহে একটি নামমাত্র সালিসের মাধ্যমে দেড় লাখ টাকা দেনমোহরে এই বিয়ে পড়ানো হয়। কিন্তু ভুক্তভোগী শিশুটি এই বিয়ে মানতে রাজি নয়। সে স্পষ্টভাবে অভিযুক্ত ব্যক্তির ফাঁসি দাবি করেছে। একইসঙ্গে শিশুটি জানায় যে, তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে এই বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল।
পুলিশ জানিয়েছে যে, এই ধরনের আপস-মীমাংসা ও বাল্যবিবাহ সম্পূর্ণ বেআইনি। তাই অভিযুক্ত নূর ইসলামকে গ্রেপ্তারে ইতিমধ্যে পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। এছাড়া যারা এই বেআইনি সালিসের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ব্যক্তি পরিবারসহ পলাতক রয়েছে।





































