ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসন: ১৪১ স্পট চিহ্নিত, সমন্বিত পরিকল্পনার আহ্বান
- সর্বশেষ আপডেট ১২:০৯:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
- / 7
আসন্ন বর্ষা মৌসুমে রাজধানীর ১৪১টি স্থানে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার ঝুঁকি রয়েছে বলে চিহ্নিত করেছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। এর মধ্যে উত্তর সিটিতে ১০৮টি এবং দক্ষিণ সিটিতে ৩৩টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান রয়েছে। নগর পরিকল্পনাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, খাল সংস্কার ও ড্রেনেজ সংযোগের সমন্বিত মহাপরিকল্পনা ছাড়া ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব নয়।
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন বর্ষা মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানালেও বিশেষজ্ঞরা ড্রেনেজ নকশায় ত্রুটির কথা তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ ফজলে রেজা সুমন জানান, মূল নিষ্কাশন পথের সঙ্গে সেকেন্ডারি ড্রেনগুলোর সংযোগের অভাবেই মূলত পানি নামতে পারছে না। তিনি সতর্ক করেন যে, ৮০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হলে ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসন কার্যক্রম বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
নগর বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, বর্জ্যে ড্রেন ভরাট হয়ে থাকায় অল্প বৃষ্টিতেই ধানমন্ডি লেকের মতো এলাকায় পানি জমে যাচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নিউ মার্কেট ও বকশীবাজার এলাকায় ৩০০ কোটি টাকার ড্রেনেজ প্রকল্প প্রস্তাব করেছে। বর্তমানে অস্থায়ী পাম্পের সংখ্যা বাড়ানোসহ জরুরি রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল পাম্প দিয়ে নয়, বরং খাল পুনরুদ্ধারই হচ্ছে ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসন-এর স্থায়ী পথ।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) মিরপুর এলাকা এবং সাংবাদিক খাল ও বাউনিয়া খালসহ পাঁচটি খালের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান জানান, বক্স কালভার্ট পরিষ্কারে ভবিষ্যতে রোবটিক প্রযুক্তি ব্যবহারের চিন্তা করা হচ্ছে। দক্ষিণখান ও উত্তরখানের মতো এলাকায় পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত পথ না থাকায় সেখানে সমস্যা প্রকট হতে পারে। পরিশেষে বলা যায়, জনগণের সচেতনতা এবং সকল সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টাই পারে ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসন নিশ্চিত করতে।

































