কুকরী-মুকরী ঘাটে বাড়তি ভাড়া, জিম্মি যাত্রী-পর্যটক
- সর্বশেষ আপডেট ০১:৪৪:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
- / 17
ভোলার চরফ্যাশনের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র চর কুকরী-মুকরী ও ঢালচরের তারুয়া সৈকতে যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ চর কচ্ছপিয়া খেয়াঘাট ও স্পিডবোট ঘাটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের অভিযোগ, একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
চর কচ্ছপিয়া থেকে চর কুকরী-মুকরী রুটে চলাচলকারী ট্রলার ও স্পিডবোটে নির্ধারিত ভাড়ার তুলনায় দ্বিগুণ, এমনকি কোথাও তিনগুণ পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। ঘাটে কোনো ভাড়ার তালিকা বা রেট চার্ট না থাকায় যাত্রীদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আগের সরকারের সময় এই রুটে খেয়া ভাড়া ছিল ৪০ থেকে ৭০ টাকা। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও কয়েক মাস ৭০ টাকা ভাড়া বহাল ছিল। পরে জ্বালানি তেলের সংকটের কারণ দেখিয়ে তা ৮০ থেকে ৯০ টাকা করা হয়। জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও ভাড়া আর কমেনি। সম্প্রতি তা আরও বাড়িয়ে ১০০ টাকা করা হয়েছে।
শুধু যাত্রীভাড়াই নয়, ঘাটে ওঠানামার সময়ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ট্রলার ভাড়ার বাইরে ঘাটে নামা ও ওঠার জন্যও টাকা নেওয়া হচ্ছে। কেউ এর প্রতিবাদ করলে ঘাটের ইজারাদার বা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা ও হয়রানির ঘটনা ঘটে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর এবং বৈরী আবহাওয়ার সুযোগ নিয়ে কখনো কখনো ভাড়া আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অভিযোগ করলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের।
হুমকিতে পর্যটন সম্ভাবনা
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে চর কুকরী-মুকরী ও তারুয়া সৈকতে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক পর্যটকের সমাগম হয়। তবে ঘাটে পৌঁছানোর পর অতিরিক্ত ভাড়া ও হয়রানির মুখে পড়ায় পর্যটকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ঘাটকেন্দ্রিক এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে পর্যটকের সংখ্যা কমে যেতে পারে, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটন ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এলাকাবাসী ও পর্যটকদের দাবি, চর কচ্ছপিয়া খেয়াঘাট ও স্পিডবোট ঘাটে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা দৃশ্যমান স্থানে টাঙাতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বলেন, চর কুকরী-মুকরী রুটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও ঘাটে যাত্রী হয়রানির অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্তে একটি টিম পাঠানো হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ঘাট ইজারাদার ও ট্রলার মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।































