ঢাকা ০৪:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আশা করি দ্রুতই শেষ হবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: পুতিন

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৩০:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
  • / 18

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আশা প্রকাশ করেছেন যে, ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত দ্রুত নিরসন হবে।

রোববার (১০ মে) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এই যুদ্ধ কারও জন্যই লাভজনক নয়। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে মস্কো ইরান এবং ইসরায়েল—উভয় পক্ষের সঙ্গেই নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছে। পুতিন সতর্ক করে বলেন, এই অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে তা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য চরম ক্ষতিকর হবে।

ভ্লাদিমির পুতিন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত জটিল হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, ইরান ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার সুসম্পর্ক থাকায় মস্কো বর্তমানে একটি কঠিন অবস্থানে রয়েছে।

মূলত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নিরসনে রাশিয়া মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে চায়। পুতিন পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রাশিয়ার ভূখণ্ডে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাবটি এখনো কার্যকর রয়েছে, যা পারমাণবিক উত্তেজনা কমাতে সহায়ক হতে পারে।

সম্মেলনে পুতিন ইউক্রেন প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি বাড়ানো ও যুদ্ধবন্দি বিনিময়ের প্রস্তাবে রাশিয়া তাৎক্ষণিক সম্মতি জানিয়েছে। গত ৫ মে ৫০০ ইউক্রেনীয় সেনার তালিকা পাঠানো হলেও কিয়েভ বিজয় দিবসের আগে বিনিময়ে রাজি হয়নি।

তবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি তিনি ইউক্রেনের সঙ্গেও শান্তি প্রক্রিয়ার শেষ ধাপে আলোচনার দ্বার খোলা রেখেছেন বলে জানান। এমনকি জেলেনস্কি চাইলে মস্কোতে এসে দেখা করতে পারেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিশ্ব রাজনীতি প্রসঙ্গে পুতিন বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতির ভবিষ্যৎ অনেকাংশে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল। ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যকার স্থিতিশীলতা রাশিয়ার স্বার্থের অনুকূল।

পরিশেষে তিনি উল্লেখ করেন যে, ইউরোপীয় দেশগুলো এখন রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের গুরুত্ব বুঝতে পারছে। তার মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এবং ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ইউরোপকে বিশাল অর্থনৈতিক মূল্য দিতে হচ্ছে। ভবিষ্যতে রাশিয়া ও ইউরোপের সম্পর্ক পুনরুদ্ধার হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আশা করি দ্রুতই শেষ হবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: পুতিন

সর্বশেষ আপডেট ১২:৩০:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আশা প্রকাশ করেছেন যে, ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত দ্রুত নিরসন হবে।

রোববার (১০ মে) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এই যুদ্ধ কারও জন্যই লাভজনক নয়। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে মস্কো ইরান এবং ইসরায়েল—উভয় পক্ষের সঙ্গেই নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছে। পুতিন সতর্ক করে বলেন, এই অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে তা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য চরম ক্ষতিকর হবে।

ভ্লাদিমির পুতিন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত জটিল হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, ইরান ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার সুসম্পর্ক থাকায় মস্কো বর্তমানে একটি কঠিন অবস্থানে রয়েছে।

মূলত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নিরসনে রাশিয়া মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে চায়। পুতিন পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রাশিয়ার ভূখণ্ডে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাবটি এখনো কার্যকর রয়েছে, যা পারমাণবিক উত্তেজনা কমাতে সহায়ক হতে পারে।

সম্মেলনে পুতিন ইউক্রেন প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি বাড়ানো ও যুদ্ধবন্দি বিনিময়ের প্রস্তাবে রাশিয়া তাৎক্ষণিক সম্মতি জানিয়েছে। গত ৫ মে ৫০০ ইউক্রেনীয় সেনার তালিকা পাঠানো হলেও কিয়েভ বিজয় দিবসের আগে বিনিময়ে রাজি হয়নি।

তবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি তিনি ইউক্রেনের সঙ্গেও শান্তি প্রক্রিয়ার শেষ ধাপে আলোচনার দ্বার খোলা রেখেছেন বলে জানান। এমনকি জেলেনস্কি চাইলে মস্কোতে এসে দেখা করতে পারেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিশ্ব রাজনীতি প্রসঙ্গে পুতিন বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতির ভবিষ্যৎ অনেকাংশে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল। ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যকার স্থিতিশীলতা রাশিয়ার স্বার্থের অনুকূল।

পরিশেষে তিনি উল্লেখ করেন যে, ইউরোপীয় দেশগুলো এখন রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের গুরুত্ব বুঝতে পারছে। তার মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এবং ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ইউরোপকে বিশাল অর্থনৈতিক মূল্য দিতে হচ্ছে। ভবিষ্যতে রাশিয়া ও ইউরোপের সম্পর্ক পুনরুদ্ধার হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।