ঢাকা ০৪:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগামী অর্থবছরের বাজেট হতে পারে ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৪৪:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
  • / 28

সংসদ

উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মাথায় নিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে এই বাজেট পেশ করা হতে পারে।

প্রস্তাবিত বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৬ শতাংশ ধরার আভাস পাওয়া গেছে, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা বেশি।

নতুন সরকার এক কঠিন সময়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতে পারে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা।

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ মনে করেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা ও দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি—উভয় দিক থেকেই সরকার এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। মূলত অর্থনীতিকে সচল রাখতেই বাজেটের আকার বড় করার এই পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতামতঃ এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ প্রত্যাশা করছেন যে, ১৯৯১ সালে ভ্যাট চালুর মতো এবারও বাজেটে নতুনত্ব আসবে। তবে তিনি বাজেটের আকারের সঙ্গে সুশাসন নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

অন্যদিকে, ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের মতে, একসময় প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশের কাছে থাকলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাড়ে ৬ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা খুব বেশি নয়। বর্তমানে এই লক্ষ্য অর্জন করাই সরকারের জন্য প্রধান পরীক্ষা হবে।

ঝুঁকি ও সতর্কতাঃ বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন সতর্ক করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে সম্প্রসারণমূলক বাজেট মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিতে পারে।

তিনি মনে করেন, উৎপাদন না বাড়িয়ে কেবল চাহিদা বাড়লে বাজারে অতিরিক্ত টাকার প্রবাহ অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করবে। পরিশেষে বলা যায়, রিজার্ভে চাপ ও সরবরাহ সংকটের মতো চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে আগামী অর্থবছরের বাজেট সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে সরকারকে চরম দক্ষতার পরিচয় দিতে হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আগামী অর্থবছরের বাজেট হতে পারে ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা

সর্বশেষ আপডেট ১২:৪৪:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মাথায় নিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে এই বাজেট পেশ করা হতে পারে।

প্রস্তাবিত বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৬ শতাংশ ধরার আভাস পাওয়া গেছে, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা বেশি।

নতুন সরকার এক কঠিন সময়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতে পারে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা।

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ মনে করেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা ও দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি—উভয় দিক থেকেই সরকার এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। মূলত অর্থনীতিকে সচল রাখতেই বাজেটের আকার বড় করার এই পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতামতঃ এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ প্রত্যাশা করছেন যে, ১৯৯১ সালে ভ্যাট চালুর মতো এবারও বাজেটে নতুনত্ব আসবে। তবে তিনি বাজেটের আকারের সঙ্গে সুশাসন নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

অন্যদিকে, ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের মতে, একসময় প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশের কাছে থাকলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাড়ে ৬ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা খুব বেশি নয়। বর্তমানে এই লক্ষ্য অর্জন করাই সরকারের জন্য প্রধান পরীক্ষা হবে।

ঝুঁকি ও সতর্কতাঃ বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন সতর্ক করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে সম্প্রসারণমূলক বাজেট মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিতে পারে।

তিনি মনে করেন, উৎপাদন না বাড়িয়ে কেবল চাহিদা বাড়লে বাজারে অতিরিক্ত টাকার প্রবাহ অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করবে। পরিশেষে বলা যায়, রিজার্ভে চাপ ও সরবরাহ সংকটের মতো চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে আগামী অর্থবছরের বাজেট সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে সরকারকে চরম দক্ষতার পরিচয় দিতে হবে।