আইজিপির বক্তব্যে ক্ষুব্ধ জামায়াত-শিবির
- সর্বশেষ আপডেট ১১:১৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
- / 74
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির। বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে ছাত্রশিবির। অন্যদিকে, জামায়াত এ বক্তব্যকে সংবিধান ও আইনের শাসনের পরিপন্থি বলে উল্লেখ করেছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) পৃথক বিবৃতিতে সংগঠন দুটি তাদের প্রতিক্রিয়া জানায়।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব। পুলিশ নাগরিকের সেবক, শাসক নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধান হিসেবে আইজিপির দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান তিনি।
বিবৃতিতে জুবায়ের বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বিনা বিচারে হত্যা, গুম ও ক্রসফায়ারের মতো ঘটনা ঘটেছে। আইজিপির বক্তব্যে ওই ধরনের কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তির হুমকি ও ইঙ্গিত রয়েছে। এটি সংবিধান ও আইনের শাসনের পরিপন্থি উল্লেখ করে এ বিষয়ে সরকারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রত্যাশা জানান তিনি।
দেশে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে জামায়াত। নাগরিকদের জীবনযাত্রা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যদের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে।
অন্যদিকে, আইজিপির বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ। সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, ক্রসফায়ারের মতো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘোষণা সংবিধান, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের ওপর আঘাত।
শিবির নেতারা বলেন, সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে নাগরিকের আইনি সুরক্ষা, জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। এসব অধিকার উপেক্ষা করে কারও জীবন কেড়ে নেওয়ার অধিকার পুলিশের নেই। অপরাধীকে শনাক্ত করা ও শাস্তি নির্ধারণের দায়িত্ব আদালতের; পুলিশের কাজ অপরাধ তদন্ত করে অভিযুক্তকে বিচারের মুখোমুখি করা।
পুলিশ সদর দপ্তরের ব্যাখ্যারও সমালোচনা করেন শিবির নেতারা। তাঁদের দাবি, আইজিপির বক্তব্যকে ন্যায্যতা দেওয়ার চেষ্টা উদ্বেগজনক এবং এ ধরনের মনোভাব ফ্যাসিবাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।
এর আগে সোমবার সকালে রাজধানীর চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংকের চকবাজার ইসলামিক ব্যাংকিং শাখার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘যেখানে ক্রসফায়ার প্রয়োজন হয়, সরকার যদি এলাউ করে, তাহলে আমরা সেটাই করব।’
পরে এ বক্তব্য নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সদর দপ্তর ব্যাখ্যা দেয়। তাদের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে পুলিশের দৃঢ় অঙ্গীকার বোঝাতে গিয়ে আইজিপি ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি আক্ষরিক অর্থে উল্লেখ করেছেন।




























