অ্যাম্বুলেন্স সংকটে বিপর্যস্ত বান্দরবানের স্বাস্থ্যসেবা
- সর্বশেষ আপডেট ১০:০৪:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
- / 53
পাহাড়ের দুর্গম জনপদে চিকিৎসাসেবা পাওয়া এমনিতেই কঠিন। এর ওপর জরুরি রোগী পরিবহনের অন্যতম মাধ্যম অ্যাম্বুলেন্সের তীব্র সংকট পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। বান্দরবানের সাত উপজেলায় ১৫টি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকার কথা থাকলেও সচল রয়েছে মাত্র ৬টি। বাকি ৯টি দীর্ঘদিন ধরে অচল পড়ে আছে। অন্যদিকে জেলার বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও নেই নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স। ফলে সংকটাপন্ন রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া কিংবা উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র স্থানান্তর করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন রোগী ও স্বজনরা।
বান্দরবানের সাত উপজেলার পাহাড়ি ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জন্য জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা বরাবরই বড় চ্যালেঞ্জ। দুর্গম সড়ক ও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে রোগীদের জেলা সদর কিংবা চট্টগ্রামে নিতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় জরুরি রোগীদের সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্সের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে স্বজনদের। আবার বাধ্য হয়ে বিকল্প যানবাহনে রোগী পরিবহনের ঝুঁকি নিতে হচ্ছে।
বিশেষ করে সংকটাপন্ন রোগী, গর্ভবতী নারী, দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তি ও গুরুতর অসুস্থদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। কিন্তু পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স, চালক ও নির্ভরযোগ্য পরিবহনব্যবস্থার অভাবে চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়েও ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বান্দরবানের সাত উপজেলায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকার কথা ১৫টি। এর মধ্যে সচল ৬টি এবং অচল ৯টি। শুধু সরকারি হাসপাতালেই নয়, জেলার বেসরকারি হাসপাতালগুলোরও অ্যাম্বুলেন্স সেবার ঘাটতি রয়েছে। ইমানুয়েল, মেট্রো, সাঙ্গু ও হিলভিউ হাসপাতালের জরুরি রোগী স্থানান্তরের জন্য একটি করে অ্যাম্বুলেন্স থাকার নিয়ম থাকলেও কোনো হাসপাতালেই নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স নেই। এ ছাড়া পৌরসভা ও মা ও শিশু পরিবারকেন্দ্রের দুটি অ্যাম্বুলেন্সও দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট অবস্থায় পড়ে আছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আলীকদম, লামা, রুমা ও বান্দরবান সদরসহ কয়েকটি উপজেলায় অ্যাম্বুলেন্স অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কোনোটি চাকা খুলে পড়ে আছে, আবার কোনোটি বছরের পর বছর মেরামত না করায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেছে। ফলে জরুরি রোগীকে চট্টগ্রামে রেফার করা হলে অনেক সময় পার্শ্ববর্তী কেরানীহাট এলাকা থেকে ভাড়ায় অ্যাম্বুলেন্স আনতে হয়। এতে রোগী স্থানান্তরে বিলম্বের পাশাপাশি বাড়তি অর্থও ব্যয় করতে হচ্ছে স্বজনদের।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রফিক, মোসাদ্দেকসহ কয়েকজন বলেন, সংকটাপন্ন রোগীকে চট্টগ্রামে পাঠানোর প্রয়োজন হলে সময়মতো অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায় না। বিশেষ করে দুর্গম এলাকার বাসিন্দাদের ভোগান্তি আরও বেশি। দীর্ঘদিন ধরে অ্যাম্বুলেন্সগুলো মেরামত না করে ফেলে রাখা হয়েছে। কোনোটি চাকার অভাবে, আবার কোনোটি দীর্ঘদিনের যান্ত্রিক ত্রুটিতে অচল। তাঁদের ভাষায়, বান্দরবানে অ্যাম্বুলেন্স এখন সোনার হরিণ। দ্রুত অচল অ্যাম্বুলেন্সগুলো মেরামত করে চালু করার দাবি জানান তাঁরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বান্দরবানের ভৌগোলিক অবস্থান ও দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জরুরি রোগী পরিবহনে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া প্রয়োজন। শুধু জেলা সদরে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা থাকলেই চলবে না, প্রত্যন্ত উপজেলার মানুষের জন্যও দ্রুত রোগী পরিবহনের কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
এ অবস্থায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা বাড়ানো, অচল যানবাহন দ্রুত মেরামত, পর্যাপ্ত চালক ও জনবল নিয়োগ এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. শাহীন হোসেন চৌধুরী আর্থিক সংকটের কারণে অ্যাম্বুলেন্সগুলো অচল পড়ে থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, পর্যাপ্ত বাজেট না থাকায় অ্যাম্বুলেন্সগুলো সচল করার উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।




















