ঢাকা ১২:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাতক্ষীরায় ১০ কেজির বিরল কচ্ছপ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:৫২:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
  • / 88

১০ কেজির রঙিন কচ্ছপ উদ্ধার

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার খোলপেটুয়া নদীতে স্থানীয় এক জেলের জালে প্রায় ১০ কেজি ওজনের একটি বিরল ও চোখধাঁধানো রঙিন কচ্ছপ ধরা পড়েছে। অনন্য ও বিশাল আকৃতির এই কচ্ছপটি উদ্ধার করা হলেও এটি ঠিক কোন প্রজাতির, তা বনবিভাগ এখনো নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করতে পারেনি।

স্থানীয় পরিবেশকর্মী সাইফুল ইসলাম জানান, গত শুক্রবার দুপুরে উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের শেখবাড়ি এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। নদীতে প্রাত্যহিক মাছ ধরার সময় এক জেলের জালে হঠাৎ করেই এই বিশাল আকৃতির অদ্ভুত কচ্ছপটি আটকে যায়। এটি দেখার পর জেলেসহ সাধারণ স্থানীয় মানুষ ভীষণভাবে বিস্মিত হন। পরে কচ্ছপটি নদী থেকে তুলে এনে ওই জেলে নিজের বাড়িতে সাময়িকভাবে হেফাজতে রাখেন।

পরদিন গতকাল শনিবার এই অদ্ভুত কচ্ছপ ধরা পড়ার বিষয়টি জানাজানি হয়ে চারদিকে প্রকাশ্যে আসে। এরপর বিরল এই বন্যপ্রাণীটিকে একনজর দেখার জন্য জেলের বাড়িতে দূর-দূরান্ত থেকে কৌতূহলী মানুষের ঢল নামে। একই সাথে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এটি নিয়ে নেটিজেনদের মাঝে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতুহলের সৃষ্টি হয়।

পরবর্তীতে এই বিরল প্রাণীর সুরক্ষায় স্থানীয় তরুণ আশিক ও পরিবেশকর্মী সাইফুল ইসলাম দ্রুত পদক্ষেপ নেন। তাঁরা গ্রামবাসীদের সাথে কথা বলে কচ্ছপটিকে নিরাপদে বনবিভাগের কাছে হস্তান্তর করার জন্য একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বিকেলের দিকে ‘কমিউনিটি পেট্রোলিং গ্রুপ’ (সিপিজি) নামের একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় কচ্ছপটি পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের অধীনস্থ কলাগাছিয়া বন স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয় এবং কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

কলাগাছিয়া বন স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, সচেতন স্থানীয় সাধারণ মানুষের আন্তরিক সহযোগিতায় এই বিরল প্রজাতির কচ্ছপটি অত্যন্ত অক্ষত ও নিরাপদে বনবিভাগের হেফাজতে চলে এসেছে। বর্তমানে বন্যপ্রাণীটি বন কর্মকর্তাদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে ও পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

তিনি এই প্রাণীর প্রজাতি নিয়ে আরও বলেন, কচ্ছপটির গায়ের রঙ এবং শারীরিক গঠন দেখে এটি কোন নির্দিষ্ট প্রজাতির, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও মতামত চাওয়া হবে। বিশেষজ্ঞদের দেওয়া বিজ্ঞানসম্মত মতামতের ভিত্তিতেই এর সঠিক প্রজাতি ও পরিচয় নির্ধারণ করা হবে এবং পরবর্তীতে এটিকে সুন্দরবনের নদীতে অবমুক্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পরিবেশবাদীরা বলছেন, স্থানীয়দের এমন সচেতনতা ও দ্রুত উদ্যোগের কারণেই বিরল এই সামুদ্রিক প্রাণীটি কোনো ক্ষতি ছাড়াই নিরাপদে সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সাতক্ষীরায় ১০ কেজির বিরল কচ্ছপ উদ্ধার

সর্বশেষ আপডেট ০২:৫২:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার খোলপেটুয়া নদীতে স্থানীয় এক জেলের জালে প্রায় ১০ কেজি ওজনের একটি বিরল ও চোখধাঁধানো রঙিন কচ্ছপ ধরা পড়েছে। অনন্য ও বিশাল আকৃতির এই কচ্ছপটি উদ্ধার করা হলেও এটি ঠিক কোন প্রজাতির, তা বনবিভাগ এখনো নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করতে পারেনি।

স্থানীয় পরিবেশকর্মী সাইফুল ইসলাম জানান, গত শুক্রবার দুপুরে উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের শেখবাড়ি এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। নদীতে প্রাত্যহিক মাছ ধরার সময় এক জেলের জালে হঠাৎ করেই এই বিশাল আকৃতির অদ্ভুত কচ্ছপটি আটকে যায়। এটি দেখার পর জেলেসহ সাধারণ স্থানীয় মানুষ ভীষণভাবে বিস্মিত হন। পরে কচ্ছপটি নদী থেকে তুলে এনে ওই জেলে নিজের বাড়িতে সাময়িকভাবে হেফাজতে রাখেন।

পরদিন গতকাল শনিবার এই অদ্ভুত কচ্ছপ ধরা পড়ার বিষয়টি জানাজানি হয়ে চারদিকে প্রকাশ্যে আসে। এরপর বিরল এই বন্যপ্রাণীটিকে একনজর দেখার জন্য জেলের বাড়িতে দূর-দূরান্ত থেকে কৌতূহলী মানুষের ঢল নামে। একই সাথে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এটি নিয়ে নেটিজেনদের মাঝে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতুহলের সৃষ্টি হয়।

পরবর্তীতে এই বিরল প্রাণীর সুরক্ষায় স্থানীয় তরুণ আশিক ও পরিবেশকর্মী সাইফুল ইসলাম দ্রুত পদক্ষেপ নেন। তাঁরা গ্রামবাসীদের সাথে কথা বলে কচ্ছপটিকে নিরাপদে বনবিভাগের কাছে হস্তান্তর করার জন্য একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বিকেলের দিকে ‘কমিউনিটি পেট্রোলিং গ্রুপ’ (সিপিজি) নামের একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় কচ্ছপটি পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের অধীনস্থ কলাগাছিয়া বন স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয় এবং কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

কলাগাছিয়া বন স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, সচেতন স্থানীয় সাধারণ মানুষের আন্তরিক সহযোগিতায় এই বিরল প্রজাতির কচ্ছপটি অত্যন্ত অক্ষত ও নিরাপদে বনবিভাগের হেফাজতে চলে এসেছে। বর্তমানে বন্যপ্রাণীটি বন কর্মকর্তাদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে ও পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

তিনি এই প্রাণীর প্রজাতি নিয়ে আরও বলেন, কচ্ছপটির গায়ের রঙ এবং শারীরিক গঠন দেখে এটি কোন নির্দিষ্ট প্রজাতির, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও মতামত চাওয়া হবে। বিশেষজ্ঞদের দেওয়া বিজ্ঞানসম্মত মতামতের ভিত্তিতেই এর সঠিক প্রজাতি ও পরিচয় নির্ধারণ করা হবে এবং পরবর্তীতে এটিকে সুন্দরবনের নদীতে অবমুক্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পরিবেশবাদীরা বলছেন, স্থানীয়দের এমন সচেতনতা ও দ্রুত উদ্যোগের কারণেই বিরল এই সামুদ্রিক প্রাণীটি কোনো ক্ষতি ছাড়াই নিরাপদে সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে।