‘সবাই মিলেমিশে খাই’ মন্তব্যের জেরে ৩ খাদ্য কর্মকর্তা বরখাস্ত
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:৩৭:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
- / 113
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় ওএমএস কর্মসূচির আটা বিতরণে অনিয়ম ও কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগের ঘটনায় উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার ‘সবাই মিলেমিশে খাই’ মন্তব্য ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই মন্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাসহ তিন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে খাদ্য অধিদপ্তর। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জয়পুরহাট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাকিল আহমেদ।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন— কালাই উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা হুমায়ূন আহম্মেদ, উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক মো. মাহমুদুন্নবী সরকার এবং সহকারী উপ-খাদ্য পরিদর্শক আব্দুল মোমিন।
খাদ্য অধিদপ্তর ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ওএমএস কর্মসূচির আওতায় কালাই উপজেলায় প্রতিদিন দুই টন চাল ও দুই টন আটা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একজন ক্রেতা ২৭০ টাকায় ৫ কেজি চাল ও ৫ কেজি আটা কেনার সুযোগ পান।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন ৪০ বস্তা আটা বিক্রির কথা থাকলেও কেন্দ্রে রাখা হতো মাত্র ২০ বস্তা। বাকি আটা খোলাবাজারে বেশি দামে বিক্রি করে আত্মসাৎ করা হতো। ফলে অনেক নিম্ন আয়ের মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও আটা না পেয়ে ফিরে যেতেন।
ভুক্তভোগী সাবেরা বিবি বলেন, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পরও অনেক সময় জানানো হতো আটা শেষ। পরে জানতে পারেন, বরাদ্দের পুরো আটা বিক্রি করা হতো না।
অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা হুমায়ূন আহম্মেদ বলেন, ‘সবাই মিলেমিশে খাই।’ তার এই মন্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরপরই খাদ্য বিভাগ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে হুমায়ূন আহম্মেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাকিল আহমেদ বলেন, অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তিন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
































