ঢাকা ০২:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
'শিশু শাস্তি বিলোপ দিবস' -বিশেষ প্রতিবেদন

শাস্তি নয় ভালোবাসায় বেড়ে উঠুক শিশুরা

রীতা ভৌমিক, নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:৪২:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • / 212

ময়মনসিংহের দশ বছরের রাকিব। স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেনিতে পড়ত। ওইটুকু বয়সেই মাকে হারিয়েছে। আত্মীয়স্বজনের পরামর্শে আবার বিয়ে করেন। কিন্তু সৎ মা ঘরে আসতেই পাল্টে যায় ওর জীবন। নানা ছল ছুতোয় ওকে মারধর করে। সময় মতো খেতে দেয় না।

অন্য দিকে স্কুলে লেখাপড়ায় মনোযোগ না দেওয়ায় শিক্ষকরাও তাকে শাস্তি দেয়। দিনের পর দিন সৎ মায়ের অত্যাচার, শিক্ষকদের হাতে শাস্তি পাওয়া ওর মনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বাবাও তাকে আগের মতো ভালোবাসে না। মায়ের নালিশ শুনে বকাঝকা করে। এক পর্যায়ে অভিমানে বাড়ি ছেড়ে ট্রেনে উঠে পড়ে। ওর শেষ ঠিকানা হয় কমলাপুর রেলস্টেশন।

শুধু সৎ মা-ই নয়, অনেক বাবা-মাই সন্তানকে নানা অজুহাতে মারধর করে। আমাদের দেশের অভিভাবকদের মধ্যে একটি ধারণা কাজ করে, শাসন না করলে সন্তান ‘মানুষ’ হবে না। আর শাসন মানেই মারধর, অপমানজনক কথাবার্তা, অন্যের সঙ্গে তুলনা, চিৎকার।

অপরিচিত পরিবেশে অচেনা মানুষের সামনে শিশুকে বকাঝকা করেন। তাঁরা মনে করেন, শিশুর ভালোর জন্যই এই শাসন। অন্যদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নানারকম শাস্তি দেয়।

এর ফলে তাদের মনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এভাবেই অনেক শিশু শৈশবে শাস্তি পাওয়ায়, অনাদরে বেড়ে ওঠায় মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। জীবন অসুন্দর হয়ে ওঠে।

শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে হলে প্রত্যেক বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন, শিক্ষক, পাড়াপ্রতিবেশী সবাইকে স্নেহ, ভালোবাসা. সহযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে তুলতে হবে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত “মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে ২০২৫” এর প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের এক থেকে ১৪ বছর বয়সী ৮৬ শতাংশ শিশু জরিপ পূর্ববর্তী এক মাসের মধ্যে শারীরিক শাস্তির শিকার হয়েছে।

জাতীয় শিশু নীতিমালা-২০১১ অনুযায়ী, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুদের ওপর সব ধরনের শারীরিক ও মানসিক শাস্তিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া, সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুবান্ধব শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে হবে, যাতে শিশুরা কোনোভাবেই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার না হয়।’

বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শাস্তি নিষিদ্ধ করতে ২০১১ সালে পরিপত্র জারি করলেও এত বছর পরেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শাস্তির হার কমেনি।

শিশু আইন-২০১৩’তেও শিশুদের শারীরিক শাস্তির বিরুদ্ধে আইনি নিরাপত্তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আইনের ৭০ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, ‘যদি কেউ নিজের তত্ত্বাবধানে রেখে শিশুদের ওপর নির্যাতন, দুর্ব্যবহার, অবহেলা অথবা বরখাস্ত করে এবং এসবের কারণে যদি শিশুটির স্বাস্থ্যের কোনও ক্ষতি হয়, তাহলে সেটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য হবে।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘অভিভাবকরা বিশ্বাস করেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের সন্তানদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে দেবে। আর এটার জন্য শারীরিক শাস্তি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ধারণাটা আমাদের সংস্কৃতি থেকেই এসেছে।’

তিনি আরো বলেন, এখনও দেশের অনেক জায়গায় শিশুদের শারীরিক শাস্তি দেওয়ার হার অনেক বেশি। ওইসব জায়গায় শারীরিক শাস্তির নেতিবাচক দিক তুলে ধরে অভিভাবকদের সচেতন করতে প্রচারণা চালাতে হবে।’

শিশুরাই সবের আহবায়ক লায়লা খন্দকার বলেন, শাস্তি শিশুর মানবিক মর্যাদা ক্ষুন্ন করে। নিঃসন্দেহে এটি শিশু অধিকারের ভয়াবহ লঙ্ঘন। বাংলাদেশের মা-বাবা, শিক্ষকসহ অনেকের মাঝেই ভুল ধারণা রয়েছে যে, শাস্তি শিশুদের সঠিক আচরণ করতে শেখায়। বড়রা শাস্তি দিলে শিশুরা ভয়ের কারণে কোন বিষয় মেনে নিতে বাধ্য হয়। কিন্তু বুঝিয়ে বলা হয় না বলে তারা এর কারণ অনুধাবন করতে পারে না। তাই সুযোগ পেলেই তারা আগের আচরণের পুনরাবৃত্তি ঘটায়। একারণেই শিশুদের কিছু শেখানোর কৌশল হিসেবে শাস্তি একটি অকার্যকর পদ্ধতি।

মনোচিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল বলেন, শিশুদের শারীরিক শাস্তি দেওয়া খুবই ক্ষতিকর । দেখা গেছে, যে অভিভাবকরা সন্তানদের মারধর করে, স্কুলে যেসব শিশুদের শাস্তি দেওয়া হয়, তারা পরীক্ষায় বা শিক্ষা জীবনে অনেক খারাপ ফল করে । তাদের কাছে বাড়ি এবং স্কুল একটি ভয়ানক জায়গায় পরিণত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শাস্তির অবসান হলে শিশুর বিকাশ, শিক্ষা এবং কল্যাণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। পরিবারে সহিংসতা হ্রাস ও জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে সহায়তা করবে। ২০৩০ সালের মধ্যে সব ধরণের শিশু নির্যাতন অবসানে বিশ্বকে যদি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য ১৬.২ পূরণ করতে শিশু শাস্তি বিলোপ করতে হবে।

* সকল ক্ষেত্রে (বাড়ি, বিদ্যালয়, কর্মক্ষেত্র, বিকল্প শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রসহ সব ধরনের প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি) শিশুদের শাস্তি নিষিদ্ধ করে একটি নতুন আইন প্রণয়ন করতে হবে।

* নীতিমালা, কর্মসূচী ও জনসচেতনতামূলক প্রচারণার মাধ্যমে আইনি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা এবং এর বাস্তবায়ন যথাযথভাবে হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

* শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শাস্তি নিষিদ্ধকরণে সরকার যে পরিপত্র জারি করেছে তার বাস্তবায়ন ও যথাযথ মনিটরিং করতে হবে।

* শাস্তি না দিয়ে ইতিবাচকভাবে শিশুদের বড় করা ও শিক্ষা-প্রদান সম্পর্কে মা-বাবা এবং শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। পরিবার ও শিশুদের নিয়ে বা তাদের জন্য স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সেবা খাতে যারা কাজ করেন তাদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচীগুলোতে এ সংক্রান্ত তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা দরকার।

* শিশুদের মতামতকে সম্মান প্রদর্শন করতে হবে এবং শাস্তি বন্ধের প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে শিশুদের কথা শোনা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
শিশুরা বয়সে ছোট, কিন্তু তাদের মানবাধিকার কারো চেয়ে কম নয়। সকল ক্ষেত্রে শিশুদের শারীরিক শাস্তি আইন করে নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি একে সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য করে তুলতে হবে। শিশুদের পরিপূর্ণ মানুষের মর্যাদা দিতে হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

'শিশু শাস্তি বিলোপ দিবস' -বিশেষ প্রতিবেদন

শাস্তি নয় ভালোবাসায় বেড়ে উঠুক শিশুরা

সর্বশেষ আপডেট ০৭:৪২:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

ময়মনসিংহের দশ বছরের রাকিব। স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেনিতে পড়ত। ওইটুকু বয়সেই মাকে হারিয়েছে। আত্মীয়স্বজনের পরামর্শে আবার বিয়ে করেন। কিন্তু সৎ মা ঘরে আসতেই পাল্টে যায় ওর জীবন। নানা ছল ছুতোয় ওকে মারধর করে। সময় মতো খেতে দেয় না।

অন্য দিকে স্কুলে লেখাপড়ায় মনোযোগ না দেওয়ায় শিক্ষকরাও তাকে শাস্তি দেয়। দিনের পর দিন সৎ মায়ের অত্যাচার, শিক্ষকদের হাতে শাস্তি পাওয়া ওর মনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বাবাও তাকে আগের মতো ভালোবাসে না। মায়ের নালিশ শুনে বকাঝকা করে। এক পর্যায়ে অভিমানে বাড়ি ছেড়ে ট্রেনে উঠে পড়ে। ওর শেষ ঠিকানা হয় কমলাপুর রেলস্টেশন।

শুধু সৎ মা-ই নয়, অনেক বাবা-মাই সন্তানকে নানা অজুহাতে মারধর করে। আমাদের দেশের অভিভাবকদের মধ্যে একটি ধারণা কাজ করে, শাসন না করলে সন্তান ‘মানুষ’ হবে না। আর শাসন মানেই মারধর, অপমানজনক কথাবার্তা, অন্যের সঙ্গে তুলনা, চিৎকার।

অপরিচিত পরিবেশে অচেনা মানুষের সামনে শিশুকে বকাঝকা করেন। তাঁরা মনে করেন, শিশুর ভালোর জন্যই এই শাসন। অন্যদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নানারকম শাস্তি দেয়।

এর ফলে তাদের মনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এভাবেই অনেক শিশু শৈশবে শাস্তি পাওয়ায়, অনাদরে বেড়ে ওঠায় মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। জীবন অসুন্দর হয়ে ওঠে।

শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে হলে প্রত্যেক বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন, শিক্ষক, পাড়াপ্রতিবেশী সবাইকে স্নেহ, ভালোবাসা. সহযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে তুলতে হবে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত “মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে ২০২৫” এর প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের এক থেকে ১৪ বছর বয়সী ৮৬ শতাংশ শিশু জরিপ পূর্ববর্তী এক মাসের মধ্যে শারীরিক শাস্তির শিকার হয়েছে।

জাতীয় শিশু নীতিমালা-২০১১ অনুযায়ী, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুদের ওপর সব ধরনের শারীরিক ও মানসিক শাস্তিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া, সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুবান্ধব শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে হবে, যাতে শিশুরা কোনোভাবেই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার না হয়।’

বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শাস্তি নিষিদ্ধ করতে ২০১১ সালে পরিপত্র জারি করলেও এত বছর পরেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শাস্তির হার কমেনি।

শিশু আইন-২০১৩’তেও শিশুদের শারীরিক শাস্তির বিরুদ্ধে আইনি নিরাপত্তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আইনের ৭০ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, ‘যদি কেউ নিজের তত্ত্বাবধানে রেখে শিশুদের ওপর নির্যাতন, দুর্ব্যবহার, অবহেলা অথবা বরখাস্ত করে এবং এসবের কারণে যদি শিশুটির স্বাস্থ্যের কোনও ক্ষতি হয়, তাহলে সেটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য হবে।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘অভিভাবকরা বিশ্বাস করেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের সন্তানদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে দেবে। আর এটার জন্য শারীরিক শাস্তি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ধারণাটা আমাদের সংস্কৃতি থেকেই এসেছে।’

তিনি আরো বলেন, এখনও দেশের অনেক জায়গায় শিশুদের শারীরিক শাস্তি দেওয়ার হার অনেক বেশি। ওইসব জায়গায় শারীরিক শাস্তির নেতিবাচক দিক তুলে ধরে অভিভাবকদের সচেতন করতে প্রচারণা চালাতে হবে।’

শিশুরাই সবের আহবায়ক লায়লা খন্দকার বলেন, শাস্তি শিশুর মানবিক মর্যাদা ক্ষুন্ন করে। নিঃসন্দেহে এটি শিশু অধিকারের ভয়াবহ লঙ্ঘন। বাংলাদেশের মা-বাবা, শিক্ষকসহ অনেকের মাঝেই ভুল ধারণা রয়েছে যে, শাস্তি শিশুদের সঠিক আচরণ করতে শেখায়। বড়রা শাস্তি দিলে শিশুরা ভয়ের কারণে কোন বিষয় মেনে নিতে বাধ্য হয়। কিন্তু বুঝিয়ে বলা হয় না বলে তারা এর কারণ অনুধাবন করতে পারে না। তাই সুযোগ পেলেই তারা আগের আচরণের পুনরাবৃত্তি ঘটায়। একারণেই শিশুদের কিছু শেখানোর কৌশল হিসেবে শাস্তি একটি অকার্যকর পদ্ধতি।

মনোচিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল বলেন, শিশুদের শারীরিক শাস্তি দেওয়া খুবই ক্ষতিকর । দেখা গেছে, যে অভিভাবকরা সন্তানদের মারধর করে, স্কুলে যেসব শিশুদের শাস্তি দেওয়া হয়, তারা পরীক্ষায় বা শিক্ষা জীবনে অনেক খারাপ ফল করে । তাদের কাছে বাড়ি এবং স্কুল একটি ভয়ানক জায়গায় পরিণত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শাস্তির অবসান হলে শিশুর বিকাশ, শিক্ষা এবং কল্যাণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। পরিবারে সহিংসতা হ্রাস ও জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে সহায়তা করবে। ২০৩০ সালের মধ্যে সব ধরণের শিশু নির্যাতন অবসানে বিশ্বকে যদি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য ১৬.২ পূরণ করতে শিশু শাস্তি বিলোপ করতে হবে।

* সকল ক্ষেত্রে (বাড়ি, বিদ্যালয়, কর্মক্ষেত্র, বিকল্প শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রসহ সব ধরনের প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি) শিশুদের শাস্তি নিষিদ্ধ করে একটি নতুন আইন প্রণয়ন করতে হবে।

* নীতিমালা, কর্মসূচী ও জনসচেতনতামূলক প্রচারণার মাধ্যমে আইনি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা এবং এর বাস্তবায়ন যথাযথভাবে হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

* শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শাস্তি নিষিদ্ধকরণে সরকার যে পরিপত্র জারি করেছে তার বাস্তবায়ন ও যথাযথ মনিটরিং করতে হবে।

* শাস্তি না দিয়ে ইতিবাচকভাবে শিশুদের বড় করা ও শিক্ষা-প্রদান সম্পর্কে মা-বাবা এবং শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। পরিবার ও শিশুদের নিয়ে বা তাদের জন্য স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সেবা খাতে যারা কাজ করেন তাদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচীগুলোতে এ সংক্রান্ত তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা দরকার।

* শিশুদের মতামতকে সম্মান প্রদর্শন করতে হবে এবং শাস্তি বন্ধের প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে শিশুদের কথা শোনা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
শিশুরা বয়সে ছোট, কিন্তু তাদের মানবাধিকার কারো চেয়ে কম নয়। সকল ক্ষেত্রে শিশুদের শারীরিক শাস্তি আইন করে নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি একে সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য করে তুলতে হবে। শিশুদের পরিপূর্ণ মানুষের মর্যাদা দিতে হবে।