শাপলা চত্বর মামলায় নতুন ধাপ
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৩৭:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
- / 44
২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ। রোববার (১ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল শুনানি গ্রহণ করবেন। এর আগে গত ৭ অক্টোবর শুনানির দিন ধার্য থাকলেও আসামিপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তা পিছিয়ে ১ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়।
প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, আজ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করবে রাষ্ট্রপক্ষ। এর আগে গত ২৭ জুলাই ট্রাইব্যুনাল-২ প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং কারাগারে থাকা আসামিদের আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন।
মামলার ৪১ আসামির মধ্যে ১১ জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাংবাদিক ফারজানা রুপা।
শেখ হাসিনাসহ বাকি ৩০ আসামি পলাতক রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মৃণাল কান্তি দাস, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাবেক যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী এবং সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ।
এ ছাড়া পলাতক আসামিদের তালিকায় রয়েছেন গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ডা. ইমরান এইচ সরকার, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী ও বেনজীর আহমেদ, সাবেক র্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, মাহবুব হোসেন ও মনিরুল ইসলাম।
পলাতক অন্য আসামিরা হলেন তৎকালীন ডিএমপির ডিসি মো. আনোয়ার হোসেন, ডিসি আশরাফুজ্জামান, এডিসি এসএম মেহেদী হাসান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, বিপ্লব কুমার সরকার ও সৈয়দ নুরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি মো. আসাদুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম শিবলী নোমান এবং মতিঝিল থানার তৎকালীন ওসি বিএম ফরমান আলী।
গত ৩ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনাল-২ পলাতক ৩০ আসামিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় গিয়েও সন্ধান না পাওয়ায় নন-এক্সিকিউশন রিপোর্ট (এনইআর) দাখিল করে। পরে ১৬ সেপ্টেম্বর আত্মসমর্পণে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের পলাতক ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় খরচে তাদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলায় প্রসিকিউশন দুটি অভিযোগ এনেছে। প্রথম অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে ৩২ জনকে হত্যার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ জনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিবরণ রয়েছে।

























