ঢাকা ০৫:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রূপালী ব্যাংক: অভিযোগের পরই প্রশাসনিক খড়গ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:১৯:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
  • / 44

রূপালী ব্যাংক পিএলসি-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ওয়াহিদুল ইসলাম। (ফাইল ফটো)

রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক পিএলসি-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ওয়াহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অর্থ মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির তিন শীর্ষ নেতাকে তাৎক্ষণিক বদলির অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট নেতাদের দাবি, তাদের উত্থাপিত অভিযোগের জের ধরেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, গত ৪ জুন রূপালী ব্যাংক পিএলসি জিয়া পরিষদের পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়। স্মারকলিপিতে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ওয়াহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আনা হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অভিযোগগুলোর কোনো ব্যাখ্যা বা খণ্ডন না দিয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি সংগঠনটির।

জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ তিন নেতা।
জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ তিন নেতা।

অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি জারি করা একটি বদলি আদেশে জিয়া পরিষদ, রূপালী ব্যাংক পিএলসি কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক মো. গোলাম সরোয়ারকে ফরিদপুর, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এএসএম নিয়াজ মোশের্দকে ময়মনসিংহ এবং সদস্য সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীকে কুমিল্লায় বদলি করা হয়েছে।

সংগঠনটির নেতাদের অভিযোগ, একই আদেশে অন্তর্ভুক্ত অন্য ৮ কর্মকর্তাকে আগামী ১৮ জুনের মধ্যে ছাড়পত্র গ্রহণের সুযোগ দেওয়া হলেও জিয়া পরিষদের এই তিন শীর্ষ নেতার ক্ষেত্রে ‘তাৎক্ষণিক কার্যকর’ বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা এটিকে প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

অন্যদিকে, একই বদলি আদেশে আওয়ামীপন্থী সংগঠন স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদের ময়মনসিংহ অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক মীর আবু নাসের জয়কে মতিঝিল কর্পোরেট শাখায় পদায়ন করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

জিয়া পরিষদের স্মারকলিপিতে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল- ব্যাংককে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার লোকসানের মুখে ঠেলে দেওয়া, জুলাই হত্যা মামলার আসামি হওয়া, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্বে থাকা, ফ্যাসিবাদকে অর্থায়নের অভিযোগ, ফ্যাসিবাদবিরোধী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দূরবর্তী স্থানে বদলি ও পদোন্নতি বঞ্চিত করা, রূপালী ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমিতে অনিয়ম ও দুর্নীতি, ক্রীড়া পরিষদের নামে অর্থ উত্তোলন এবং আওয়ামী লীগপন্থী কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের অভিযোগ।

স্মারকলিপিতে কাজী ওয়াহিদুল ইসলামকে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে অপসারণের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে গত ১৫ বছরে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের জন্য পূর্ণ অবসর সুবিধা নিশ্চিতকরণ, ব্যাংকের প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

জিয়া পরিষদের নেতাদের দাবি, স্মারকলিপি ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর প্রতিক্রিয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এই বদলির আদেশ জারি করেছেন। তারা বিষয়টিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে বাধা হিসেবে উল্লেখ করে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তবে এ বিষয়ে রূপালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া স্মারকলিপিতে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ওয়াহিদুল ইসলামের বক্তব্যও জানা সম্ভব হয়নি।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

রূপালী ব্যাংক: অভিযোগের পরই প্রশাসনিক খড়গ

সর্বশেষ আপডেট ০৩:১৯:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক পিএলসি-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ওয়াহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অর্থ মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির তিন শীর্ষ নেতাকে তাৎক্ষণিক বদলির অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট নেতাদের দাবি, তাদের উত্থাপিত অভিযোগের জের ধরেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, গত ৪ জুন রূপালী ব্যাংক পিএলসি জিয়া পরিষদের পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়। স্মারকলিপিতে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ওয়াহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আনা হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অভিযোগগুলোর কোনো ব্যাখ্যা বা খণ্ডন না দিয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি সংগঠনটির।

জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ তিন নেতা।
জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ তিন নেতা।

অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি জারি করা একটি বদলি আদেশে জিয়া পরিষদ, রূপালী ব্যাংক পিএলসি কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক মো. গোলাম সরোয়ারকে ফরিদপুর, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এএসএম নিয়াজ মোশের্দকে ময়মনসিংহ এবং সদস্য সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীকে কুমিল্লায় বদলি করা হয়েছে।

সংগঠনটির নেতাদের অভিযোগ, একই আদেশে অন্তর্ভুক্ত অন্য ৮ কর্মকর্তাকে আগামী ১৮ জুনের মধ্যে ছাড়পত্র গ্রহণের সুযোগ দেওয়া হলেও জিয়া পরিষদের এই তিন শীর্ষ নেতার ক্ষেত্রে ‘তাৎক্ষণিক কার্যকর’ বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা এটিকে প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

অন্যদিকে, একই বদলি আদেশে আওয়ামীপন্থী সংগঠন স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদের ময়মনসিংহ অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক মীর আবু নাসের জয়কে মতিঝিল কর্পোরেট শাখায় পদায়ন করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

জিয়া পরিষদের স্মারকলিপিতে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল- ব্যাংককে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার লোকসানের মুখে ঠেলে দেওয়া, জুলাই হত্যা মামলার আসামি হওয়া, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্বে থাকা, ফ্যাসিবাদকে অর্থায়নের অভিযোগ, ফ্যাসিবাদবিরোধী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দূরবর্তী স্থানে বদলি ও পদোন্নতি বঞ্চিত করা, রূপালী ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমিতে অনিয়ম ও দুর্নীতি, ক্রীড়া পরিষদের নামে অর্থ উত্তোলন এবং আওয়ামী লীগপন্থী কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের অভিযোগ।

স্মারকলিপিতে কাজী ওয়াহিদুল ইসলামকে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে অপসারণের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে গত ১৫ বছরে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের জন্য পূর্ণ অবসর সুবিধা নিশ্চিতকরণ, ব্যাংকের প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

জিয়া পরিষদের নেতাদের দাবি, স্মারকলিপি ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর প্রতিক্রিয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এই বদলির আদেশ জারি করেছেন। তারা বিষয়টিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে বাধা হিসেবে উল্লেখ করে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তবে এ বিষয়ে রূপালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া স্মারকলিপিতে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ওয়াহিদুল ইসলামের বক্তব্যও জানা সম্ভব হয়নি।