নবম পে-স্কেলে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন কত?
- সর্বশেষ আপডেট ০৪:০৮:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
- / 22
উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়তে থাকায় সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো ঘিরে স্বস্তির প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও উচ্চপর্যায়ের সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি জুনের মধ্যেই নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই নতুন কাঠামো কার্যকর করার লক্ষ্য ধরা হয়েছে। আসন্ন বাজেটে এর জন্য প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ রাখার প্রস্তাবও আলোচনায় আছে।
প্রস্তাবিত কাঠামোতে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল থাকলেও বেতনের অঙ্কে বড় ধরনের সংশোধনের সুপারিশ এসেছে। সর্বনিম্ন গ্রেডে মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকায় নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ গ্রেডে ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে।
সরকার একসঙ্গে পুরো বৃদ্ধি না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পথে হাঁটতে পারে বলেও জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে ১ জুলাই থেকে মূল বেতন প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বাকি সমন্বয় আগামী দুই বছরে ধীরে ধীরে সম্পন্ন করার কথা বিবেচনায় আছে, যাতে রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের ওপর চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
এদিকে পেনশনভোগীদের জন্যও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। প্রায় ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী নতুন কাঠামোর আওতায় আসতে পারেন। কিছু ক্ষেত্রে পেনশন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে, যা প্রবীণদের জন্য উল্লেখযোগ্য আর্থিক সহায়তা হতে পারে।
তবে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষও দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, বর্তমান মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় দ্রুত এবং এক ধাপে সমন্বয় করাই বেশি যৌক্তিক হতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে বাজারে ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে এবং ভোগব্যয়ও বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে একই সঙ্গে সরকারি ব্যয় বাড়ার ঝুঁকি থেকে যাবে, যা বাজেট ব্যবস্থাপনায় নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।
এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সরকারি ঘোষণা আসেনি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বাজেট এবং গেজেট প্রকাশের দিকেই নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।































