ববির পুলিশ ফাঁড়ি যেনো ভুতুড়ে ঘর
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৫৯:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
- / 209
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ক্যাম্পাসে অবস্থিত পুলিশ ফাঁড়িতে দীর্ঘদিন ধরে কোনো পুলিশ সদস্য না থাকায় এটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংলগ্ন ঢাকা-ভোলা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই ফাঁড়িতে নিয়মিত টহল বা তদারকি না থাকায় নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, পুলিশ সদস্য না থাকায় ফাঁড়িটি এখন অনেকটা “ভূতুড়ে ঘর”- এর মতো হয়ে গেছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ চলাচল ও নানা বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোনো নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি নেই।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটভূমি পরিবর্তনের পর থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পুলিশ ফাঁড়িতে কোনো সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন না।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে পুলিশ না থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন অনুষ্ঠান, কনসার্ট বা বড় আয়োজনের সময় বাইরের লোকজন ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে তা সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফয়সল বলেন, “৫ আগস্টের পর থেকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ ফাঁড়িতে কোনো পুলিশ সদস্য নেই, যা খুবই উদ্বেগজনক। ক্যাম্পাসে কোনো সমস্যা বা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হলে প্রশাসনের একার পক্ষে তা সামাল দেওয়া কঠিন। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত পুলিশ মোতায়েন করা জরুরি।”
এদিকে বুধবার (১২ মার্চ) রাত ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেট এলাকা থেকে সাতজন শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সেনাবাহিনী তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে ভোর ৪টার দিকে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের দাবি, কোনো কারণ ছাড়াই তাদের তুলে নেওয়া হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদের সময় খারাপ আচরণ করা হয়। তাদের ভাষ্য, পরিচয়পত্র দেখানোর পরও তাদের কথা বিশ্বাস করা হয়নি।
একজন শিক্ষার্থী বলেন, “ভোরের দিকে আমাদের জিরো পয়েন্ট এলাকায় ছেড়ে দেওয়া হয়। তখন আমরা একটি ভ্যানে উঠতে চাইলে তারা হেঁটে যেতে বলে। বিষয়টি আমাদের জন্য ভীতিকর ছিল।”
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী হাসান মাহবুব বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ ফাঁড়ি সক্রিয় থাকলে হয়তো এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না। আমরা হলের ডাইনিং বন্ধ থাকায় বাইরে খেতে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের কথা তারা মানতে চায়নি।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে ক্যাম্প কমান্ডার মেজর আব্দুল গণি বলেন, “রাত দুইটার সময় তারা বাইরে ছিল। তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয় কেন বাইরে আছে। তারা চা খেতে বের হওয়ার কথা বললেও তখন কোনো দোকান খোলা ছিল না। আইডি কার্ড দেখতে চাওয়া হলে দুইজন দেখাতে পেরেছিল। পরে তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছিল। তবে তাদের ওপর কোনো ধরনের লাঠিচার্জ করা হয়নি।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর তিনি বলেছিলেন, ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সে সময় ফোর্স সংকটের কারণে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি বলেও উল্লেখ করেছিলেন তিনি।
তবে এতদিন পার হলেও এখনও পর্যন্ত পুলিশ ফাঁড়িতে সদস্য মোতায়েন করা হয়নি। ফলে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন শিক্ষার্থীরা।































