ঢাকা ০২:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্লোরিডায় নিহত বৃষ্টির প্রথম জানাজা ৬ মে

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:৫৪:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬
  • / 58

যুক্তরাষ্ট্রে হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ দেশে পাঠাতে দূতাবাস তৎপর; টাম্পায় ৬ মে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিকে ঘিরে শোকের আবহ এখনও কাটেনি। এর মধ্যেই তার মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া এগোচ্ছে, যদিও সময়সীমা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।

ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

আগামী ৬ মে, বুধবার, ফ্লোরিডার টাম্পায় দুপুর ২টায় বৃষ্টির প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা সেখানে উপস্থিত থাকবেন—যা প্রবাসে এক ধরনের সম্মিলিত বিদায়ের মুহূর্ত হয়ে উঠতে পারে।

দূতাবাস সূত্র বলছে, মরদেহ দেশে পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়াটি ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাস তদারকি করছে, আর মাঠপর্যায়ে সহায়তা দিচ্ছে মায়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল।

কনসাল জেনারেল সেহেলী সাবরীন উল্লেখ করেছেন, যত দ্রুত সম্ভব মরদেহ দেশে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যদিও প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ধাপগুলো এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

একই ঘটনায় নিহত আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জাহিদ লিমনের মরদেহ ইতোমধ্যে দেশে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় সময় ২ মে রাতে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ৪ মে সকালে সেটি ঢাকায় পৌঁছানোর কথা।

ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপট কিছুটা জটিল ও উদ্বেগজনক। গত ১৬ এপ্রিল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় অধ্যয়নরত দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী—জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি—নিখোঁজ হন। পরদিন তাদের এক বন্ধু বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানান, যা পরে তদন্তের সূত্রপাত ঘটায়।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে লিমনের রুমমেট, মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তের এক পর্যায়ে ২৪ এপ্রিল ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকার কাছ থেকে কালো ব্যাগে রাখা লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্ত নথিতে বলা হয়েছে, মরদেহে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল—যা ঘটনাটির নৃশংসতা স্পষ্ট করে।

পরবর্তী সময়ে, ২৬ এপ্রিল কাছাকাছি একটি জলাশয় থেকে খণ্ডিত দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। কিছুদিনের যাচাই-বাছাই শেষে ১ মে পুলিশ সেটিকে বৃষ্টির মরদেহ হিসেবে শনাক্ত করে এবং পরিবারকে বিষয়টি জানায়।

এ ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দুটি ফার্স্ট ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তদন্ত এখনও চলমান, এবং পুরো ঘটনার পেছনের কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি—যা স্বাভাবিকভাবেই আরও প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ফ্লোরিডায় নিহত বৃষ্টির প্রথম জানাজা ৬ মে

সর্বশেষ আপডেট ০৩:৫৪:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ দেশে পাঠাতে দূতাবাস তৎপর; টাম্পায় ৬ মে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিকে ঘিরে শোকের আবহ এখনও কাটেনি। এর মধ্যেই তার মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া এগোচ্ছে, যদিও সময়সীমা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।

ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

আগামী ৬ মে, বুধবার, ফ্লোরিডার টাম্পায় দুপুর ২টায় বৃষ্টির প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা সেখানে উপস্থিত থাকবেন—যা প্রবাসে এক ধরনের সম্মিলিত বিদায়ের মুহূর্ত হয়ে উঠতে পারে।

দূতাবাস সূত্র বলছে, মরদেহ দেশে পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়াটি ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাস তদারকি করছে, আর মাঠপর্যায়ে সহায়তা দিচ্ছে মায়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল।

কনসাল জেনারেল সেহেলী সাবরীন উল্লেখ করেছেন, যত দ্রুত সম্ভব মরদেহ দেশে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যদিও প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ধাপগুলো এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

একই ঘটনায় নিহত আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জাহিদ লিমনের মরদেহ ইতোমধ্যে দেশে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় সময় ২ মে রাতে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার মরদেহ ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ৪ মে সকালে সেটি ঢাকায় পৌঁছানোর কথা।

ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপট কিছুটা জটিল ও উদ্বেগজনক। গত ১৬ এপ্রিল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় অধ্যয়নরত দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী—জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি—নিখোঁজ হন। পরদিন তাদের এক বন্ধু বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানান, যা পরে তদন্তের সূত্রপাত ঘটায়।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে লিমনের রুমমেট, মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তের এক পর্যায়ে ২৪ এপ্রিল ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকার কাছ থেকে কালো ব্যাগে রাখা লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্ত নথিতে বলা হয়েছে, মরদেহে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল—যা ঘটনাটির নৃশংসতা স্পষ্ট করে।

পরবর্তী সময়ে, ২৬ এপ্রিল কাছাকাছি একটি জলাশয় থেকে খণ্ডিত দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। কিছুদিনের যাচাই-বাছাই শেষে ১ মে পুলিশ সেটিকে বৃষ্টির মরদেহ হিসেবে শনাক্ত করে এবং পরিবারকে বিষয়টি জানায়।

এ ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দুটি ফার্স্ট ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তদন্ত এখনও চলমান, এবং পুরো ঘটনার পেছনের কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি—যা স্বাভাবিকভাবেই আরও প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।