পাকা সড়ক কেটে নির্মাণ হচ্ছে তিন কালভার্ট
- সর্বশেষ আপডেট ০১:২৫:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
- / 18
সড়কের দুই পাশে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। আশপাশে দৃশ্যমান কোনো খাল, ছড়া কিংবা পানির প্রবাহও নেই। এমন স্থানে বিটুমিনের পাকা সড়ক কেটে নির্মাণ করা হচ্ছে তিনটি কালভার্ট। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এসব স্থানে কখনো পানি প্রবাহিত হতে দেখেননি তাঁরা। অথচ পাশেই সীমান্ত ছড়ার পানি নিষ্কাশনের জন্য আগে থেকেই কালভার্ট রয়েছে। এ অবস্থায় নতুন করে কালভার্ট নির্মাণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার ট্যাকেরঘাট থেকে কড়ইগড়া বাজার পর্যন্ত সীমান্ত সড়ক সংস্কারকাজে এমন চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন এ প্রকল্পে পাঁচটি সেতু ও ১০টি কালভার্ট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি স্থানে নতুন করে কালভার্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২ কোটি ৯৫ লাখ ২৮ হাজার ৩৩১ টাকা।
প্রকল্পটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স নুর কনস্ট্রাকশন ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ও প্রয়োজন যথাযথভাবে বিবেচনা না করেই পাকা সড়ক কেটে নতুন কালভার্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। তাঁদের আশঙ্কা, বিদ্যমান কালভার্ট সংস্কার না করে নতুন করে অবকাঠামো নির্মাণে সরকারি অর্থের অপচয় হতে পারে। এ ছাড়া সড়ক প্রশস্ত করার সময় রেকর্ডভুক্ত ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির অংশ সড়কের আওতায় নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা। এ নিয়ে জমির মালিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, ট্যাকেরঘাট থেকে কড়ইগড়ামুখী সড়কের বিভিন্ন অংশে সংস্কারকাজ চলছে। রাজাই গ্রামের এলাকায় সড়কের দুই পাশে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি রয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকটি স্থানে বিটুমিনের আস্তরণ কেটে বড় গর্ত করা হয়েছে। কোথাও কালভার্ট নির্মাণের জন্য মাটি খোঁড়া হয়েছে, আবার কোথাও সড়কের একাংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, কালভার্টগুলোর সামনে ও পেছনে খাল খনন করা হবে, যাতে সেগুলোর নিচ দিয়ে পানি চলাচল করতে পারে।
সীমান্তবর্তী চানপুর গ্রামের বাসিন্দা দীন ইসলাম বলেন, যেসব স্থানে নতুন করে কালভার্ট নির্মাণ করা হচ্ছে, সেসব জায়গা দিয়ে কখনো পানি চলাচল করতে দেখেননি তাঁরা। পাশের ছড়া ও পানি নিষ্কাশনের জন্য আগে থেকেই কালভার্ট রয়েছে। তাই নতুন করে এসব কালভার্ট নির্মাণের যৌক্তিকতা তাঁদের কাছে স্পষ্ট নয়।
রাজাই গ্রামের বাসিন্দা মো. জহুর আলী বলেন, নতুন কালভার্ট নির্মাণের স্থানটি তুলনামূলক উঁচু। সেখানে আগে মানুষের বসতিও ছিল। ওই স্থান দিয়ে কখনো পানি প্রবাহিত হতে দেখেননি তাঁরা। এ ছাড়া কালভার্ট নির্মাণের আগে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা পরামর্শ করা হয়নি।
উত্তর বড়দল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কফিল উদ্দিন বলেন, কড়ইগড়া-ট্যাকেরঘাট সড়কটি পাকিস্তান আমলে নির্মিত। সীমান্ত সড়ক উন্নয়নের অংশ হিসেবে এটি প্রশস্ত করার উদ্যোগ ইতিবাচক। তবে সড়ক নির্মাণের কারণে কারও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণ বা ব্যবহারের প্রয়োজন হলে জমির মালিকদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
তাহিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, কড়ইগড়া-ট্যাকেরঘাট সড়কটি সীমান্ত সড়ক হিসেবে বিভিন্ন প্যাকেজে নির্মাণ করা হচ্ছে। কাজ শেষ হলে নেত্রকোনা থেকে সীমান্তপথে সুনামগঞ্জের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হবে। বর্তমানে সড়কটির প্রস্থ ১২ ফুট। নির্মাণকাজ শেষে শোল্ডারসহ এর প্রস্থ ২৪ ফুট হবে। তবে সরকারি নকশায় সড়কের জন্য ৪৮ ফুট জায়গা নির্ধারিত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী সড়কের প্রায় ২০ শতাংশ স্থানে পানি নিষ্কাশনের জন্য ফাঁকা জায়গা বা গ্যাপ রাখার ব্যবস্থা রয়েছে।
সুনামগঞ্জ এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, সরকারি নকশা অনুযায়ী সড়কের জন্য ৪৮ ফুট জায়গা রয়েছে। ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি সড়কের আওতায় পড়েছে বলে যাঁরা দাবি করছেন, তাঁদের কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে।
কালভার্ট নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তিনি বলেন, বর্তমানে এসব স্থানে পানির প্রবাহ দৃশ্যমান না হলেও বর্ষায় আকস্মিক পাহাড়ি ঢল নামলে পানি চলাচলের পথ প্রয়োজন হতে পারে। পর্যাপ্ত কালভার্ট না থাকলে পানির চাপে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।































